০৭:৫৩ পি.এম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের একজন টিকটকারসহ দুই যুবককে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, কারণ তারা একটি তরুণীকে নিয়ে টিকটিকে অশালীন ভিডিও প্রকাশ করে এবং রাতের বেলা দেখা করতে গিয়েছিল। এই ঘটনা হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কিছু লোকের দ্বারা ঘটানো হয়। সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে, এই ঘটনা ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামে ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁচি দিয়ে তাদের চুল কাটা হচ্ছিল। চুল কাটার শিকার ওই দুই যুবক হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সালদিঘা গ্রামের (টিকটকার হিসেবে পরিচিত) লিটন মিয়া এবং একই গ্রামের আরেক যুবক লেবু মিয়া। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং লালাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নোমান হোসেন বলেছেন, গ্রামের এক তরুণীকে নিয়ে টিকটকে অশালীন ভিডিও প্রকাশ ও গত রাতে দেখা করতে আসায় গ্রামের কিছু লোক ওই দুই যুবককে আটক করে এবং তাদের চুল কেটে দিয়েছে। তবে, জানান যে এভাবে চুল কাটার এবং ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করার কাজটা উচিত হয়নি। এই বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য লিটন মিয়া এবং লেবু মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে, ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে টিকটকার লিটন মিয়া বলেছেন, লালাপুর গ্রামের কিছু যুবককে টিকটকে ভাইরাল না করায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাদের সঙ্গে এমন কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো মেয়ের সঙ্গে তার খারাপ সম্পর্ক নেই। যদি কোনো মেয়ের সঙ্গে এমন কিছু ঘটত, তাহলে কেন মেয়েকে সামনে আনা হয়নি? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালদিঘা গ্রামের টিকটকার লিটন মিয়া বিভিন্ন সমালোচিত ভিডিও টিকটকে প্রচার করেন। গত কয়েক দিন আগে, নবীগঞ্জের লালাপুর গ্রামের এক তরুণীর মুখের মাস্ক জোর করে খুলে ভিডিও প্রচার করেছিলেন তিনি। এরপর, ওই ভিডিওটি তরুণীর আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তাদের অনুরোধে ভিডিওটি মুছে ফেলেন। কিন্তু পরে সোমবার বিকেলেও ওই তরুণীকে নিয়ে টিকটকের জন্য ভিডিও তৈরি করেন লিটন মিয়া। এরপর রাতে তরুণীর বাড়িতে দেখা করতে যান তিনি ও লেবু মিয়া। এ সময়ে গ্রামের কয়েক যুবক লিটন মিয়া ও লেবু মিয়াকে আটক করে। পরে তাদের আব্দুল হারিছের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়। চুল কাটার সময় লেবু মিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘চাচা আমি এরকম কিছুত নাই, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’ চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি ফেসবুক চালান না, এবং এমন কোনো অভিযোগের কথা আগে থেকে কেউ তার কাছে জানায়নি। তবে শুনেছেন যে ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও মানুষ দেখছে। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ডেকে নিয়ে জোর করে চুল কাটা বা অপদস্থ করার কোনো ঘটনা তাদের নজরে পড়েনি। এমন ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগও করেনি এবং ঘটনাস্থলটি অন্য জেলায়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাদের কাছে অবগত ছিল না এবং কোনো অভিযোগ পাননি। তবে ঘটনাটির খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন