০৭:২৮ পি.এম
বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া দল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সেজেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে অবস্থিত কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কালের কণ্ঠ।
বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের মতো বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতেছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও। তবে এই উন্মাদনার মধ্যেও আলাদা একটি ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে।
সেখানে বিশ্বকাপ শুধু টেলিভিশনের পর্দায় নয়, যেন নেমে এসেছে মানুষের ঘরে এবং আঙিনায়।
আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২
সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ির চারপাশে পুরো মনোহরপুর সেজেছে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পতাকার রঙে। গ্রাম জুড়ে উড়ছে নানা ধরনের পতাকা। রঙিন দেয়ালচিত্র, প্রিয় তারকাদের প্রতিকৃতি, আর উৎসবমুখরতা- এসবের মাধ্যমে গ্রামটি এখন এক টুকরো বিশ্বকাপ ফ্যান জোনের অবতারণা।
গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে অন্যরকম একটি দৃশ্য। চারপাশে শুধু ফুটবল ও ফুটবলের নানান রূপ। সড়কের দুই পাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা, ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ যেন পরিবেশকে রঙিন করে তুলেছে।
কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ির মূল ফটক থেকে শুরু করে আঙিনা, কাচারিঘর, বসতঘর এবং গাছপালা- সব খানেই বিশ্বকাপের মেজাজ। দেওয়াল, গাছ আর বাঁশের খুঁটিতে টানানো হয়েছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় তারকদের প্রতিকৃতি। কোথাও ফুটবল, কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক; আবার কোথাও ফুটে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের নানা গল্প।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন: যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, ৪১ জন আটক
অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করছে অথবা ভিডিও ধারণের পর তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, জানিয়ে দিচ্ছে মনোহরপুরের এই ব্যতিক্রম আয়োজনের গল্প।
গ্রামটিতে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি। তারা প্রিয় তারকার ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত। কারো গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কেউ আবার ব্রাজিলের পতাকা কাঁধে জড়িয়ে ঘুরছে। ফুটবলপ্রেমের এই উৎসব মুছে দিয়েছে বয়সের অদৃশ্য সীমারেখা।
স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন এখন শুধুমাত্র একটি বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পুরো গ্রামের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। দলভেদে সমর্থন থাকলেও সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করছে। সন্ধ্যা নামলেই চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাড়ির উঠোন- সবখানে জমে উঠছে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা।
গ্রামবাসীরা বলছেন, বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এই আয়োজনের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে থাকবে। কারণ এটি শুধু ফুটবল নয়, মানুষের ভালোবাসা, ঐক্য এবং উৎসবপ্রিয়তারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
আরও পড়ুন: সমন্বিত কৃষিনীতি দেশের সমৃদ্ধি দ্রুত টেকসই করবে: রুহুল কবির রিজভী
স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, 'বিশ্বকাপ এলেই আমাদের গ্রামে আলাদা আনন্দ শুরু হয়। কিন্তু এবার যে সাজসজ্জা করা হয়েছে, তা আগের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ আসছে, গ্রামের পরিচিতিও বাড়ছে।'
দর্শনার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, 'ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে চলে এসেছি। গ্রামের মধ্যে এমন আয়োজন সত্যিই অসাধারণ।'
স্থানীয় তরুণ শাওন শ্রাবণ বলেন, 'আমরা চাই বিশ্বকাপের আনন্দ শুধুমাত্র টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না হয়ে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। তাই সবাই মিলে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'
মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা হোসেন বলেন, 'বিশ্বকাপের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এই আয়োজন। নিজেদের উদ্যোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা সাজিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল গ্রামে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা।'
আরও পড়ুন: কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন