০৯:৪৫ পি.এম
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মেটার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি আরও তদন্ত করার জন্য এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোজাফফরের সরাসরি মেসেঞ্জারে কয়েকজনের সঙ্গে কথার তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্যের চাহিদা জানানো হয়েছে। এছাড়াও জানা যায়, তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন। তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, তার মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
মেটার কাছে চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে, গ্রাহকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের বিবরণ, সব নিবন্ধিত ও পূর্ববর্তী ইমেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর, টাইমস্ট্যাম্পসহ সম্পূর্ণ লগইন ইতিহাস, অ্যাকাউন্টটি অ্যাক্সেস করার জন্য ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেস ও ডিভাইস, ব্রাউজারের তথ্য, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মুছে ফেলা কথোপকথন সহ সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সেনা বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার লাশ গায়েব করার পেছনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেনের ভূমিকা ছিল। সে সময় তিনি সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদ মর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর ২৩ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে তাকে দুইদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার নির্দেশও দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোজাফফর এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ও তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযুক্ত ছিলেন। সেই একই মামলায় মোজাফফরকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সেনা আইনে তার বিচার হবে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা আছে, সেটিই আমরা দেখবো। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা হবে। তবে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধর করলেন বিএনপি নেতা তোতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন