১১:১২ পি.এম
হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এই তথ্যটি ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ মডেলের একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আইআরজিসি দাবি করে, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্য যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমনের অবিশ্বাস্য জয়
আইআরজিসি এর আগে দাবি করেছে যে, ‘অননুমোদিত’ পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মাইন বিস্ফোরণের ফলে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির মধ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।
অমাবস্যার অন্ধকারে ইরানে হামলার ছক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে। মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার ফক্স নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর নতুন চাঁদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদের আলো কম বা একেবারেই না থাকার সুযোগকে সামরিক অভিযান শুরুর জন্য অনুকূল সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে চিফ অব স্টাফ গ্রেপ্তার
বৈঠকে ট্রাম্প গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। আলোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা শুরু হবে, ফলে রাতের আকাশে চাঁদের আলো খুবই কম থাকবে, এমনকি কোথাও একেবারেই থাকবে না। অন্ধকারের এই পরিস্থিতি সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা খুব দ্রুতই তা জানতে পারবেন।’
এই বিকল্পকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব যে, আমরা কি আরও এগিয়ে গিয়ে বিষয়টিকে এমনভাবে নিশ্চিত (সার্টিফাই) করতে চাই, যাতে এটি আর কখনোই না ঘটে?’
আরও পড়ুন: পুতিনের দূতের সাথে বৈঠক করে ট্রাম্পের বড় ইউরোপীয় নিরাপত্তা চুক্তির ইঙ্গিত
ফের হামলা হলে ভৌগোলিক সীমা মানবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, তেহরানের দেয়া সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানে নতুন করে হামলা হলে, কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই মার্কিন শত্রুর সব সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সরঞ্জাম এবং বাহিনীও ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
আরও পড়ুন: এআই নিয়ে শঙ্কা, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধস
আকরামিনিয়া বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও আমাদের শত্রুর ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন করা আছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই মার্কিন শত্রুর সব বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন