ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শেবাচিমে ডা. রমজানের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ


শেবাচিমে ডা. রমজানের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ

পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোয় দুর্ব্যবহার, রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোর কারণে রোগীকে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে করা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে গেলে তা দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রিপোর্ট পর্যালোচনা ছাড়াই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী রোগী। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক সংবাদকর্মীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করালে রোগীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগমের স্বামী সরুজ মল্লিক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর স্ত্রী মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর কাছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক নাজমা বেগমকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।

নাজমা বেগমের অভিযোগ, পরীক্ষা করানোর জন্য চিকিৎসক তাঁকে নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে যেতে বলেন এবং সেখানে অবস্থানরত এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইঙ্গিত করেন। তবে আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ‘সায়েন্স ল্যাব’ নামের অন্য একটি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাগুলো করান।

পরবর্তীতে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন তাঁর নির্দেশিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো হয়নি, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ডা. রমজান আলী। এ সময় তাঁকে বকাঝকা করা হয় এবং রিপোর্ট যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দেন। এতে তিনি অপমানিত ও হয়রানির শিকার হন।

ঘটনার বিবরণ জানতে হাসপাতালে উপস্থিত হন এক সংবাদকর্মী। এ সময় হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশের কারণ জানতে চেয়ে ডা. রমজান আলী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ওই সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরবর্তীতে চিকিৎসক নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, এর আগেও তিনি ডা. রমজান আলীর কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সেবারও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে কয়েকজন নারী অবস্থান করেন। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করালে রোগীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এদিকে, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একটি অংশের অভিযোগ, দালালচক্রের তৎপরতা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাঁরা প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন। অভিযোগ থাকলেও অনেক রোগী হয়রানি কিংবা পরবর্তী জটিলতার আশঙ্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে চান না।

হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একাধিক সংবাদকর্মীও জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকলেও বিভিন্নভাবে রোগীদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম, আটক ১


এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

চিকিৎসাসেবা নিতে এসে কোনো রোগী যেন নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। রোগীর পছন্দ, আর্থিক সামর্থ্য এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এখন দেখার বিষয়, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার পাশে থাকবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার পাশে থাকবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল প্রস্তাবের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণেও তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘গভর্নেন্স সলিউশনস কম্পিটিশন’-এর বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় বড় সমস্যার কথা বলার পাশাপাশি এমন সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে, যার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান তারা নিজেরা প্রস্তাব করতে পারবে। সমস্যার ব্যাপ্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং সমস্যাটির গভীর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে জরিপ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, সংবাদ প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুলও সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

সমাধান প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি ভালো সমাধান কেবল কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেই হবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। সমাধান বাস্তবায়নে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন, কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন এবং কী ধরনের জনবল, অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ প্রয়োজন হবে, এসব বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

স্কুলের সামনে যানজট নিয়ন্ত্রণ কিংবা এলাকার খাল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো সমস্যা সমাধানে সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একদিনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাধান প্রণয়নের সময় আইনগত, প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্ব কার ওপর রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের সংস্থান ছাড়া কোনো উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবে বাস্তবতা, কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রতিযোগিতার বিশেষ দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং তাদের নিজেদের চিন্তা ও প্রস্তাবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া কাছ থেকে বোঝার একটি সুযোগ। নির্বাচিত তিনটি দল তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের কার্যালয় এবং প্রস্তাবের বিষয়বস্তু শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট হলে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ পাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সংসদের সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১২৪টি দলের কাছ থেকে প্রথমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন জমা নেওয়া হবে। সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করবেন। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা পাঁচটি দল জাতীয় পর্যায়ের দর্শক ও অতিথিদের সামনে ১৫ মিনিটের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত উপস্থাপনার ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ দল নির্বাচন করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আমি চাই, ঢাকা-১৩-এর শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা সঠিকভাবে কাজে লাগুক। আমরা পুরো দেশকে দেখাতে চাই, আমাদের শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তাদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

কর্মশালায় প্রতিযোগিতার বিচারক, আয়োজক দলের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে নবগঙ্গা নদীর ওপর ‘কালিয়া সেতু’ উদ্বোধনের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


নড়াইলে নবগঙ্গা নদীর ওপর ‘কালিয়া সেতু’ উদ্বোধনের অপেক্ষা

নড়াইল, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ‘কালিয়া সেতু’ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নবগঙ্গার দুই পাড়ের বাসিন্দাদের স্বপ্নের ‘কালিয়া সেতু’টি চালু হলে নড়াইল জেলার সাথে কালিয়া উপজেলা, গোপালগঞ্চ ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-কালিয়া সড়কের বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ কাজের শতভাগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ‘কালিয়া সেতু’টি যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হলে জেলা সদর ও কালিয়া উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র পরিবর্তিত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে এ জনপদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘোঁচাবে এ সেতু।

কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া ঘাট সংলগ্ন নোয়া গ্রামের বাসিন্দা নাইম শেখ বাসসকে বলেন, ‘বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর ‘কালিয়া সেতুটি’ চালু হলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কালিয়া উপজেলা সদরসহ খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবো। আগের মতো আমাদের আর কষ্টের দিন থাকবে না।’

কালিয়া উপজেলার কলেজ রোডের ব্যবসায়ী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি যাতায়াতের জন্য চালু হলে নদীর ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করে আর সময় কাটাতে হবে না। এতে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবো।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা সদরকে বিভক্ত করেছে নবগঙ্গা নদী। এ নদীর উপর বারইপাড়া ঘাটে নির্মাণ হওয়া সেতুটি চালু হলে নড়াইল সদর, কালিয়া উপজেলা ছাড়াও বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ ও খুলনাসহ আশপাশের জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বাসসকে বলেন, ‘এ সেতুর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যাতায়াতের জন্য সেতুটি চালু হলে সদর ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারের যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সর্বস্তরের উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। এতে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে জেলা জুড়ে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগবে।’

তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় জেলা সদর, কালিয়া উপজেলা, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলা-উপজেলার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ আরও বলেন, ইতোমধ্যে সেতুর শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে দ্রুতই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বাসসকে বলেন, নবগঙ্গা নদীর বারইপাড়া ঘাটে নির্মিত ‘কালিয়া সেতু’ চালু হলে নদী তীরবর্তী ও আশপাশের উপজেলা ও জেলার মানুষের জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে। নদীমাতৃক নড়াইল উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মডেল জনপদ হিসেবে সর্বত্র পরিচিত লাভ করবে। যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি চালুর জন্য চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই আন্দোলনের আলোচিত ফাইয়াজ পেলেন এইচএসসিতে জিপিএ-৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


জুলাই আন্দোলনের আলোচিত ফাইয়াজ পেলেন এইচএসসিতে জিপিএ-৫

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নেওয়া এবং হাত বাঁধা অবস্থায় আদালতে নিয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কিশোর হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। এবার তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছেন, বাংলা বিষয় ছাড়া অন্যান্য সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

শনিবার, ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম, যিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ফাইয়াজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর এবং তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৭ জুলাই থেকে তিনি আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করেন। আন্দোলনের সময় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে সামনের সারিতে থাকা আন্দোলনকারীদের জন্য পানি ও খাবার সরবরাহ করতেন এবং স্লোগান দিয়ে তাদের উৎসাহিত করতেন।

আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২৪ জুলাই রাতে মাতুয়াইলের বাসা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২৭ জুলাই তাকে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ফাইয়াজের দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় প্রিজনভ্যানে তোলার একটি ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। পরদিন ২৮ জুলাই ফাইয়াজের জন্মনিবন্ধন ও এসএসসি পরীক্ষার সনদ আদালতে উপস্থাপন করে তার আইনজীবীরা জানান যে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে ঢাকা শিশু আদালত তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ঘোষণা করে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ বাতিল করেন এবং তাকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ২৯ জুলাই হাইকোর্টে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষও স্বীকার করে যে, ফাইয়াজকে রিমান্ডে নেওয়া এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনাটি ভুল ছিল।

জুলাইয়ের সেই বেদনাদায়ক ঘটনা ও কারাবাস ফাইয়াজকে দেশজুড়ে পরিচিত করে তোলে। নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি পুনরায় নিজের পড়াশোনায় মনোযোগী হন। অবশেষে সব বাধা জয় করে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেন আলোচিত এই শিক্ষার্থী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬৪ চরমপন্থি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


৬৪ চরমপন্থি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন

অস্ত্রের গর্জন, চাঁদাবাজি এবং খুনের আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে, অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিন জেলার চরমপন্থিরা। এক সময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণের কারণে আতঙ্কের জনপদ হয়ে উঠেছিল।

কালের পরিক্রমায়, বর্তমানে ওই তিন জেলা অনেকটাই চরমপন্থামুক্ত হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে, আরও ৬৪ চরমপন্থি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এসআরবি-১২ এর প্রধান কার্যালয়ে তাদের আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এসআরবি জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দফায় দফায় আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন। এ ধারাবাহিকতায়, ওই তিন জেলার আরও ৬৪ চরমপন্থি সর্বহারা আলোর পথে ফিরতে চলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%