ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াই সরাসরি দেখবেন যেভাবে


ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াই সরাসরি দেখবেন যেভাবে

আজ রাতে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেতে। এই ম্যাচে সেলেসাওদের হারিয়ে বড় অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে নরওয়ে ফুটবলারদের। পাশাপাশি, হেক্সমিশনের পথে এগিয়ে যেতে মরিয়া সেলেসাওরা।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি রোববার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাচ্ছে।

কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য নামা নেইমার এবং ভিনিসিয়ুসদের এই ম্যাচটি বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য মাছটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বিটিভি দিয়ে। আরও রয়েছে স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশন, যেখানে খেলাটি উপভোগ করা যাবে।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

যে দর্শকরা টিভির সামনে বসে নেই, বরং মোবাইল বা ট্যাব থেকে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের সুবিধা রয়েছে। নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন নিয়ে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি, গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ এবং আইস্ক্রিন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ম্যাচটি দেখা যাবে।

সরাসরি খেলা দেখতে কিপ মাই আইডি (keepmyid.org) ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যেতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম স্পোর্টসজিফাই (Sportszyfy) এবং স্পোর্টজেডএক্স (SportzDX) অ্যাপ থেকেও লাইভ ম্যাচ দেখা যাবে। ফুটবলপ্রেমীরা খেলার প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট জানতে চাইলে https://www.fotmob.com ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে পারেন।

শুধু ডিভাইসের পর্দায় নয়, বিশ্বকাপের আমেজ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও পাড়া-মহল্লায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখানোর বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে।

আজ রাতে ২টায় নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ব্লকবাস্টার ম্যাচটি দেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন আপনার পছন্দের প্ল্যাটফর্মে। ফুটবল বিশ্বকাপের আসল রোমাঞ্চ উপভোগ করার জন্য পর্দায় চোখ রাখুন!

আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্দির সভাপতির বিরুদ্ধে নাতনির ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


মন্দির সভাপতির বিরুদ্ধে নাতনির ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজারহাট থানায় এজাহার দায়ের করেন শিশুটির মা।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের কুমারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কৃষক এবং স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা (দাদু)। এই পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। তিনি প্রায়শই শিশুটিকে চকলেট, চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে কোলে নিতেন বা দোকানে নিয়ে যাওয়ার বাহানা করতেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় প্রায়ই নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার অজুহাতে তার ওপর বিকৃত যৌন নিপীড়ন চালাতেন। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিল।

সর্বশেষ গত ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানেই হাত-পা টেপানোর একপর্যায়ে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় শিশুটি প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথা অনুভব করে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য কঠোর হুমকি দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়িতে ফিরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। পরে একপর্যায়ে মায়ের কাছে সে ঘটনাটি বলে।

এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটির সভাপতির এমন বিকৃত লালসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশু নির্যাতনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ইউজিসি চেয়ারম্যানের শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ইউজিসি চেয়ারম্যানের শোক

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

আজ রোববার এক শোকবার্তায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় ঘটেছে। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষকতা, গবেষণা, সাহিত্যচর্চা ও মননশীল লেখালেখির মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

তিনি বলেন, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তার রচিত গ্রন্থ, গবেষণা ও প্রবন্ধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান ও প্রেরণার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে থাকবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী, আদর্শনিষ্ঠ ও শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে তার আন্তরিকতা, জ্ঞানের গভীরতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে শিক্ষকসমাজ ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। দেশের উচ্চশিক্ষা ও বাংলা ভাষা-সাহিত্যে তার অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, আজ দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে একটি হাসপাতালে ৮৫ বছর বয়সে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ঢাবি সাদা দলের শোক প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ঢাবি সাদা দলের শোক প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল।

রবিবার এক শোক বার্তায় জানানো হয় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। তারা তার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করছে। একই সঙ্গে, তারা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

বাংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা ও জাতীয় জ্ঞানচর্চায় তার অসামান্য অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমগ্র জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দীর্ঘদিন স্মরণ করবে বলেও জানানো হয়েছে শোক বার্তায়।

এর আগে, রবিবার দুপুর আড়াইটায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ৮৬ বছর বয়সে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার সহধর্মিণী, একমাত্র কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরব রাষ্ট্রগুলো কি তাদের ভুল বুঝতে পেরে সঠিক পথে আসবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


আরব রাষ্ট্রগুলো কি তাদের ভুল বুঝতে পেরে সঠিক পথে আসবে?

সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ইসলাম ধর্মের অনুসারী মানুষদের প্রথম কিবলা থেকে শুরু করে পরবর্তী কিবলা - মক্কা মদিনা সহ নবী-রাসূলদের, সাহাবীদের আগমন প্রস্থান এর জন্য পবিত্র ও পূণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যে সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। কিন্তু ইসলামের নীতি আদর্শ,  মূল্যবোধ ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতা এবং বিলাসিতার জন্য আরব রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘদিন থেকেই ইসলামের সুমহান ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে গিয়ে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের সুমহান আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। সেই সাথে তারা ভুলে গিয়েছে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম এবং জাতি হিসেবে তারা একসময় গোটা পৃথিবী শাসন করত। যাতে মানুষ শান্তিতে, নিরাপত্তায় এবং স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করে বেঁচে থাকতে পারতো। কিন্তু ক্ষমতা, অর্থ ও  বিলাসিতার মোহে গা ভাসিয়ে দিয়ে তারা বিধর্মী ইহুদি, খ্রীষ্টান , নাছারাদের কে বন্ধু মেনে নিজেদেরকে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকেও ধ্বংসের জন্য ইহুদিবাদী মুসলিম বিদ্বেষী শক্তি গুলোকে তাদের রাষ্ট্র ব্যবহার করে সহযোগিতা এবং বন্ধুত্ব তৈরি করার এমন মুসলিম বিদ্বেষী অবস্থান বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মুসলমানদের জন্য কখনোই কাম্য ছিল না। ফিলিস্তিন বিশ্বের একমাত্র এমন একটি বিশ্বাসী মুসলিম রাষ্ট্র যাদের উপর যুগের পর যুগ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা বর্বরতম ও ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালাতে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে। অথচ এসব করার জন্য আরব বিশ্বের এই মুসলিম নামক রাষ্ট্রগুলোই তাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়েছে। যেখানে তাদের ভাইকে হত্যা করা হয় সেখানে তারা শত্রুদেরকে নিজেদের দেশে জায়গা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে আসছিল এবং এখনো সে কাজই করছে। এখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত কখনোই তারা ইসলামের ঐতিহ্যবাহী এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সঠিক প্রতিনিধি বলে বিশ্বের মুসলমানদের কাছে দাবী করতে পারবে না। সুতরাং সময় এসেছে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ করে ইসলামের ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং মুসলিম বিশ্বের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ঠিক পূর্বের মতোই তৈরি করা যখন একটি রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র বা অঞ্চল তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—এই অঞ্চলের নিরাপত্তা আর কেবল বাইরের শক্তির কৌশলের ওপর নির্ভর করে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা, ইয়েমেন সংকট, গাজায় দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয় এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস মিলিয়ে গোটা অঞ্চল এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বিভাজন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বহিঃশক্তির প্রভাবের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই অঞ্চলের জনগণ এবং সামগ্রিকভাবে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ধারণা। ফিলিস্তিন প্রশ্নে বহু আরব রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রায়ই নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে ছাপিয়ে গেছে। এই ধারণা সঠিক হোক বা না হোক, বাস্তবতা হলো—এটি আরব নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সম্পর্কও এই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কয়েক বছরের সংঘাত, সীমান্ত উত্তেজনা এবং সামরিক মুখোমুখি অবস্থান শেষ পর্যন্ত দেখিয়েছে যে যুদ্ধ কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা কমানোর যে প্রচেষ্টা দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে যে আলোচনার পথ শেষ পর্যন্ত সংঘাতের পথকেই প্রতিস্থাপন করে। এই অভিজ্ঞতা শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের জন্য নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি শিক্ষা।

একইভাবে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংকটও আরব বিশ্বের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ধীরে ধীরে একমেরুকেন্দ্রিকতা থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় যদি আরব রাষ্ট্রগুলো নিজেদের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই অগ্রাধিকার দেয় এবং একে অপরকে দুর্বল করার কৌশলে ব্যস্ত থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে বহিঃশক্তি; ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যপ্রাচ্যই।

আজ প্রয়োজন সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যকে সংলাপের মাধ্যমে কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গেও এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা দরকার, যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু তা যুদ্ধের কারণ হবে না। প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু তা ধ্বংসাত্মক সংঘাতে রূপ নেবে না।
এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো নিজেরাই—নাকি তাদের ভবিষ্যৎ বারবার বাইরের শক্তির ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতে নির্ধারিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে হবে। কারণ প্রতিটি নতুন সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষতিই ডেকে আনে না; অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়।

আরব বিশ্বের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার পুনর্গঠন। সেই আস্থা কেবল বক্তব্যে নয়, বাস্তব পদক্ষেপে অর্জিত হবে। আঞ্চলিক সংলাপ, পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ইস্যুতে সমন্বিত কূটনৈতিক অবস্থান এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান—এসবই হতে পারে নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ভিত্তি।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিভক্ত মধ্যপ্রাচ্য কখনোই স্থিতিশীল ছিল না। প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতি বহুবার বাইরের শক্তিকে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু ঐক্য, পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতি এবং কৌশলগত সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

আজকের প্রশ্ন তাই একটাই—আরব রাষ্ট্রগুলো কি অতীতের বিভাজনকে আঁকড়ে ধরে অনিশ্চয়তার পথে এগোবে, নাকি পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় নিজেদের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলে একটি আরও স্থিতিশীল, আত্মনির্ভর ও সহযোগিতামূলক মধ্যপ্রাচ্য নির্মাণের পথে হাঁটবে? এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, সমগ্র অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের গতিপথও নির্ধারণ করবে। অন্যথায় একই পথে হাঁটতে থাকলে মক্কা-মদিনা কিংবা পবিত্র ভূমির উছিলায় সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিন তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে হয়তো ভবিষ্যতে না-ও বাঁচাতে পারে, এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%