০৯:০৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় সুমন রেজা নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিজের শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে বগুড়া জেলা পুলিশে কর্মরত এই কনস্টেবল পলাতক রয়েছেন। এজন্য তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১২ জুন) সুমন রেজার স্ত্রী লাবণ্য আক্তার বাদী হয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
রোববার (১৪ জুন) শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল সুমনের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন বিকেল ৩টার দিকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে সুমনের ১২ বছর বয়সী শ্যালিকা বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাসায় ফিরে আসেনি। নিখোঁজের পরদিন ৮ জুন পরিবার থেকে শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, প্রাইভেটে যাওয়ার পথে কনস্টেবল সুমন রেজা মোটরসাইকেলে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর থেকে সুমন রেজা এবং তার শ্যালিকা দুজনই নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে এর আগে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল। গত ১৫ মে সুমন রেজাসহ তিন কনস্টেবল গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে বগুড়া চতুর্থ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মরত এপিবিএন সদস্য তানজিমকে ডেকে তার মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে দাবি করেন এবং সেটি ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে মোটরসাইকেলটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় তানজিম বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় সেবার সুমন রেজার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান জানান, কনস্টেবল সুমন রেজা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার এবং নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নারী শিক্ষা প্রসার, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ছোট ও দুগ্ধপোষ্য সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রাশেদা বেগম হীরার টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ডে কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। ড. মিলন বলেন, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও পর্যায়ক্রমে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চাহিদা, প্রশাসনিক সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং সেবা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, নারী শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর করতে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব নিয়ে কটূক্তি এবং দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) রাতে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানা যায়, জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চলমান ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করবে সংগঠনটি। ঢাকার মূল মিছিলটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। জানা গেছে, বাজেট অধিবেশনে প্রবীণ সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক (হিজাব) ইঙ্গিত করে দেওয়া বক্তব্য এবং সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন যে, করদাতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা, কর ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ভিত্তি সম্প্রসারণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আজ রোববার রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থ বিল ২০২৬-২৭ এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে যাতে দ্রব্যমূল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও শুল্কে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি এসময় বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং ব্যবসা সহজ করতে সরকার বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ও সহজ ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীকে জটিল রিটার্ন, অডিট বা হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলায় পড়তে হবে না। ব্যবসায়ীরা অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন নিয়ে নির্ধারিত টার্নওভার কর পরিশোধ করতে পারবেন।
তিনি জানান, ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া আয়করের ই-টিআইএ-এর মতো তাৎক্ষণিক করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করবে, যার মাধ্যমে সহজেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যান তামাক খাতে কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযোজন করা হবে। সাধারণ ভোক্তারা মোবাইলের মাধ্যমে যাচাই করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না।
তিনি বলেন, ‘কর ফাঁকির তথ্য দিলে ভোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরো বলেন, তামাক খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য করের আওতার বাইরে থেকে যায়। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ভবিষ্যতে একই ব্যবস্থা অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে।
আবদুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানি ও ভ্যাট রিটার্নও সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং নতুন ব্যবস্থায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ, আন্তঃকমিশনারেট কন্টিনিউয়াস বন্ড চালু, অনুমোদিত অর্থনৈতিক অপারেটর (এইও) সুবিধা সহজীকরণ এবং অনুগত প্রতিষ্ঠানের জন্য অডিট শিথিলসহ বিভিন্ন ডিরেগুলেটরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