প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইল, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ‘কালিয়া সেতু’ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নবগঙ্গার দুই পাড়ের বাসিন্দাদের স্বপ্নের ‘কালিয়া সেতু’টি চালু হলে নড়াইল জেলার সাথে কালিয়া উপজেলা, গোপালগঞ্চ ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-কালিয়া সড়কের বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ কাজের শতভাগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ‘কালিয়া সেতু’টি যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হলে জেলা সদর ও কালিয়া উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র পরিবর্তিত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে এ জনপদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘোঁচাবে এ সেতু।
কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া ঘাট সংলগ্ন নোয়া গ্রামের বাসিন্দা নাইম শেখ বাসসকে বলেন, ‘বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর ‘কালিয়া সেতুটি’ চালু হলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কালিয়া উপজেলা সদরসহ খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবো। আগের মতো আমাদের আর কষ্টের দিন থাকবে না।’
কালিয়া উপজেলার কলেজ রোডের ব্যবসায়ী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি যাতায়াতের জন্য চালু হলে নদীর ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করে আর সময় কাটাতে হবে না। এতে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবো।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা সদরকে বিভক্ত করেছে নবগঙ্গা নদী। এ নদীর উপর বারইপাড়া ঘাটে নির্মাণ হওয়া সেতুটি চালু হলে নড়াইল সদর, কালিয়া উপজেলা ছাড়াও বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ ও খুলনাসহ আশপাশের জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বাসসকে বলেন, ‘এ সেতুর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যাতায়াতের জন্য সেতুটি চালু হলে সদর ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারের যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সর্বস্তরের উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। এতে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে জেলা জুড়ে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগবে।’
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় জেলা সদর, কালিয়া উপজেলা, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলা-উপজেলার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ আরও বলেন, ইতোমধ্যে সেতুর শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে দ্রুতই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বাসসকে বলেন, নবগঙ্গা নদীর বারইপাড়া ঘাটে নির্মিত ‘কালিয়া সেতু’ চালু হলে নদী তীরবর্তী ও আশপাশের উপজেলা ও জেলার মানুষের জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে। নদীমাতৃক নড়াইল উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মডেল জনপদ হিসেবে সর্বত্র পরিচিত লাভ করবে। যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি চালুর জন্য চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন