ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও ষড়যন্ত্রে সক্রিয়: শফিকুল আলম মনা


ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও ষড়যন্ত্রে সক্রিয়: শফিকুল আলম মনা

খুলনা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনও পুরোপুরি নির্মুল হয়নি।

তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে আছে এবং দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এমনকি তারা আমাদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত শহীদ, আহত ও যোদ্ধাদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন।

মনা আরও বলেন, যারা এক সময় চরম দাম্ভিকতা দেখাতেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ভাবতেন তাদের কেউ পতন ঘটাতে পারবে না, আজ তাদের সেই অহংকার কোথায়? জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের যে বীর সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

ফ্যাসিবাদের দোসরদের যেকোনো চক্রান্ত রুখে দিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসা, ইস্তিয়াক উদ্দিন লাভলু ও চৌধুরী সফিকুল ইসলাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

এছাড়াও থানা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা সভাপতি সেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল ও অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী, থানা সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও আসাদুজ্জামান আসাদ এবং থানা সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক শেখ আব্দুল আজিজ সুমন ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবর রহমান, আঞ্চলিক শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মাদ, জাসাসের সদস্য সচিব কে এম এ জলিল, মহিলা দলের সদস্য নাসরিন শ্রাবণী ও সাইদা আক্তার, স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মুন্তাসির আল মামুন এবং ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দিন সামিম।

আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবনদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পলাতক ফ্যা-সিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


পলাতক ফ্যা-সিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে ভিন্ন মতকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এই কথা বলেন বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সফল হয়।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত হওয়ার কারণে আজ জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে এই দিনটি পালিত হচ্ছে।

তিনি যোগ করেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরূকরণ ও জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

এতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব সংগ্রামকে সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল।

ঐক্যের মাঝে অনাকাক্সিক্ষত দূরত্ব না রাখার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও গঠনমূলক সমালোচনা থাকতে পারে।

কিন্তু মাথায় রাখতে হবে কোন অশালীন আচরণ না করে প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার সাথে ভিন্নমতকে ধারণ করতে হবে।

ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, এবং ২০২৪ সাল ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এর প্রকৃত নায়ক দেশের জনগণ।

জনগণ যেমন ১৯৭১ সালের শহীদদের ভোলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের বীর শহীদদেরও কোনোদিন ভুলবে না।

একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশের সংগ্রামকে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বিগত মেয়াদে ঘটে যাওয়া গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার স্বচ্ছ নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে আইনের শুভ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

একই সাথে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা, জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও শহীদ পরিবার এবং আহতদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, তিন গুণ হয়েছে ড্রোন উৎপাদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ পি.এম


যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, তিন গুণ হয়েছে ড্রোন উৎপাদন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান নতুন করে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সময়কে অস্ত্রভান্ডার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজে লাগানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানকে নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান অথবা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করার জন্য। তেহরান বলছে, ওমানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো বিরতি দেওয়া হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত এবং বর্তমানে স্থগিত থাকা সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো হয়েছে।

তিনি দাবি করেন যে, বিদ্যমান অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুনর্গঠন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে, নতুন প্রজন্মের ড্রোন ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে।

গত মাসে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। তার বক্তব্য হলো, যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বেড়েছে। তবে তিনি এ সম্পর্কে কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।

একই ধরনের দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেন মহিব্বি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতাও উন্নত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি তাদের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা কিংবা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

অন্যদিকে, গত জুনে কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, ইরানের যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ড্রোনের প্রায় ৪০ শতাংশ মজুত অক্ষত রয়েছে। এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা হাজারো বিমান ও ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় অভিযান পরিচালনা করেছে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হলেও আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত এক মাসে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯, এমকিউ-১ ও 'লুকাস' ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাধ্যমে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রথম চালান পেতে পারে। তবে চীন ও পাকিস্তান এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং ইরান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসেন কানানি মোকাদ্দম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা আদৌ ধ্বংস করতে পারেনি। তার দাবি, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

পাশাপাশি, মাটির নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার বা 'আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি'তে বিপুল অস্ত্রভান্ডার রয়েছে এবং সেগুলোর নতুন অংশ ধীরে ধীরে অপারেশনাল ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। মোকাদ্দম বলেন, এই সক্ষমতার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দফা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি স্বীকার করেনি।

এদিকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। লোহিত সাগরে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

কুয়েতে বিস্ফোরণের পর কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইরানি ড্রোনের মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ তা নিশ্চিত করেনি। এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলা এবং জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই আর কারও থাকবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


‘আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই আর কারও থাকবে না’

স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর যদি আমরা বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। তিনি জানান, যদি আমরা আয়নাঘরে যাই, যেখানে তার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, কিন্তু তারা সেখানে থেকেছে। তার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। তিনি বললেন, ভাই, কেন ফেরত আসলেন? সে বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস। বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারওই থাকবে না। আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, যারা স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করেছে কিন্তু কোনোদিন মুক্তি পায়নি। মহামতি লেনিন বলেছিলেন, দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। কিন্তু সেখানে আর দিন এবং সপ্তাহে দশকগুলো হ্যাপেনস দেয়ার। আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান। সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে, পাকাতে হয়েছে, আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও।

জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জেরে তিনি বলেন, আসুন, একসঙ্গে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেননি। গতকাল প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না, তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলন। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর সেই সোপানগুলো বাদ দিলে জুলাইয়ের ৩৬ দিনে কি নিউটনের আপেল টপকিয়ে পড়েছে? না। বন্ধুদের বুঝতে বলবো, যারা জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে, সেই রাজনীতি করা যাবে না। তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকাতে, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।

শেষে তিনি বলেন, তারা এই চেতনা বিক্রি করতে করতে বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বললে মানুষ ঘৃণা করতো। যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয় সেই রকম রাজনীতি করি। জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, বিজয় বিপ্লবের লক্ষ্য থেকে আমরা কোনভাবেই বিচ্যুত হতে চাই না। তরুণদের স্বপ্ন যেন আর পদদলিত না হয়, সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্ষা বিপ্লবকে আমরা হৃদয়ে ধারণ করবো।

হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, যেকোনো জাতীয় সংকটে আমাদের একত্র হয়ে লড়াই করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে একটিও ফ্যাসিস্ট কেউ না হতে পারে, সেদিকে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সকলকে লড়তে হবে। এই সময়ে তিনি জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বক্তারা প্রত্যেকে সকল মতপার্থক্য নির্বিশেষে পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%