প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোয় দুর্ব্যবহার, রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোর কারণে রোগীকে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে করা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে গেলে তা দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রিপোর্ট পর্যালোচনা ছাড়াই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী রোগী। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক সংবাদকর্মীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করালে রোগীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগমের স্বামী সরুজ মল্লিক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর স্ত্রী মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর কাছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক নাজমা বেগমকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
নাজমা বেগমের অভিযোগ, পরীক্ষা করানোর জন্য চিকিৎসক তাঁকে নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে যেতে বলেন এবং সেখানে অবস্থানরত এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইঙ্গিত করেন। তবে আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ‘সায়েন্স ল্যাব’ নামের অন্য একটি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাগুলো করান।
পরবর্তীতে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন তাঁর নির্দেশিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো হয়নি, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ডা. রমজান আলী। এ সময় তাঁকে বকাঝকা করা হয় এবং রিপোর্ট যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দেন। এতে তিনি অপমানিত ও হয়রানির শিকার হন।
ঘটনার বিবরণ জানতে হাসপাতালে উপস্থিত হন এক সংবাদকর্মী। এ সময় হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশের কারণ জানতে চেয়ে ডা. রমজান আলী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ওই সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরবর্তীতে চিকিৎসক নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, এর আগেও তিনি ডা. রমজান আলীর কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সেবারও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে কয়েকজন নারী অবস্থান করেন। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করালে রোগীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এদিকে, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একটি অংশের অভিযোগ, দালালচক্রের তৎপরতা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাঁরা প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন। অভিযোগ থাকলেও অনেক রোগী হয়রানি কিংবা পরবর্তী জটিলতার আশঙ্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে চান না।
হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একাধিক সংবাদকর্মীও জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকলেও বিভিন্নভাবে রোগীদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে এসে কোনো রোগী যেন নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। রোগীর পছন্দ, আর্থিক সামর্থ্য এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন