ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফুটবলের বিশ্বকাপ রং ছড়িয়েছে মনোহরপুরে


ফুটবলের বিশ্বকাপ রং ছড়িয়েছে মনোহরপুরে

বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া দল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সেজেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে অবস্থিত কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কালের কণ্ঠ।

বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের মতো বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতেছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও। তবে এই উন্মাদনার মধ্যেও আলাদা একটি ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে।

সেখানে বিশ্বকাপ শুধু টেলিভিশনের পর্দায় নয়, যেন নেমে এসেছে মানুষের ঘরে এবং আঙিনায়।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ির চারপাশে পুরো মনোহরপুর সেজেছে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পতাকার রঙে। গ্রাম জুড়ে উড়ছে নানা ধরনের পতাকা। রঙিন দেয়ালচিত্র, প্রিয় তারকাদের প্রতিকৃতি, আর উৎসবমুখরতা- এসবের মাধ্যমে গ্রামটি এখন এক টুকরো বিশ্বকাপ ফ্যান জোনের অবতারণা।

গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে অন্যরকম একটি দৃশ্য। চারপাশে শুধু ফুটবল ও ফুটবলের নানান রূপ। সড়কের দুই পাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা, ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ যেন পরিবেশকে রঙিন করে তুলেছে।

কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ির মূল ফটক থেকে শুরু করে আঙিনা, কাচারিঘর, বসতঘর এবং গাছপালা- সব খানেই বিশ্বকাপের মেজাজ। দেওয়াল, গাছ আর বাঁশের খুঁটিতে টানানো হয়েছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় তারকদের প্রতিকৃতি। কোথাও ফুটবল, কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক; আবার কোথাও ফুটে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের নানা গল্প।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, ৪১ জন আটক

অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করছে অথবা ভিডিও ধারণের পর তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, জানিয়ে দিচ্ছে মনোহরপুরের এই ব্যতিক্রম আয়োজনের গল্প।

গ্রামটিতে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি। তারা প্রিয় তারকার ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত। কারো গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কেউ আবার ব্রাজিলের পতাকা কাঁধে জড়িয়ে ঘুরছে। ফুটবলপ্রেমের এই উৎসব মুছে দিয়েছে বয়সের অদৃশ্য সীমারেখা।

স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন এখন শুধুমাত্র একটি বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পুরো গ্রামের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। দলভেদে সমর্থন থাকলেও সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করছে। সন্ধ্যা নামলেই চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাড়ির উঠোন- সবখানে জমে উঠছে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা।

গ্রামবাসীরা বলছেন, বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এই আয়োজনের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে থাকবে। কারণ এটি শুধু ফুটবল নয়, মানুষের ভালোবাসা, ঐক্য এবং উৎসবপ্রিয়তারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

আরও পড়ুন: সমন্বিত কৃষিনীতি দেশের সমৃদ্ধি দ্রুত টেকসই করবে: রুহুল কবির রিজভী

স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, 'বিশ্বকাপ এলেই আমাদের গ্রামে আলাদা আনন্দ শুরু হয়। কিন্তু এবার যে সাজসজ্জা করা হয়েছে, তা আগের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ আসছে, গ্রামের পরিচিতিও বাড়ছে।'

দর্শনার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, 'ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে চলে এসেছি। গ্রামের মধ্যে এমন আয়োজন সত্যিই অসাধারণ।'

স্থানীয় তরুণ শাওন শ্রাবণ বলেন, 'আমরা চাই বিশ্বকাপের আনন্দ শুধুমাত্র টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না হয়ে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। তাই সবাই মিলে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'

মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা হোসেন বলেন, 'বিশ্বকাপের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এই আয়োজন। নিজেদের উদ্যোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা সাজিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল গ্রামে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা।'

আরও পড়ুন: কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটি হচ্ছে তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।

রোরবার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রী এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফর, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

সফরকে কেন্দ্র করে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা আছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারভিত্তিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার যেভাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা এই নতুন ক্ষেত্রগুলোতে বিস্তৃত হবে।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনা হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার এবং জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীও বটে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রফতানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেলেও এখনো বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং সেই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ মন্তব্য করেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এই সফরটি কেবল কূটনৈতিক দিক থেকে নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে, পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার আশার কথা তিনি জানান।

