ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, তিন গুণ হয়েছে ড্রোন উৎপাদন


যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, তিন গুণ হয়েছে ড্রোন উৎপাদন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান নতুন করে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সময়কে অস্ত্রভান্ডার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজে লাগানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানকে নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান অথবা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করার জন্য। তেহরান বলছে, ওমানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো বিরতি দেওয়া হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত এবং বর্তমানে স্থগিত থাকা সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

তিনি দাবি করেন যে, বিদ্যমান অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুনর্গঠন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে, নতুন প্রজন্মের ড্রোন ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে।

গত মাসে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। তার বক্তব্য হলো, যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বেড়েছে। তবে তিনি এ সম্পর্কে কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।

একই ধরনের দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেন মহিব্বি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতাও উন্নত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি তাদের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা কিংবা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

অন্যদিকে, গত জুনে কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, ইরানের যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ড্রোনের প্রায় ৪০ শতাংশ মজুত অক্ষত রয়েছে। এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা হাজারো বিমান ও ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় অভিযান পরিচালনা করেছে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হলেও আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত এক মাসে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯, এমকিউ-১ ও 'লুকাস' ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাধ্যমে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রথম চালান পেতে পারে। তবে চীন ও পাকিস্তান এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং ইরান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসেন কানানি মোকাদ্দম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা আদৌ ধ্বংস করতে পারেনি। তার দাবি, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

পাশাপাশি, মাটির নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার বা 'আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি'তে বিপুল অস্ত্রভান্ডার রয়েছে এবং সেগুলোর নতুন অংশ ধীরে ধীরে অপারেশনাল ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। মোকাদ্দম বলেন, এই সক্ষমতার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দফা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি স্বীকার করেনি।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

এদিকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। লোহিত সাগরে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

কুয়েতে বিস্ফোরণের পর কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইরানি ড্রোনের মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ তা নিশ্চিত করেনি। এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলা এবং জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই আর কারও থাকবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


‘আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই আর কারও থাকবে না’

স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর যদি আমরা বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। তিনি জানান, যদি আমরা আয়নাঘরে যাই, যেখানে তার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, কিন্তু তারা সেখানে থেকেছে। তার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। তিনি বললেন, ভাই, কেন ফেরত আসলেন? সে বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস। বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারওই থাকবে না। আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, যারা স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করেছে কিন্তু কোনোদিন মুক্তি পায়নি। মহামতি লেনিন বলেছিলেন, দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। কিন্তু সেখানে আর দিন এবং সপ্তাহে দশকগুলো হ্যাপেনস দেয়ার। আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান। সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে, পাকাতে হয়েছে, আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও।

জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জেরে তিনি বলেন, আসুন, একসঙ্গে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেননি। গতকাল প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না, তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলন। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর সেই সোপানগুলো বাদ দিলে জুলাইয়ের ৩৬ দিনে কি নিউটনের আপেল টপকিয়ে পড়েছে? না। বন্ধুদের বুঝতে বলবো, যারা জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে, সেই রাজনীতি করা যাবে না। তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকাতে, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।

শেষে তিনি বলেন, তারা এই চেতনা বিক্রি করতে করতে বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বললে মানুষ ঘৃণা করতো। যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয় সেই রকম রাজনীতি করি। জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, বিজয় বিপ্লবের লক্ষ্য থেকে আমরা কোনভাবেই বিচ্যুত হতে চাই না। তরুণদের স্বপ্ন যেন আর পদদলিত না হয়, সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্ষা বিপ্লবকে আমরা হৃদয়ে ধারণ করবো।

হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, যেকোনো জাতীয় সংকটে আমাদের একত্র হয়ে লড়াই করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে একটিও ফ্যাসিস্ট কেউ না হতে পারে, সেদিকে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সকলকে লড়তে হবে। এই সময়ে তিনি জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বক্তারা প্রত্যেকে সকল মতপার্থক্য নির্বিশেষে পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল: চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল: চিফ হুইপ

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল ছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার জন্য এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এর আগেই তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে। ‘আয়নাঘর’ ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে তারা terror রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতা সহকারে স্মরণ করেন।

চিফ হুইপ আরও বলেন, বর্তমান সংসদের গত পাঁচ মাসে তারা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন (রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পরিস্থিতির আলোকে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কোন ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।

তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধানে সংসদ একযোগে কাজ করেছে এবং সুফল পেয়েছে। নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার যাই বলি না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করা।’

তিনি ভারতের সংবিধানের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ৭৬ বছরে তারা ১০৬ বার সংশোধন করেছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংবিধানেও উপযুক্ত পরিবর্তন আনা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সুখী-সমৃদ্ধ দেশে বেড়ে ওঠে।

সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের সকল সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করি। পার্লামেন্টই হবে সকল সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।’

তিনি রাজপথের পরিবর্তে সংসদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে টেকসই এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৯ পি.এম


দেশের ১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা

দেশের কিছু অঞ্চলে এবং ভারতের সীমান্তবর্তী উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১০টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দুদিনেও এই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আকস্মিক প্লাবন দেখা দিতে পারে।

একইভাবে, উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুলাই এবং কংস নদীর পানিও আগামী দুই দিন বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা বজায় রাখতে পারে। এক্ষেত্রে গঙ্গা-পদ্মা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%