ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নামে মামলা


ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নামে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শিবু (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ ও শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি টিপু সুলতান, যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও ওয়াসিম, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম।

আরও পড়ুন: প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান

এছাড়া কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লিখিত মিরু হোসেন ওরফে ল্যাংড়া মিরু, রঞ্জিত মণ্ডল, সাবেক জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম চেঙ্গীস ওরফে চেঙ্গীস খান, ফতুল্লা থানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দীন সরদার, ফতুল্লা থানা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু শরিফুল হক, সাবেক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম, ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ এবং আল আমিন কবিরের নাম রয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন- জাকারিয়া জাকির ওরফে জাকির মেম্বার, রতন, রাকিব এবং শাহ নিজামের সহযোগী হিসেবে এজাহারে উল্লিখিত রাজ্জাক। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, অর্থায়ন ও পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা ছিল। গত ৪ নভেম্বর কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এ মামলা করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোনোর চেষ্টা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কালার স্মোক গ্রেনেড ব্যবহার করেন। এজাহারে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, দুই বাহিনীর সদস্যরা মোট ২০৩টি লং শেল, ৪৪টি শর্ট শেল, ২৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, দুটি কালার স্মোক গ্রেনেড ও পাঁচটি টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেন।

পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে সরে যান। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় শিবুকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শিবু নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই নিয়ে শঙ্কা, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


এআই নিয়ে শঙ্কা, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধস

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়ের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধসের প্রভাবে শুক্রবার এশিয়ান এবং ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই খাতের বিনিয়োগের জোয়ারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে এই ধসের সূচনা হয়। প্রযুক্তি-নির্ভর এশীয় সূচকগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুক্রবারের এই ধসে।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিটে এক নজিরবিহীন ধসে বাজার মূলধনের প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার স্রেফ হাওয়া হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোসপি’ সূচক এবং জাপানের ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক উভয়ই ৬ শতাংশ পতন নিয়ে দিন শেষ করেছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের বেঞ্চমার্ক ‘তায়েক্স’ সূচক ৪.৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে।

বাজারের এই আচরণ মূলত এ বছরের সবচেয়ে লাভজনক খাত এআই বাণিজ্য থেকে বিনিয়োগকারীদের পিছু হটার প্রতিফলন। এশীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, যারা বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তারা মূলত এআই ডেটা সেন্টারগুলো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপের মতো উপাদানগুলোর বিপুল চাহিদার কারণে এতদিন চাঙা ছিল।

ইউরোপীয় বাজারগুলোও পতনের ধারায় ছিল। শুরুতেই ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক ‘স্টক্স ৬০০’ সূচক ১.১ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে ফ্রান্সের ‘সিএসি ৪০’ এবং জার্মানির ‘ড্যাক্স’ যথাক্রমে ১.৪ শতাংশ এবং ১.৩ শতাংশের নিচে লেনদেন করছিল।

চিপ তৈরির সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক ওলন্দাজ প্রতিষ্ঠান এবং এআই শিল্পের সাথে যুক্ত ইউরোপের বৃহত্তম কম্পানি ‘এএসএমএল’-এর শেয়ারের দাম গত বৃহস্পতিবার ৬.৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল; যদিও শুক্রবার সকালের মধ্যে তারা সেই ক্ষতির বেশিরভাগই কাটিয়ে উঠে প্রায় ৬ শতাংশের ওপরে লেনদেন করছিল।

শুক্রবার প্রথম দিকের লেনদেনে মার্কিন বাজার কিছুটা মিশ্র অবস্থায় ছিল। যেখানে ডাও জোন্স ০.৮ শতাংশ কমেছিল এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও প্রযুক্তি-ভারি নাসডাক যথাক্রমে ০.৩ শতাংশ এবং ১.৪ শতাংশ বেড়েছিল। বাজারে বড় পতনের পর অনেক সময়ই কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কারণ কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার জন্য এই সুযোগে এগিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার ৯ শতাংশের বেশি ধস নামার পর প্রাক-বাজার লেনদেনে এনভিডিয়া এবং স্পেসএক্স উভয়ই প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠছিল।

মেটা, অ্যামাজন এবং গুগলের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এআই পরিচালনার জন্য নতুন ডেটা সেন্টারে বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের কারণে ‘হাইপারস্কেলার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের একটি সমীক্ষা অনুমান করেছে যে, গত বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এই এআই-সম্পর্কিত অবকাঠামো বিনিয়োগের হাত ধরে এসেছিল। তবে, নতুন ডেটা সেন্টারগুলোর পরিবেশগত এবং স্থানীয় সামাজিক প্রভাবের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া গণ-অসন্তোষ এবারের ইউএস মধ্যবর্তী নির্বাচনে এআই ব্যয়কে একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছিল। নির্বাচনে একচেটিয়া জয় এখন এই আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে যে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নতুন এআই অবকাঠামোর ব্যয় আটকে দিতে বা মন্থর করতে পারেন; যা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়া—উভয় অঞ্চলেরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি প্রধান চালিকাশক্তিকে হুমকির মুখে ফেলবে।

সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা এশীয় বাজারের জন্য বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা তীব্র ওঠানামারই অংশ। কারণ বিনিয়োগকারীরা এই এআই জোয়ারের স্থায়িত্ব এবং এই ধরনের বিশাল বিনিয়োগের চূড়ান্ত লাভজনকতা নিয়ে প্রতিনিয়ত হিসাব-নিকাশ করছেন। ফাইবোনাচ্চি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জুং ইন ইউন শুক্রবার বলেন, বিনিয়োগকারীরা এআই বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক নীতিমালার চারপাশের প্রত্যাশাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করার কারণেই সম্ভবত শুক্রবারের এই বড় ধসটি নেমেছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, কম্পিউটিং পাওয়ারের চাহিদা বাড়তেই থাকবে এবং এর সাথে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের তৈরি মেমরি চিপগুলোর চাহিদাও বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি-নির্ভর বাজারটি মানুষের সেন্টিমেন্ট বা মনোভাবের পরিবর্তনের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, তাই বাজারে আস্থা ফিরে আসার আগে আমরা আরো কিছু ওঠানামা দেখতে পারি।’

দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান—উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তারাই শুক্রবার তাদের নিজ নিজ শেয়ার বাজারের এই সাম্প্রতিক অস্থিরতার কথা স্বীকার করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, ‘আমি অবগত আছি যে শেয়ারের দাম, বিশেষ করে এআই এবং চিপ খাতের দাম ব্যাপকভাবে কমছে।’ তিনি আরো যোগ করেন যে, সরকার বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার পদক্ষেপগুলোর ওপর মনোনিবেশ করব।’

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতিমন্ত্রী লি হিউং-ইলও শুক্রবার মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেতৃবৃন্দ মূল্যায়ন করেছেন যে বৈশ্বিক বাজারে এর একটি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোরিয়ান শেয়ার বাজারে যেন কোনো অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়, সে জন্য তারা আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এআই খাতের নতুন ডাটা বা অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে খুচরা এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরা প্রতিক্রিয়া দেখানোর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শেয়ারগুলো এই বছর মনোভাবের আকস্মিক পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। হংকংয়ের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ইই ক্যাপিটাল-এর অংশীদার থিওডোর শো বলেন, ‘আমরা যদি বাজারে কেবল এআই-সম্পর্কিত শেয়ারগুলোর ওপর ফোকাস করি, তবে আমি যুক্তি দেব যে এই বছরের শুরুর দিকে এটি নিয়ে অতিরিক্ত হাইপ তৈরি হয়েছিল। আমি মনে করি বাজার এখন নিজেই নিজেকে কিছুটা সামলে নিচ্ছে।’ এআই নিয়ে উদ্দীপনা বাড়ার সাথে সাথে থিওডোর শো বলেন যে, ‘এশীয় প্রযুক্তি শেয়ারগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় তাদের মার্কিন সমকক্ষ শেয়ারগুলোর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বাজারে যে ধস নেমেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিল প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচকের ৫.৫ শতাংশের পতন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পর এটি ছিল নাসডাকের সবচেয়ে খারাপ দিন।

ব্যবসায়ীরা যখন আগামী বছরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তখন বিশ্লেষকেরা বলছেন বৈশ্বিক বাজারগুলো সম্ভবত প্রযুক্তি এবং আর্থিক নীতিমালার পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল থাকবে। এশীয় ইক্যুইটি নিয়ে কাজ করা অ্যান্ড্রু সুলিভান লিখেছেন, ‘বাজার যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে তা হলো অনিশ্চয়তা। এবং বাজার আসলে যা বলছে তা হলো— আগামী জানুয়ারিতে কী ঘটতে যাচ্ছে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। সুতরাং, আসুন আমরা একটু পিছিয়ে যাই। আমরা কিছু টাকা নগদে রূপান্তর করে রাখি। যা পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ব্যবহার করা যাবে।’

সূত্র : সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এই তথ্যটি ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ মডেলের একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আইআরজিসি দাবি করে, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

এদিকে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্য যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে।

আইআরজিসি এর আগে দাবি করেছে যে, ‘অননুমোদিত’ পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মাইন বিস্ফোরণের ফলে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির মধ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।

অমাবস্যার অন্ধকারে ইরানে হামলার ছক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে। মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার ফক্স নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর নতুন চাঁদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদের আলো কম বা একেবারেই না থাকার সুযোগকে সামরিক অভিযান শুরুর জন্য অনুকূল সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে ট্রাম্প গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। আলোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা শুরু হবে, ফলে রাতের আকাশে চাঁদের আলো খুবই কম থাকবে, এমনকি কোথাও একেবারেই থাকবে না। অন্ধকারের এই পরিস্থিতি সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা খুব দ্রুতই তা জানতে পারবেন।’

এই বিকল্পকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব যে, আমরা কি আরও এগিয়ে গিয়ে বিষয়টিকে এমনভাবে নিশ্চিত (সার্টিফাই) করতে চাই, যাতে এটি আর কখনোই না ঘটে?’

ফের হামলা হলে ভৌগোলিক সীমা মানবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, তেহরানের দেয়া সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানে নতুন করে হামলা হলে, কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই মার্কিন শত্রুর সব সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সরঞ্জাম এবং বাহিনীও ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

আকরামিনিয়া বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও আমাদের শত্রুর ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন করা আছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই মার্কিন শত্রুর সব বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরে গুরুত্ব পাবে জলবায়ু ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরে গুরুত্ব পাবে জলবায়ু ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১১-১২ নভেম্বর তিনি তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশগ্রহণ করবেন।

সফরের সময় বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি জলবায়ু ইস্যুতে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরবে।

ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

তুরস্কের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

কপ-৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। ১১ ও ১২ নভেম্বর জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনে উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আগামী ১০ নভেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং সফর শেষে ১২ নভেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

বাংলানিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কপ-৩১ এ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবেন। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো যাতে নতুন ঋণের বোঝায় না পড়ে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সায়মুম পারভেজ জানিয়েছেন, কপ-৩১ এ জলবায়ু ঝুঁকির লস অ্যান্ড ড্যামেজের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যাতে এ তহবিল থেকে অর্থ পায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ দাবি জোটবদ্ধভাবে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

বন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়ছে। কপ-৩১ সম্মেলনে এই ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি বাবদ অর্থ সহায়তার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এবার সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন। তিনি বিশ্বনেতাদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন কেবল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আয়োজন নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের স্বার্থ, অর্থায়নের দাবি এবং উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শামা ওবায়েদ আরো বলেন, তুরস্ক সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত বিশ্বের দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে এরদোয়ান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরো বিস্তৃত অংশীদারিতে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ওই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আনতালিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কপ-৩১ এ অংশগ্রহণ, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০২৭ সালের শুরুতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলনে তুরস্ককে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান হুমায়ুন কবির।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। দুই পক্ষ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।

এর আগে গত ৬ জুন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান, দেশে আলাদা অ্যান্ডোক্রাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান, দেশে আলাদা অ্যান্ডোক্রাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দেশে অ্যান্ডোক্রাইনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সুপরিকল্পিত অ্যাডভোকেসি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নবম আন্তর্জাতিক অ্যান্ডোক্রাইন কনফারেন্সের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় এই আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে বিভিন্ন রোগের জন্য বিশেষায়িত অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অ্যান্ডোক্রাইনোলজির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও কোনো জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তিনি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে সুপরিকল্পিতভাবে অ্যাডভোকেসি শুরু করা প্রয়োজন।

ড. মুহিত বলেন, দেশে বারডেম, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যান্ডোক্রাইনোলজি নিয়ে ব্যাপক কাজ হচ্ছে। সাধারণ জনগণ ব্যাপক হারে ডায়াবেটিস, থাইরয়েডসহ হরমোনজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন, তাই এই বিষয়ের গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বিভক্তি এবং মানুষকে অসম্মান করার সংস্কৃতি দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তা ভেঙে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার নিরলস চেষ্টা করছেন। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজ ও স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ড. মুহিত আরও উল্লেখ করেন, হিউম্যান ফিজিওলজি ও প্যাথোলজির বড় ক্ষেত্র জুড়ে থাকা ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও স্থূলতার মতো বিষয়ে তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আমাদের তরুণ গবেষকরা আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে দেশের উপাত্ত ও গবেষণা প্রকাশ করবেন।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি ড. ফারিয়া আফসানার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চিফ পেট্রোন ফারুক পাঠান, ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ, রিসার্চ সেক্রেটারি ডা. নাজমা আক্তার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%