আনোয়ার শহীদ মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য বিদ্যমান, তবে বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলক কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেলে সেই বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী প্রেরণ করা হলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতিতে নিয়ে আসতে পারে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পরে সরকারি পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ওই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই কারণে শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বললেন তিনি। এতে রেমিট্যান্স আয় একদিকে যেমন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ জানান, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এটি উপযুক্ত সময়। মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এ খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সনদায়নে সহযোগিতা দিলে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা গেলে তা উভয় দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। যদি এফটিএ-সংশ্লিষ্ট আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়, বিনিয়োগ সহজ করা যায়, দক্ষ জনশক্তি রফতানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব ক্রমবর্ধমান করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়, তবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পর এবারের সফরকে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপের দাবি নাগরিক সমাজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপের দাবি নাগরিক সমাজের

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শरणার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় এনজিওগুলোর অংশীদারি বাড়িয়ে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন ওই প্রতিনিধিরা।

রবিবার (২১ জুন) কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়। ‘কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম’ (সিসিএনএফ) এবং ‘কোস্ট ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. ইকবাল উদ্দিন। তিনি বলেন, কক্সবাজারভিত্তিক এবং স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও তিনি স্থানীয় এনজিওর সংজ্ঞা পুনর্র্নিধারণ এবং জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও আরআরআরসির অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে। চলতি ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) আওতায় কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু জুনের বর্তমান সময় পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৩৬৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অভিবাসনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। শরণার্থী শিবিরের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এর বিকল্প উৎসের অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন সংকটকালীন মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। কিন্তু সংকট সমাধানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

অন্যদিকে, ইউএনএইচসিআরের স্ট্র্যাটেজিক ওভারসাইট সার্ভিসের প্রধান মার্সেল গ্রোগান নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরণার্থীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা শরণার্থী শিবিরের পরিবেশ পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলোকে উপেক্ষা করার অভিযোগ দায়ের করেন বক্তারা। তারা বলেন, জাতিসংঘের ঘোষিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসেট’ নীতিতে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন মানবিক কার্যক্রম ও সরাসরি তহবিল বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সংকট উত্তরণে বক্তারা একটি নতুন ‘জয়েন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্ল্যান (জেআরপি ২.০)’ প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন পরিকল্পনাটি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বগুড়া

আলোচিত ৩ ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণে হবে গণশুনানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


আলোচিত ৩ ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণে হবে গণশুনানি

আলোচিত তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণের জন্য গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার বিষয়টি নিয়ে। তিনটি ইউনিয়নের নাম চূড়ান্ত করা হবে গণশুনানির পরে।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার চিঠি জেলায় এসে পৌঁছেছে। চিঠির পর জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগের নামগুলো পরিবর্তন করে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করতে হবে।

এর আগে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া জেলা প্রশাসককে ফোন করে নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তন করার নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, চিঠি পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসন থেকে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

চলতি মাসের ১১ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়।

এতে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি’ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় সৈয়দপুর ভেঙে ‘সীমান্ত’, দেউলি ভেঙে ‘দিগন্ত’ ও ময়দানহাট্টা ভেঙে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অংশগ্রহণে রোববার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে কাতার। উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকটি শুরু হয়।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সকল দিক অন্তর্ভুক্ত করে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিধানগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষায়িত কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন যে, সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকি করতে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ফলো-আপ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

আনসারি জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে কাতার, পাকিস্তান এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে এমন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাবে যা আলোচনাকে তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম করবে।

এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবদানের জন্য তিনি পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আনসারি আলোচনার সাফল্য নিশ্চিত করতে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে এমন একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পরিচালিত সকল প্রচেষ্টার প্রতি দোহা-র পূর্ণ সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এর আগে জানিয়েছে যে, লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদল একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শুরু করেছে।

কয়েকমাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার লক্ষ্যে বুধবার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে কারিগরি আলোচনার জন্য মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল নির্ধারিত সময়ের আগেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছান।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%