ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে কেএমসি হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষ


বরিশালে কেএমসি হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষ

বরিশালে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও মৃতের স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

বরিশাল নগরীর বাজার রোডের কেএমসি হাসপাতাল (ক্লিনিক) নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানে বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

মৃত রোগী মনির খান (৩৮) বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের মৃত আব্দুল হক খানের ছেলে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে স্কুল ছাত্রী রিশাকে দায়িত্ব ও ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরস্কার দেন জেলা প্রশাসক

মৃতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, মনির খানকে হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় বুধবার দুপুরে কেএমসি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে মনিরের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা প্রতিবাদ জানালে চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীরা স্বজনদের ওপর হামলা চালান। তবে স্বজনদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটেন। এর পর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মনির খানের মৃত‌্যুর কারণে তার স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনার সৃষ্টি হয়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মৃতের স্বজন আলমগীর হোসেন স্বপন জানিয়েছেন, তিনি শুরুতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা যথাযথ গুরুত্ব দেননি। এমনকি রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এমন তথ্যও জানানো হয়নি। প্রতিবাদ করায় স্বজনদের ওপর চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হামলা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার শিবু জানিয়েছেন, 'চিকিৎসায় কোনো কমতি রাখা হয়নি। তবে রোগীর অবস্থা অনেকটা ক্রিটিক্যাল ছিলো।'

আরও পড়ুন: শেরপুরে কবরের যায়গা না পেয়ে নিজের থাকার ঘরে দাফন করা হয় করিম মিয়ার

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, 'কেএমসি হাসপাতালে ঝামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষ ভুল স্বীকার করলে সমঝোতা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে বিশ্ব, বাড়তে পারে যে ১০ বড় সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ এম


‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে বিশ্ব, বাড়তে পারে যে ১০ বড় সংকট

 

প্রকৃতির এক বিধ্বংসী রূপের নাম ‘এল নিনো’। জলবায়ুর এই বিশেষ পরিবর্তনটি বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক অর্থনীতিকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাগরের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩.৬ ফারেনহাইট) বা তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে নিয়ত বয়ে চলা বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে সাগরের উপরিভাগের উষ্ণ পানি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমুদ্রের স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এবং বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরণকে আমূল বদলে দেয়।

এল নিনোর প্রভাব শুধু জলবায়ুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিতে ফেলে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর ওপর আঘাত হানে। নিচে এল নিনোর সম্ভাব্য ১০টি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছেন যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন সেলউইন, যার নির্মম শিকার হবে মূলত দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মেহনতি মানুষ:

১. তীব্র খরা

বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল কৃষিনির্ভর অঞ্চলগুলো খরার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অংশে এল নিনোর কারণে শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়। এবার এই এল নিনো এমন এক সময়ে আসছে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে একটি বড় সার সংকট চলছে। ফলে তীব্র ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা

বিশ্বের মানুষের দৈনিক ক্যালরি চাহিদার ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে মাত্র চারটি ফসল—গম, ধান, ভুট্টা এবং সয়াবিন থেকে। ভুট্টা এবং ধান এল নিনোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। খরার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ব্রাজিলের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এগুলোর ফলন কমে যায়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও চীনের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশে গম এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় সয়াবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

৩. দাবানলের ঝুঁকি

এল নিনো কিছু অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়, যার ফলে গাছপালা ও বনাঞ্চল শুষ্ক এবং সহজেই অগ্নিগ্রাহী হয়ে ওঠে। ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে ব্রাজিলে ভয়াবহ দাবানলে লাখ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, যা আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগবে।

৪. অতিবৃষ্টি ও বন্যা

এল নিনোর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকা, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র ঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে মাটি পানি শোষণ করতে পারে না। ফলে পানি শুষে নেওয়ার বদলে তা ওপর দিয়ে বয়ে যায় (রান-অফ) এবং বৃষ্টির মধ্যবর্তী দীর্ঘ খরা দিনগুলোতে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়।

৫. কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি

অতিরিক্ত গরমের কারণে বিশ্বের কিছু অংশে কয়লার ব্যবহার রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সৃষ্টি করে। ফলে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের চাহিদা বহুগুণ বাড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর ভারত ৭০ শতাংশ এবং চীন প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভরশীল।

৬. বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা গ্রিড বিকল

খরা বা অনাবৃষ্টির কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন—কলম্বিয়া তার মোট বিদ্যুতের ৬৫ শতাংশ জলবিদ্যুৎ থেকে পায়। ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর সময় দেশটিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বিদ্যুতের দাম বেড়ে যায় এবং ব্ল্যাকআউট বা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। ১৯৯২ সালের এল নিনোর সময় কলম্বিয়া সরকারকে বিদ্যুৎ রেশনিং করতে হয়েছিল।

৭. মাছের সংখ্যা হ্রাস

এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে নিচ থেকে ঠান্ডা ও পুষ্টিকর পানি ওপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফাইটোপ্ল্যঙ্কটনের মতো কণা উদ্ভিদের পুষ্টি কমে যায় এবং অ্যানচোভি ও সার্ডিনের মতো ছোট মাছ পর্যাপ্ত খাবার পায় না। বড় শিকারি মাছগুলো তখন খাবারের খোঁজে অন্যত্র চলে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া, মেক্সিকো, পেরু, ইকুয়েডর থেকে শুরু করে পাপুয়া নিউগিনি ও মাইক্রোনেশিয়ার মৎস্য শিল্প এর ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে।

৮. ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

চরম আবহাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাপমাত্রা বাড়লে ফসলের উর্বরতা কমে যায়, ফলে কৃষকরা জমিতে বেশি সার ব্যবহার করতে বাধ্য হন। বর্তমান বৈশ্বিক সার সংকটের প্রেক্ষাপটে চীন, কিছু উপসাগরীয় দেশ এবং আলজেরিয়া নিজেদের সার রপ্তানি সীমিত করতে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। রাশিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের (সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান) রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে সাধারণ একটি কৃষি উপকরণ এখন বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন বিরোধের কারণ হয়ে উঠছে।

৯. হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত অসুস্থতা

তীব্র গরমের প্রভাব সমাজে সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। যারা বাইরে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন, যেমন—কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিক, তাদের হিট স্ট্রোক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

১০. গৃহযুদ্ধ ও সামাজিক সংঘাত

ফসলের কম ফলন এবং দুর্বল অর্থনীতি প্রায়শই সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরগুলোতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৯৫০ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রায় ২১ শতাংশ সংঘাত এই ধরনের জলবায়ুগত পরিবর্তনের সাথে জড়িত। যেমন সুদানের দারফুরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা ও ফসলহানি সম্পদের সংকট তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

মুক্তির উপায় কী?

যদি এই ১০টি ভয়াবহ পরিস্থিতি আপনাকে হতাশ করে, তবে এই পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট থেকে মুক্তির দুটি উপায়ও রয়েছে:

১. নবায়নযোগ্য শক্তি: জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করার প্রযুক্তি ও জ্ঞান আমাদের রয়েছে। তবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন, জ্বালানি এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করলে এই সমাধানগুলোর সুফল গরিব দেশগুলো পাবে না।

২. টেকসই কৃষিব্যবস্থা: এমন প্রতিরোধী কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে। তবে রাসায়নিক-নির্ভর এবং কেবল রপ্তানিমুখী কৃষিব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও রূপান্তর প্রয়োজন।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বয়সের ছাপ কমিয়ে ত্বকের তারুণ্য ফেরানোর উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫০ এম


বয়সের ছাপ কমিয়ে ত্বকের তারুণ্য ফেরানোর উপায়

আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে নানা পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো চোয়ালের অংশের ত্বক ও পেশির ঝুলে যাওয়া, যা 'জাওলস' নামে পরিচিত। এই কারণে মুখের আকৃতি আগের মতো তীক্ষ্ণ ও টান টান থাকে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট ফেস যোগা বা মুখের ব্যায়াম নিয়মিত করলে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই ব্যায়ামগুলো মুখের পেশিকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে— জাওলস কেন হয়? মূলত জাওলস বলতে বোঝানো হয় চোয়ালের আশপাশের ত্বক ও পেশির ঢিলে হয়ে যাওয়াকে। এর প্রধান কারণ হলো বয়স বৃদ্ধি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের পরিমাণ কমে যেতে থাকে। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক দৃঢ়তা হারাতে শুরু করে এবং নিচের দিকে ঝুলতে শুরু করে।

এটি সাধারণত পরিবারে দেখা যায় বা জিনগত প্রবণতার কারণে ঘটে। নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব, শরীরে পানির অভাব, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারের অভাব, ধূমপান ও মাদকাসক্তি চোয়ালের পেশির কম ব্যবহার এ সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

ফেস যোগা মুখ ও চোয়ালের পেশিগুলোকে সক্রিয় করে এবং ওই অংশে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এটি ত্বকের কোষ পুনর্গঠনের সুযোগও তৈরি করে এবং মুখে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি ও ফোলা ভাব কমাতে সহায়তা করে। অনেকের মুখ ও চোয়ালের পেশিতে অপ্রয়োজনীয় টান থাকে, ফেস যোগা সেই চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ফেস যোগা কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। তাই এক-দুদিনে ফল পাওয়া সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত অনুশীলন করলে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে পেশির টোন উন্নত হতে শুরু করবে। ৮ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে জাওলস আরও স্পষ্ট ও দৃঢ় দেখাতে সক্ষম হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চর্চা করলে মুখের গঠনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এছাড়াও আপনার জিভকে মুখের ওপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে রাখতে হবে, এবং একই সঙ্গে দাঁত হালকাভাবে জোড়া রাখতে হবে এবং মুখ বন্ধ রেখেই নাক দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। এসব অভ্যাস নিয়মিত করলে চোয়াল ও মুখের মধ্যবর্তী অংশে দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে।

নিচের চোয়ালকে যতটা সম্ভব সামনের দিকে এগিয়ে দিন, যতক্ষণ না টান অনুভব করছেন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার ছেড়ে দিন। ১০ বার করে ২ সেট, দিনে ২ বার করলে ফল পাবেন।

ঠোঁট দিয়ে বড় 'শূন্য' আকৃতি তৈরি করুন। দাঁত যেন অবশ্যই ঠোঁটের আড়ালে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ধীরে ধীরে মাথা উপরের দিকে তুলুন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। ৩ থেকে ৫ বারের সেট করুন। দিনে দুবার এ ব্যায়াম করলে উপকৃত হবেন।

মুখের দুই প্রান্ত বাইরের দিকে টেনে ধরুন যাতে দাঁত দেখা যায়। এতে ঘাড় ও চোয়ালে টান অনুভব হবে। ১৫ সেকেন্ড এভাবে ধরে থাকুন। ৮ থেকে ১০ বারের সেট করুন। সারা দিনে ২ সেট করলেই উপকৃত হবেন।

এবার সোজা হয়ে বসুন। থুতনিকে গলার দিকে টেনে রেখে ডাবল চিন তৈরি করুন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। ১০ বার করে ২ সেট, দিনে দুবার এ ব্যায়াম করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেলের ধাক্কা নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে নিহত অটোরিকশাচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০১ এম


মোটরসাইকেলের ধাক্কা নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে নিহত অটোরিকশাচালক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষে হৃদয় নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নিহত হন। ঘটনার স্থানটি ছিল বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার সময় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা পূর্ব বাজারে।

নিহত হৃদয় উপজেলার শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুরের ছেলে হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় ধোড়করা পূর্ব বাজারে একটি দোকান থেকে তেল কিনতে গিয়ে শাকতলা গ্রামের আসিফ ও বাদশার মোটরসাইকেলের সঙ্গে পাশ্ববর্তী ঘোষতল গ্রামের প্রান্তের মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। এই ঘটনার পর উভয়পক্ষের মধ্যে একটি বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব জানান, পরে প্রান্ত মোবাইল ফোনে খবর দিলে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ঘোষতল গ্রামের আরও ৫-৬ জন বাজারে এসে ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে মারধর করতে শুরু করে। একসময় হৃদয় গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজিব তারকে ছুরিকাঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহত ঘোষণা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আকিব বলেন, আহত যুবক হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।

নিহতের বড় ভাই ফারুক হোসেন বলেন, "আমার ভাই অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। সন্ধ্যায় চা খাওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বের হয়েছিল। পরে লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি, তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন জানান, তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সময় হৃদয় নিহত হন। তার শরীরে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি তদন্ত করা হচ্ছে, যাতে দেখা যায় অভিযুক্তরা কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য কি না।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৮ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন দেলোয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


৫৮ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন দেলোয়ার

৫৮ বছর পর, পরিবার ফিরে পেলেন দেলোয়ার। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ইতিহাসের স্বাক্ষী হলো নতুন এক প্রজন্ম। এই ঘটনার কারণে স্থানীয়ভাবে এখন ‘অলৌকিক প্রত্যাবর্তন’ নামে আলোচনা চলছে।

দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী (বামে) ও পরিবারের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত।

চাঁদপুরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী এবার ফিরে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয়। তার সঙ্গে ফিরে এসেছেন পরিবার এবং শেকড়ের ঠিকানা।

পারিবারিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র ৫-৬ বছর বয়সে দুলাল তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় কোনো এক পরিবারের পালক সন্তান হিসেবে আশ্রয়ে বড় হন। তার শৈশবে তিনি স্নেহ আর ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে, তার প্রকৃত পরিচয় তখন অজানাই থেকে গেছে।

পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু হয় তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিবের মাধ্যমে। সামাজিক বাস্তবতা এবং পরিচয় সংকটের প্রশ্ন সেখানে উত্থাপিত হয়, আর সেই অনুসন্ধানের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে কোরবানির ঈদের সময় একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতির ধারাবাহিকতায় কিছু অস্পষ্ট সূত্র উঠে আসে নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নামের। এই স্মৃতি থেকে শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

প্রযুক্তির সাহায্যে গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক এবং গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়।

বুধবার (১০ জুন) কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশব স্মৃতির সঙ্গে এলাকার পুরনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে, বাড়ির পুরনো গেট, খালপথ, আমগাছ এবং লবণ তোলা ঘাট নামের একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই বিদ্যমান ছিল। একইভাবে জানা যায় যে, একসময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সবশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে রক্তের সম্পর্কের মিল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদ মুহূর্তেই কান্না, আবেগ এবং আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী তার নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর স্ত্রী, সন্তান এবং আত্মীয়দের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে পরিবার এবং স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি হিসেবে ভাবছেন, অন্যদিকে তেমনি এটি একটি বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলনের ঘটনা।

স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি পরিবারের ফিরে পাওয়া নয়, বরং রক্তের টান কখনো মুছে যায় না তার এক বাস্তব এবং জীবন্ত প্রমাণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%