০৩:১৪ এম
৫৮ বছর পর, পরিবার ফিরে পেলেন দেলোয়ার। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ইতিহাসের স্বাক্ষী হলো নতুন এক প্রজন্ম। এই ঘটনার কারণে স্থানীয়ভাবে এখন ‘অলৌকিক প্রত্যাবর্তন’ নামে আলোচনা চলছে।
দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী (বামে) ও পরিবারের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত।
চাঁদপুরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী এবার ফিরে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয়। তার সঙ্গে ফিরে এসেছেন পরিবার এবং শেকড়ের ঠিকানা।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ২৭ মামলার আসামি পিয়াল আহম্মেদ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ছয় ধরনের অস্ত্র
পারিবারিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র ৫-৬ বছর বয়সে দুলাল তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় কোনো এক পরিবারের পালক সন্তান হিসেবে আশ্রয়ে বড় হন। তার শৈশবে তিনি স্নেহ আর ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে, তার প্রকৃত পরিচয় তখন অজানাই থেকে গেছে।
পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু হয় তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিবের মাধ্যমে। সামাজিক বাস্তবতা এবং পরিচয় সংকটের প্রশ্ন সেখানে উত্থাপিত হয়, আর সেই অনুসন্ধানের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে কোরবানির ঈদের সময় একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতির ধারাবাহিকতায় কিছু অস্পষ্ট সূত্র উঠে আসে নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নামের। এই স্মৃতি থেকে শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।
প্রযুক্তির সাহায্যে গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক এবং গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়।
বুধবার (১০ জুন) কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশব স্মৃতির সঙ্গে এলাকার পুরনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে, বাড়ির পুরনো গেট, খালপথ, আমগাছ এবং লবণ তোলা ঘাট নামের একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই বিদ্যমান ছিল। একইভাবে জানা যায় যে, একসময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে মহাষষ্ঠীতে শুরু হল ১,৯৪৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা
সবশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে রক্তের সম্পর্কের মিল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদ মুহূর্তেই কান্না, আবেগ এবং আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।
বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী তার নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর স্ত্রী, সন্তান এবং আত্মীয়দের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে পরিবার এবং স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি হিসেবে ভাবছেন, অন্যদিকে তেমনি এটি একটি বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলনের ঘটনা।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি পরিবারের ফিরে পাওয়া নয়, বরং রক্তের টান কখনো মুছে যায় না তার এক বাস্তব এবং জীবন্ত প্রমাণ।
আরও পড়ুন: রাউজানে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে আলম-আজিজ বাহিনী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন