ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রূপগঞ্জে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ইউএনও


রূপগঞ্জে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ইউএনও

জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রূপগঞ্জে বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এই কর্মসূচিটি রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে ফুল, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, পথচারী, পরিবহন চালক ও সাংবাদিকদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন: চকরিয়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

কর্মসূচির উপলক্ষ্যে রূপগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম.এ মোমেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম রোবেল মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।

সভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন, পূর্বাচল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক দুলাল বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহনাজ পারভীন, রূপগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান ও সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পংকজ কুমার পালসহ আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে বেশি করে ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। সভা শেষে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়ন কোথায়?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় টিম এবং ডিপ্লোম্যাটিক কোর টিমের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বিশেষ ম্যাচ, যেখানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক নিজে অংশগ্রহণ করেছেন। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রীতি ম্যাচটিতে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশে কর্মরত তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইতালি, সুইডেন ও ইরানের কূটনীতিকরা। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে লড়াই করেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকারা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ।

খেলা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক মন্তব্য করেন, বর্তমানে সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সচেতনতামূলক বিষয়গুলো আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপ ফুটবল দরজায় কড়া নাড়ছে এবং তারা বিশ্বের কাছে জানান দিতে চান যে, তারা একটি ফুটবলপ্রেমী জাতি। তিনি জানান, স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির (ক্রীড়া কূটনীতি) মাধ্যমে তারা বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নেবে না, তবে দেশের মানুষের মধ্যে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার কোনো কমতি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। তবে তাদের উদ্দীপনার কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমান সরকার ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শূন্য থেকে শুরু করতে চান। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। রাতারাতি বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা দেশের খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়ন করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া কূটনীতিকে আরও বেগবান করতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মো. আমিনুল হক বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘স্পোর্টস ডিপ্লেমাসি উইং’ খোলা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এই উইংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার, আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার, আটক ১

রাজধানী ঢাকায় বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রাজধনেশ– ৩টি,

চশমা-পরা হনুমান– ৩টি,

পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ– ১৩টি,

টিয়া পাখি– ১২টি,

ময়না– ১টি,

লজ্জাবতী বানর– ৩টি,

ঈগল পেঁচা– ১টি,

এশিয়ান পাম সিভেট– ৩টি,

সজারু– ৩টি।

এভাবে সর্বমোট ৪২টি বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে আটক ব্যক্তি হলেন মো. সাজুদ্দিন (২৪)। তার স্থায়ী ঠিকানা পোড়াগাঁও, নালিতাবাড়ী, শেরপুর। সাজুদ্দিনের বাবা মো. মগবুল হোসেন এবং মাতা মোসাম্মৎ ছাহেরা বেগম। তার আটক করা হয় ঢাকার মিরপুর-১২ এলাকার ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন সোনালী বাজার এলাকা থেকে।

অভিযানটি পরিচালনা করেছেন অসীম মল্লিক, যিনি বন্যপ্রাণী পরিদর্শক, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, বন অধিদফতর, আগারগাঁও, ঢাকা।

উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য আপাতত বন অধিদফতরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রাণীগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে স্থানান্তর করা হবে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সঙ্গে মোহাম্মদ হাদিস রহমান জড়িত রয়েছেন। তিনি এরই মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া বন বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হেফাজতে আছেন।

তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেছে যে, হাদিস রহমানের স্ত্রী খুশি অনলাইনের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রম সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে এবং পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন অধিদফতর বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ আইন লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন বন্যপ্রাণী শিকার, সংগ্রহ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় বা পাচারের সঙ্গে জড়িত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

ইরানের যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এর ফলে ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। তবে বিষয়টি বিস্ময়ের, কেন তেলের বাজার এখনও তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে? এটি যেন বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গত তিন মাস ধরে সংঘাত শুরু হয়ে আছে। এই সংঘাতের কারণে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। সাথে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধও। যদিও হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বাড়েনি।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের সময়ের তুলনায় এই পথে একদম দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও বড় ধরনের সংকটের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সম্ভবত একটি কারণ হলো, হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও কিছু পরিমাণ তেল গোপনে কিংবা নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

গোপন প্রবাহ বাজারের ধাক্কা সামলাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু তেলবাহী জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে যাচ্ছে। এসব তেল পরিবহণকে বলা হচ্ছে ‘ক্ল্যান্ডেস্টাইন ফ্লো’ বা গোপন প্রবাহ।

জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন আনুমানিক ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে পরিবহণ হয়েছে। যদিও যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো। এই পরিমাণ সামান্য হলেও এটি বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে লিখেছেন, “নৌ অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় পতনের পরও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে।”

র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি বলেছেন, গোপন তেল পরিবহন সংকটকে কিছুটা বিলম্বিত অথবা কম তীব্র করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা ধারণা করেছিলাম যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শূন্য থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু এই গোপন প্রবাহের কারণে প্রকৃত পরিমাণ একটু বেশি হতে পারে।”

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রাণঘাতী সংকটটা পুরোপুরি এড়ানোর মতো যথেষ্ট নয়, বরং এটি কেবল বাজারের ওপর চাপ কমাচ্ছে।

পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল এমন জাহাজ বহন করেছে, যেগুলো ইরানি প্রতিষ্ঠানের কাছে ফি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল ছিল ‘ভূতের মতো’ পরিবহন- অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ।

স্টুয়ার্ট বলেন, “এই গোপন প্রবাহ সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করছে। বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা আমার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে নেমে এসেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে দাম ছিল ৭০ ডলার, সেখানে এটি বেশি হলেও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারের তুলনায় কম।

তবে বাজারের স্থিতিশীলতার পেছনে গোপন তেল পরিবহন একমাত্র কারণ নয়। পাইপার স্যান্ডলারের মতে, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর থেকে বিকল্প পথে বের হচ্ছে। এর বড় অংশ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে, যা দেশটির তেল ক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করছে।

এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন তেল আমদানি কমাচ্ছে এবং নিজেদের বড় মজুত থেকে চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমেছে।

জেপি মরগানের কানেভা বলেছেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা মানে সংকট ছোট নয়; বরং বাজার ব্যয়বহুল উপায়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

যদিও কিছু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বর্তমান বাজার বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন স্তরের দিকে যাচ্ছে।

জান স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেছেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।” তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, জুলাই ও আগস্টে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারের ওপর উঠতে পারে। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন ৫ ডলারের বেশি হতে পারে, যেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৪ দশমিক ২০ ডলার।

স্টুয়ার্টের মতে, আরও জরুরি তেল ছাড়তে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহার কমাতে হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি মন্তব্য করেছেন, “মানুষকে পরিবর্তনে রাজি করাতে হবে। আর দাম বেশি হলে সেটি করা অনেক সহজ হয়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অবস্থান সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীল করে রাখলেও, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা আসার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর বাজারে রসালো লিচু, সতর্ক থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


রাজধানীর বাজারে রসালো লিচু, সতর্ক থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

বৈশাখ মাস পেরিয়ে জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে, ঢাকার রাজধানীসহ দেশের বাজারগুলোতে রসালো, সুস্বাদু দেশীয় ফলে পূর্ণ হয়েছে। ফল উৎসবের শুরুতেই, রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, ব্যস্ত সড়কের মোড় এবং ফলের আড়তে বিখ্যাত ও সুমিষ্ট লিচু হাজির হয়েছে। কিন্তু লিচুর স্বাদ নেয়ার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করছেন।

অতুলনীয় স্বাদ, মিষ্টি ঘ্রাণ এবং রসালো ফল হওয়ায়, এই ফল সবার কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। এবারেও বেশ কয়েক জাতের লিচু বাজারে দেখা যাচ্ছে, এবং ঢাকার ক্রেতাদের মন জয় করেছে এই ফলটি।

ঢাকার বাজারে এখন লিচুর সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মূলত চায়না থ্রি, চায়না টু, বেদানা এবং সবার পরিচিত বোম্বাই জাতের লিচু ঢাকার পাইকারি আড়তে আসছে, এবং সেখান থেকে রাজধানীর অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ঢাকার বাজারে লিচুর দাম কিছুটা চড়া বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা। তবে কেনাকাটায় দামাদামির ক্ষেত্রে স্থান এবং মানভেদে কেউ কেউ ২৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে লিচু কেনা-বেচা করছেন।

বিক্রেতারা আকার ও জাতভেদে প্রতি ১০০টি লিচুর দাম ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন। একইভাবে বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, গুলশান, মিরপুর-১০ গোল চত্বর এবং বনানীর মতো এলাকায় লিচু কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে, তবে পাইকারি বাজারের আশপাশে দাম তুলনামূলক কিছুটা কম।

তবে এসব লিচু ক্ষতিকর কেমিকেলমুক্ত কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে বিক্রেতারা 'না' বললেও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। অন্যদিকে, ক্রেতাদের মধ্যে লিচুতে কেমিকেল দেয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়ে তেমন ভাবনা নেই। বরং লিচুর প্রতি তাদের আস্থা এবং আগ্রহ বেশি। অনেকেই পরিবারের জন্য আগ্রহ নিয়ে লিচু কিনে বাড়ি ফিরছেন।

এক ক্রেতা ব্যাংকার মোহাম্মদ সেলিম, যিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য নিয়মিত লিচু কিনছেন, তার কথায়, "দু-একদিন পরপর আমি লিচু কিনি। লিচু আমার অত্যন্ত প্রিয় ফল এবং বছরের এই ছোট সময়েই এই ফলটি পাই।"

রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় ৪০ বছর ধরে লিচু বিক্রি করছেন জাহাঙ্গীর। তার দেয়া তথ্যমতে, বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড়, আকর্ষণীয় এবং প্রিমিয়াম জাতের লিচু হলো চায়না-থ্রি, যা প্রতি ১০০ পিস ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো এবং চায়না-থ্রির মতো দেখতে 'বেদানা' জাতের ১০০টি লিচু ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ও সাধারণ আগাম জাতের বোম্বাই ও মাদরাজি লিচুর দাম কিছুটা কম, যা প্রতি ১০০ পিস ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজারের ফলের আড়তের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, "এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে এবং চলতি জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে ঢাকার বাজারে লিচুর বেচাকেনা চলবে।"

এদিকে, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ তীব্র গরম ও কড়া রোদের কারণে একসাথে অনেক লিচু পাকতে শুরু করেছে। এই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে বর্তমানে লিচুর দাম কিছুটা কমেছে; তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে লিচুর দাম বাড়বে বলেও জানান।

দেশের লিচু পরিস্থিতি নিয়ে কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২.২ থেকে ২.৩ লাখ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়। তবে এই সুস্বাদু ফলের মৌসুম এবং সংগ্রহ সময়কাল থাকে মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ।

স্বল্পস্থায়ী এই মৌসুমকে ঘিরে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও জানান, সম্প্রতি উচ্চ তাপমাত্রা এবং খরা আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানে লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। তবে, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু উৎপাদক ফল সংগ্রহের ঠিক আগে ক্ষতিকর বালাইনাশক স্প্রে করে থাকেন।

লিচুতে কেমিকেল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "ভোক্তাদের জন্য আশার কথা হলো, লিচুর 'সেল্ফ লাইফ' খুব কম হওয়ায় এটি দীর্ঘসময় সংরক্ষণে রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করা হয় না। ঝুঁকিটি মূলত হার্ভেস্টের আগে ব্যবহৃত পেস্টিসাইডের কারণে।" তিনি লিচু খাওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, "লিচু খাওয়ার আগে কলের প্রবাহমান পানিতে অন্তত দুই থেকে তিন মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে; অথবা এক লিটার পানিতে এক চামচ লবণ গুলিয়ে লিচুগুলো ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%