প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান নতুন করে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সময়কে অস্ত্রভান্ডার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজে লাগানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানকে নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান অথবা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করার জন্য। তেহরান বলছে, ওমানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো বিরতি দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত এবং বর্তমানে স্থগিত থাকা সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন যে, বিদ্যমান অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুনর্গঠন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে, নতুন প্রজন্মের ড্রোন ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে।
গত মাসে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। তার বক্তব্য হলো, যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বেড়েছে। তবে তিনি এ সম্পর্কে কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।
একই ধরনের দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেন মহিব্বি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতাও উন্নত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি তাদের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা কিংবা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, গত জুনে কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, ইরানের যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ড্রোনের প্রায় ৪০ শতাংশ মজুত অক্ষত রয়েছে। এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা হাজারো বিমান ও ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় অভিযান পরিচালনা করেছে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হলেও আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত এক মাসে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯, এমকিউ-১ ও 'লুকাস' ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাধ্যমে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রথম চালান পেতে পারে। তবে চীন ও পাকিস্তান এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং ইরান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসেন কানানি মোকাদ্দম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা আদৌ ধ্বংস করতে পারেনি। তার দাবি, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
পাশাপাশি, মাটির নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার বা 'আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি'তে বিপুল অস্ত্রভান্ডার রয়েছে এবং সেগুলোর নতুন অংশ ধীরে ধীরে অপারেশনাল ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। মোকাদ্দম বলেন, এই সক্ষমতার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দফা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি স্বীকার করেনি।
এদিকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। লোহিত সাগরে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
কুয়েতে বিস্ফোরণের পর কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইরানি ড্রোনের মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ তা নিশ্চিত করেনি। এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলা এবং জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন