ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার, আটক ১


বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার, আটক ১

রাজধানী ঢাকায় বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রাজধনেশ– ৩টি,

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চশমা-পরা হনুমান– ৩টি,

পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ– ১৩টি,

টিয়া পাখি– ১২টি,

ময়না– ১টি,

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

লজ্জাবতী বানর– ৩টি,

ঈগল পেঁচা– ১টি,

এশিয়ান পাম সিভেট– ৩টি,

সজারু– ৩টি।

আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের

এভাবে সর্বমোট ৪২টি বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে আটক ব্যক্তি হলেন মো. সাজুদ্দিন (২৪)। তার স্থায়ী ঠিকানা পোড়াগাঁও, নালিতাবাড়ী, শেরপুর। সাজুদ্দিনের বাবা মো. মগবুল হোসেন এবং মাতা মোসাম্মৎ ছাহেরা বেগম। তার আটক করা হয় ঢাকার মিরপুর-১২ এলাকার ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন সোনালী বাজার এলাকা থেকে।

অভিযানটি পরিচালনা করেছেন অসীম মল্লিক, যিনি বন্যপ্রাণী পরিদর্শক, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, বন অধিদফতর, আগারগাঁও, ঢাকা।

উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য আপাতত বন অধিদফতরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রাণীগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে স্থানান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন: মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ, গ্রেফতারের দাবি

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সঙ্গে মোহাম্মদ হাদিস রহমান জড়িত রয়েছেন। তিনি এরই মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া বন বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হেফাজতে আছেন।

তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেছে যে, হাদিস রহমানের স্ত্রী খুশি অনলাইনের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রম সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে এবং পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন অধিদফতর বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ আইন লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন বন্যপ্রাণী শিকার, সংগ্রহ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় বা পাচারের সঙ্গে জড়িত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নারীর মৃত্যু, তামাবিল দিয়ে লাশ হস্তান্তর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

ইরানের যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এর ফলে ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। তবে বিষয়টি বিস্ময়ের, কেন তেলের বাজার এখনও তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে? এটি যেন বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গত তিন মাস ধরে সংঘাত শুরু হয়ে আছে। এই সংঘাতের কারণে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। সাথে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধও। যদিও হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বাড়েনি।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের সময়ের তুলনায় এই পথে একদম দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও বড় ধরনের সংকটের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সম্ভবত একটি কারণ হলো, হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও কিছু পরিমাণ তেল গোপনে কিংবা নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

গোপন প্রবাহ বাজারের ধাক্কা সামলাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু তেলবাহী জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে যাচ্ছে। এসব তেল পরিবহণকে বলা হচ্ছে ‘ক্ল্যান্ডেস্টাইন ফ্লো’ বা গোপন প্রবাহ।

জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন আনুমানিক ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে পরিবহণ হয়েছে। যদিও যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো। এই পরিমাণ সামান্য হলেও এটি বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে লিখেছেন, “নৌ অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় পতনের পরও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে।”

র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি বলেছেন, গোপন তেল পরিবহন সংকটকে কিছুটা বিলম্বিত অথবা কম তীব্র করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা ধারণা করেছিলাম যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শূন্য থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু এই গোপন প্রবাহের কারণে প্রকৃত পরিমাণ একটু বেশি হতে পারে।”

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রাণঘাতী সংকটটা পুরোপুরি এড়ানোর মতো যথেষ্ট নয়, বরং এটি কেবল বাজারের ওপর চাপ কমাচ্ছে।

পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল এমন জাহাজ বহন করেছে, যেগুলো ইরানি প্রতিষ্ঠানের কাছে ফি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল ছিল ‘ভূতের মতো’ পরিবহন- অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ।

স্টুয়ার্ট বলেন, “এই গোপন প্রবাহ সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করছে। বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা আমার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে নেমে এসেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে দাম ছিল ৭০ ডলার, সেখানে এটি বেশি হলেও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারের তুলনায় কম।

তবে বাজারের স্থিতিশীলতার পেছনে গোপন তেল পরিবহন একমাত্র কারণ নয়। পাইপার স্যান্ডলারের মতে, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর থেকে বিকল্প পথে বের হচ্ছে। এর বড় অংশ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে, যা দেশটির তেল ক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করছে।

এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন তেল আমদানি কমাচ্ছে এবং নিজেদের বড় মজুত থেকে চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমেছে।

জেপি মরগানের কানেভা বলেছেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা মানে সংকট ছোট নয়; বরং বাজার ব্যয়বহুল উপায়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

যদিও কিছু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বর্তমান বাজার বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন স্তরের দিকে যাচ্ছে।

জান স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেছেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।” তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, জুলাই ও আগস্টে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারের ওপর উঠতে পারে। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন ৫ ডলারের বেশি হতে পারে, যেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৪ দশমিক ২০ ডলার।

স্টুয়ার্টের মতে, আরও জরুরি তেল ছাড়তে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহার কমাতে হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি মন্তব্য করেছেন, “মানুষকে পরিবর্তনে রাজি করাতে হবে। আর দাম বেশি হলে সেটি করা অনেক সহজ হয়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অবস্থান সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীল করে রাখলেও, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা আসার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর বাজারে রসালো লিচু, সতর্ক থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


রাজধানীর বাজারে রসালো লিচু, সতর্ক থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

বৈশাখ মাস পেরিয়ে জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে, ঢাকার রাজধানীসহ দেশের বাজারগুলোতে রসালো, সুস্বাদু দেশীয় ফলে পূর্ণ হয়েছে। ফল উৎসবের শুরুতেই, রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, ব্যস্ত সড়কের মোড় এবং ফলের আড়তে বিখ্যাত ও সুমিষ্ট লিচু হাজির হয়েছে। কিন্তু লিচুর স্বাদ নেয়ার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করছেন।

অতুলনীয় স্বাদ, মিষ্টি ঘ্রাণ এবং রসালো ফল হওয়ায়, এই ফল সবার কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। এবারেও বেশ কয়েক জাতের লিচু বাজারে দেখা যাচ্ছে, এবং ঢাকার ক্রেতাদের মন জয় করেছে এই ফলটি।

ঢাকার বাজারে এখন লিচুর সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মূলত চায়না থ্রি, চায়না টু, বেদানা এবং সবার পরিচিত বোম্বাই জাতের লিচু ঢাকার পাইকারি আড়তে আসছে, এবং সেখান থেকে রাজধানীর অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ঢাকার বাজারে লিচুর দাম কিছুটা চড়া বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা। তবে কেনাকাটায় দামাদামির ক্ষেত্রে স্থান এবং মানভেদে কেউ কেউ ২৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে লিচু কেনা-বেচা করছেন।

বিক্রেতারা আকার ও জাতভেদে প্রতি ১০০টি লিচুর দাম ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন। একইভাবে বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, গুলশান, মিরপুর-১০ গোল চত্বর এবং বনানীর মতো এলাকায় লিচু কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে, তবে পাইকারি বাজারের আশপাশে দাম তুলনামূলক কিছুটা কম।

তবে এসব লিচু ক্ষতিকর কেমিকেলমুক্ত কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে বিক্রেতারা 'না' বললেও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। অন্যদিকে, ক্রেতাদের মধ্যে লিচুতে কেমিকেল দেয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়ে তেমন ভাবনা নেই। বরং লিচুর প্রতি তাদের আস্থা এবং আগ্রহ বেশি। অনেকেই পরিবারের জন্য আগ্রহ নিয়ে লিচু কিনে বাড়ি ফিরছেন।

এক ক্রেতা ব্যাংকার মোহাম্মদ সেলিম, যিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য নিয়মিত লিচু কিনছেন, তার কথায়, "দু-একদিন পরপর আমি লিচু কিনি। লিচু আমার অত্যন্ত প্রিয় ফল এবং বছরের এই ছোট সময়েই এই ফলটি পাই।"

রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় ৪০ বছর ধরে লিচু বিক্রি করছেন জাহাঙ্গীর। তার দেয়া তথ্যমতে, বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড়, আকর্ষণীয় এবং প্রিমিয়াম জাতের লিচু হলো চায়না-থ্রি, যা প্রতি ১০০ পিস ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো এবং চায়না-থ্রির মতো দেখতে 'বেদানা' জাতের ১০০টি লিচু ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ও সাধারণ আগাম জাতের বোম্বাই ও মাদরাজি লিচুর দাম কিছুটা কম, যা প্রতি ১০০ পিস ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজারের ফলের আড়তের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, "এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে এবং চলতি জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে ঢাকার বাজারে লিচুর বেচাকেনা চলবে।"

এদিকে, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ তীব্র গরম ও কড়া রোদের কারণে একসাথে অনেক লিচু পাকতে শুরু করেছে। এই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে বর্তমানে লিচুর দাম কিছুটা কমেছে; তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে লিচুর দাম বাড়বে বলেও জানান।

দেশের লিচু পরিস্থিতি নিয়ে কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২.২ থেকে ২.৩ লাখ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়। তবে এই সুস্বাদু ফলের মৌসুম এবং সংগ্রহ সময়কাল থাকে মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ।

স্বল্পস্থায়ী এই মৌসুমকে ঘিরে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও জানান, সম্প্রতি উচ্চ তাপমাত্রা এবং খরা আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানে লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। তবে, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু উৎপাদক ফল সংগ্রহের ঠিক আগে ক্ষতিকর বালাইনাশক স্প্রে করে থাকেন।

লিচুতে কেমিকেল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "ভোক্তাদের জন্য আশার কথা হলো, লিচুর 'সেল্ফ লাইফ' খুব কম হওয়ায় এটি দীর্ঘসময় সংরক্ষণে রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করা হয় না। ঝুঁকিটি মূলত হার্ভেস্টের আগে ব্যবহৃত পেস্টিসাইডের কারণে।" তিনি লিচু খাওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, "লিচু খাওয়ার আগে কলের প্রবাহমান পানিতে অন্তত দুই থেকে তিন মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে; অথবা এক লিটার পানিতে এক চামচ লবণ গুলিয়ে লিচুগুলো ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে যান চলাচল ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে যান চলাচল ব্যাহত

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের কারণে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এবং সিরাজদিখান উপজেলায় সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এবং মানাবেরসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের কারণে গাছগুলো উপড়ে পড়ে ফলে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো অপসারণ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া এলাকায় একটি মালবোঝাই অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছটি অপসারণ করে সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অটোরিকশার চালক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের ইউনিটগুলো সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলে ইরানের হামলার প্রশংসা হামাসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


ইসরাইলে ইরানের হামলার প্রশংসা হামাসের

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে করা হামলার জবাবে ইসরাইলে ইরান ও ইয়েমেনের হুথির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও ইয়েমেনের যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে হামাস। এটা অঞ্চলভিত্তিক দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলি আক্রমণের মুখে সত্যিকারের সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (৮ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে কাসেম বলেন, হামাস এই অবস্থানকে ‘জাতির সকল উপাদানের মধ্যে যে সংহতি থাকা উচিত, তার প্রকৃত রূপ’ হিসেবে এক নজরে দেখে।

কাসেম আরও বলেন, ইরানি ও ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হামাস বারবার আশ্বাস পেয়েছে যে, তারা সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়—এর মধ্যে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধও রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান হামাসকে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ইরান ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের অধিকারকে সমর্থন করে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানাচ্ছে।

কাসেম বলেন, হামাস আশা করছে যে, বর্তমান এই সংহতি ও সরাসরি সমর্থন গাজার দিকেও প্রসারিত হবে এবং গাজা উপত্যকা যুদ্ধের অবসান ও আগ্রাসন থামানোর সাথে সম্পর্কিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইল লেবাননে বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অব্যাহত হামলার ফলে ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। শান্তি চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।

হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে হামলা শুরু করে, যা এখনো চলমান। ঐ হামলায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং অগণিত মানুষ আহত হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন কর্তৃপক্ষা। তবে হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হামলা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে ইরান। প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তেহরানের প্রতি তাদের দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ইসরাইল যখন বৈরুতে হামলার ভয় দেখাচ্ছে তখন তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈরুতে হামলা হলে তারা নির্বাক থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বৈরুতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানান।

এরপরও, গত রোববার (৬ ‍জুন) ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সংঘাতের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক মোড় নেয়। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওইদিন রাতেই উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।

তারপর সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসপাহানে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা চালায় ইরান। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%