০৭:২৭ পি.এম
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম চন্দন সরকার। সে ওই এলাকার পলাশ সরকারের ছেলে।মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে সাড়ে তিন বছরের শিশুটি। যে বয়সে তার বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সে সে হাসপাতালের শয্যায় নির্মম নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে লড়ছে। অবুঝ সন্তানের এই অবস্থা দেখে বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা।
নির্যাতিতার পরিবার ও স্বজনরা জানান, শনিবার দুপুরে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী চন্দন সরকার। ওই সময় চন্দনের বাড়িতে কেউ ছিল না। ঘরে নিয়ে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে শিশুটির মা বিষয়টি টের পেয়ে চন্দনের ঘরের দিকে এগিয়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে চন্দন ঘরের দরজা খুলে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশের পরামর্শে রোববার (২১ জুন) দুপুরে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর পুলিশি পাহারায় শিশুটিকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে উচ্ছেদ দুই শতাধিক অবৈধ দোকান, সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত
এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা অবিলম্বে ধর্ষক চন্দন সরকারকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান,
"এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত চন্দন সরকার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন