প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজারহাট থানায় এজাহার দায়ের করেন শিশুটির মা।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের কুমারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কৃষক এবং স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা (দাদু)। এই পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। তিনি প্রায়শই শিশুটিকে চকলেট, চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে কোলে নিতেন বা দোকানে নিয়ে যাওয়ার বাহানা করতেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় প্রায়ই নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার অজুহাতে তার ওপর বিকৃত যৌন নিপীড়ন চালাতেন। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিল।
সর্বশেষ গত ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানেই হাত-পা টেপানোর একপর্যায়ে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় শিশুটি প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথা অনুভব করে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য কঠোর হুমকি দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়িতে ফিরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। পরে একপর্যায়ে মায়ের কাছে সে ঘটনাটি বলে।
এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটির সভাপতির এমন বিকৃত লালসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশু নির্যাতনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন