১২:০৪ পি.এম
দক্ষিণ সুদানের জংলেই রাজ্যে একটি টহল দলের ওপর সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলার ফলে জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার পাজুত এলাকার দিকে যাওয়ার সময় টহল দলটি আকস্মিকভাবে হামলার শিকার হয়।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশন (ইউএনএমআইএসএস)।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে চিফ অব স্টাফ গ্রেপ্তার
হামলায় আরো সাতজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে তিনজন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী, দুইজন দক্ষিণ সুদানের পুলিশ সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক কর্মী রয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, নিহত দুই শান্তিরক্ষী এবং আহত তিন শান্তিরক্ষী সকলেই ইথিওপিয়ার নাগরিক।
এখন পর্যন্ত হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জরুরি সহায়তার জন্য ইউএনএমআইএসএস ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করেছে। ইউএনএমআইএসএসের প্রধান অনিতা কিকি গেবো মন্তব্য করেছেন, দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা জাতিসংঘের কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: পুতিনের দূতের সাথে বৈঠক করে ট্রাম্পের বড় ইউরোপীয় নিরাপত্তা চুক্তির ইঙ্গিত
দুজারিক জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মিলিশিয়াদের হামলায় নিহত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ সুদানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিরোধী যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত চলছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান, দেশে আলাদা অ্যান্ডোক্রাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে
সরকারি বাহিনী বিরোধী নেতা রিক মাচারের অনুগত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মাচারকে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে মাচার এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং রিক মাচারের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকরভাবে ভেঙে পড়ায় দেশটিতে আবারও বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তা কর্মী ও তাদের সম্পদের ওপর ৪৫০টির বেশি সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
আরও পড়ুন: কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
গত ডিসেম্বর থেকে জংলেই রাজ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সেই সময় বিরোধী যোদ্ধারা সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করে নেয়। এরপর শান্তিচুক্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার জানুয়ারি থেকে বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে পাল্টা অভিযান চালিয়ে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং রিক মাচারের মধ্যে আবারও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি শান্তিচুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরু করে শান্তি বজায় রাখা এবং নতুন করে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন