প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে, এবং নতুন করে আটজন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এই অবস্থার ফলে রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি জোরদার করেছে। একই সময়ে, প্রতিবেশি রাজ্য ওড়িশায় মৃত্যুর ঘটনায় সরকার সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায়, জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সি আরেক ব্যক্তিও মারা যান। উক্ত ঘটনার পর, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আক্রান্ত এলাকার জন্য বিশেষ ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মুম্বাইতে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে গত রোববার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের পরিস্থিতির কারণে, ওড়িশা সরকার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জেলাগুলোতে (মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম এবং নবরঙ্গপুর) লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও ওড়িশায় বর্তমানে কোনো পজিটিভ কেস নেই, তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই কেন? এর উত্তর দিতে গিয়ে ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ড. দিলীপ গুড়ে মন্তব্য করেন, ‘কাদাপ্পা এলাকায় যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা দুজনেই ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনিজনিত জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের কারণে এই ধরনের রোগীদের আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে। তাই এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ভারতীয় নাগরিকের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং ব্যাপক টিকাদানের ফলে শক্তিশালী ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে, দেশজুড়ে বড় ধরনের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল জানান, ‘কোভিড এখন এন্ডেমিক (স্থানীয় রোগ) পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে মাঝে মধ্যে ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। আমাদের কাছে নজরদারি ও জিনোমিক পরীক্ষার মতো সব অস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। তাই বিধিনিষেধের ভয় না পেয়ে আমাদের কেবল সতর্ক থাকতে হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন