প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈশাখ মাস পেরিয়ে জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে, ঢাকার রাজধানীসহ দেশের বাজারগুলোতে রসালো, সুস্বাদু দেশীয় ফলে পূর্ণ হয়েছে। ফল উৎসবের শুরুতেই, রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, ব্যস্ত সড়কের মোড় এবং ফলের আড়তে বিখ্যাত ও সুমিষ্ট লিচু হাজির হয়েছে। কিন্তু লিচুর স্বাদ নেয়ার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করছেন।
অতুলনীয় স্বাদ, মিষ্টি ঘ্রাণ এবং রসালো ফল হওয়ায়, এই ফল সবার কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। এবারেও বেশ কয়েক জাতের লিচু বাজারে দেখা যাচ্ছে, এবং ঢাকার ক্রেতাদের মন জয় করেছে এই ফলটি।
ঢাকার বাজারে এখন লিচুর সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মূলত চায়না থ্রি, চায়না টু, বেদানা এবং সবার পরিচিত বোম্বাই জাতের লিচু ঢাকার পাইকারি আড়তে আসছে, এবং সেখান থেকে রাজধানীর অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ঢাকার বাজারে লিচুর দাম কিছুটা চড়া বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা। তবে কেনাকাটায় দামাদামির ক্ষেত্রে স্থান এবং মানভেদে কেউ কেউ ২৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে লিচু কেনা-বেচা করছেন।
বিক্রেতারা আকার ও জাতভেদে প্রতি ১০০টি লিচুর দাম ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন। একইভাবে বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, গুলশান, মিরপুর-১০ গোল চত্বর এবং বনানীর মতো এলাকায় লিচু কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে, তবে পাইকারি বাজারের আশপাশে দাম তুলনামূলক কিছুটা কম।
তবে এসব লিচু ক্ষতিকর কেমিকেলমুক্ত কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে বিক্রেতারা 'না' বললেও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। অন্যদিকে, ক্রেতাদের মধ্যে লিচুতে কেমিকেল দেয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়ে তেমন ভাবনা নেই। বরং লিচুর প্রতি তাদের আস্থা এবং আগ্রহ বেশি। অনেকেই পরিবারের জন্য আগ্রহ নিয়ে লিচু কিনে বাড়ি ফিরছেন।
এক ক্রেতা ব্যাংকার মোহাম্মদ সেলিম, যিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য নিয়মিত লিচু কিনছেন, তার কথায়, "দু-একদিন পরপর আমি লিচু কিনি। লিচু আমার অত্যন্ত প্রিয় ফল এবং বছরের এই ছোট সময়েই এই ফলটি পাই।"
রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় ৪০ বছর ধরে লিচু বিক্রি করছেন জাহাঙ্গীর। তার দেয়া তথ্যমতে, বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড়, আকর্ষণীয় এবং প্রিমিয়াম জাতের লিচু হলো চায়না-থ্রি, যা প্রতি ১০০ পিস ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো এবং চায়না-থ্রির মতো দেখতে 'বেদানা' জাতের ১০০টি লিচু ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ও সাধারণ আগাম জাতের বোম্বাই ও মাদরাজি লিচুর দাম কিছুটা কম, যা প্রতি ১০০ পিস ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।
কারওয়ান বাজারের ফলের আড়তের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, "এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে এবং চলতি জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে ঢাকার বাজারে লিচুর বেচাকেনা চলবে।"
এদিকে, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ তীব্র গরম ও কড়া রোদের কারণে একসাথে অনেক লিচু পাকতে শুরু করেছে। এই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে বর্তমানে লিচুর দাম কিছুটা কমেছে; তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে লিচুর দাম বাড়বে বলেও জানান।
দেশের লিচু পরিস্থিতি নিয়ে কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২.২ থেকে ২.৩ লাখ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়। তবে এই সুস্বাদু ফলের মৌসুম এবং সংগ্রহ সময়কাল থাকে মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ।
স্বল্পস্থায়ী এই মৌসুমকে ঘিরে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও জানান, সম্প্রতি উচ্চ তাপমাত্রা এবং খরা আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানে লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। তবে, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু উৎপাদক ফল সংগ্রহের ঠিক আগে ক্ষতিকর বালাইনাশক স্প্রে করে থাকেন।
লিচুতে কেমিকেল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "ভোক্তাদের জন্য আশার কথা হলো, লিচুর 'সেল্ফ লাইফ' খুব কম হওয়ায় এটি দীর্ঘসময় সংরক্ষণে রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করা হয় না। ঝুঁকিটি মূলত হার্ভেস্টের আগে ব্যবহৃত পেস্টিসাইডের কারণে।" তিনি লিচু খাওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, "লিচু খাওয়ার আগে কলের প্রবাহমান পানিতে অন্তত দুই থেকে তিন মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে; অথবা এক লিটার পানিতে এক চামচ লবণ গুলিয়ে লিচুগুলো ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন