ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার


রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানী ঢাকা মিরপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে, এমন এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই নেতার বিরুদ্ধে হত্যা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা খোলা রয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুরের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারৃত ব্যক্তির নাম জহির, যিনি মিরপুরের দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বলেও পরিচিত।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, জহির ৫ আগস্টের পর ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হলেও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের ভাই মফিজুল ইসলাম বেবুর মাধ্যমে তার রাজনৈতিক হাতে খড়ি হয়।

ওসি হাফিজুর রহমান জানান, জহিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে সর্বশেষ একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এই কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জহিরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

গোপালগঞ্জের প্রতিনিধির তথ্য মতে, গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনযাত্রা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে আবাসন সংকট, অচল ফ্যান, সুপেয় পানির অভাব এবং জরাজীর্ণ ওয়াশরুমের কারণে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হলো, গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল এখনও ২২০-২৪০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে, অথচ সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এ কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থীকে কমনরুমে গণরুম তৈরি করে থাকতে হচ্ছে। একই কক্ষে ২২ থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করলেও সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। অন্যান্য কক্ষগুলোর অধিকাংশ ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাল্বও নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ।

এবং বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা লাইট সরকারিভাবে লাগিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ প্রচণ্ড গরমে তাদের বসবাস এবং পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া, শুধু আবাসন সংকট নয়, বরং বয়েজ ও গার্লস উভয় হোস্টেলেই সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। একই সাথে ছয়তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রযুক্তিগত কারণে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, অনেক জায়গায় পাইপ ফেটে পানি ও মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, কলেজের অধ্যক্ষের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার, ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ করা হলে একাডেমিক ভবন অবরোধ, ক্লাস ও ওয়ার্ড বর্জন সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেছেন, ৩০ জুন কলেজের একাডেমিক ভবনের হলরুমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি।

নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানোর শর্তে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দুইটি হোস্টেল বাহ্যিকভাবে দেখতে ফিটফাট, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অবস্থা অর্ধশতক। শিক্ষার্থীদের মতে, পরিকল্পনার অভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইস্তিয়াক রহমান ইশান বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা দিয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী হোস্টেল ছাড়লেও।'

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এম বি আসিফ খান জানান, ‘হোস্টেলের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেছে। কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমাদের দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের দ্বারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।'

পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিমুর রহমান জিসান বলছেন, ‘বয়েজ ও গার্লস হোস্টেলের ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের উপযোগী নয়। কিছু জায়গায় পাইপ থেকে মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে। এই পরিবেশে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপ নেই। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত শশি বলেন, ‘হোস্টেলের বর্তমান পরিবেশে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর। ধারণক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী থাকায় ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। ফলে আমাদের পড়াশোনার গতি ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমাদের দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’

অভিযোগ সম্পর্কে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্লা বলেন, ‘লেডিস হোস্টেলে আসন রয়েছে ২৪০টি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ৩৫০-এর বেশি ছাত্রী অবস্থান করছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে মেয়েদের ভর্তি বেশী হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। আপাতত কমনরুমগুলোকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ছেলে এবং মেয়েদের হোস্টেলে সমস্যা সমাধানে কাজ চলমান রয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের দাবি হলো, একটি মেডিক্যাল কলেজে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের জন্য এমন অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা দুঃখজনক। আবাসন সংকট নিরসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নষ্ট ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ওয়াশরুম সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় মারধরে আহত জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


বগুড়ায় মারধরে আহত জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যু

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মারধরের শিকার জামায়াতে ইসলামী নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) মারা গেছেন।

তিনি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি এবং ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনার পর পুলিশ নিহত ব্যক্তির চাচা বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দ (৬৮) ও তার ছোট ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর ফলস্বরূপ, গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ঘটে। একপর্যায়ে, আব্দুল করিম তার লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা চালালেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ওই হামলা থেকে রফিক আকন্দকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও হামলার শিকার হন।

ঘটনার ফলে রফিক আকন্দ ও তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬২) আহত হন। তাদেরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্রাটের অবস্থা খারাপ হলে পরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

এরপর ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, দেশে রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেটুকু ঘাটতি রয়েছে তা পূরণে সরকার কাজ করছে।

আজ (রোববার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুটি দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার প্রসার অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগণের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

‘দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা এখনও সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটাতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনেই বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপে কিছু হাসপাতালে একটি কক্ষেও ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে গাদাগাদি করে সেবা দিতে হচ্ছে।

দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি সরকারের সমর্থনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কর্মসূচিতেও প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। সরকারের নতুন গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সঙ্গে এসব প্রযুক্তি সমন্বয় করা গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

এ সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের আরও ধৈর্য এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

উচ্চপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে উন্নত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী দেশে ১৯৭৮ সাল থেকে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। সহ সভাপতি অধ্যাপক তৌফিক হাসান বুয়েটে উদ্ভাবিত বিভিন্ন বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি এবং এ খাতে উদ্যোক্তা উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, ওরাল রিহাইড্রেশন কর্মসূচি, শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ, ড্রাই আই চিকিৎসা, ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রিক্যাল বায়ো-ইম্পিডেন্স এবং স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে ‘গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ এবং ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইকুয়ালাইজিং অ্যাক্সেস টু হেলথকেয়ার টেকনোলজি’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ক্যানসার চিকিৎসা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, কম খরচের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা

মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত পরিণতি। পৃথিবীর সব পরিচয়, ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাব একদিন মৃত্যুর কাছে থেমে যায়।

তবে একজন মানুষের জীবনে তাঁর কার্যকলাপ, চরিত্র, ঈমান, ইলম এবং মানুষের কল্যাণে অবদান মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে জীবিত থাকতে পারে। ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক নেককার আলেম, দাঈ, মুজাহিদ কিংবা সমাজসেবকের ইন্তেকালে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে, আবার অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিকে নীরব পরিবেশে দাফন করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে—জানাজায় মানুষের উপস্থিতি কি ইসলামে বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ? অধিক মানুষের উপস্থিতি কি মৃত ব্যক্তির কল্যাণের নিশ্চয়তা বহন করে?

ইসলাম বাহ্যিক সংখ্যা বা লোকদেখানো সম্মানের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে একই সঙ্গে আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, নেককার ব্যক্তির জন্য মুমিনদের আন্তরিক দোয়া, সৎ সাক্ষ্য এবং জানাজার সালাতে অধিক সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।' (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩) এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলামে মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া। জানাজায় মানুষের সংখ্যা, সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক জনপ্রিয়তা নয়; বরং আল্লাহভীতি এবং নেক আমলই প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড।

জানাজায় বহু মানুষের সমাগম মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণের একটি কারণ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে মুসলিম ব্যক্তির জানাজায় এমন চল্লিশজন মুসলিম অংশগ্রহণ করবে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না, এবং তারা তার জন্য সুপারিশ (দোয়া) করবে, আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯৪৮)

এই হাদিসে বোঝা যায়, জানাজায় অধিকসংখ্যক ঈমানদার মানুষের উপস্থিতি মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফিরাতের একটি কারণ হতে পারে। তবে এর মূল বিষয় হলো—তাদের আন্তরিক দোয়া ও ঈমান, সংখ্যা শুধু নয়। আরও একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যে মুসলিমের জানাজায় একশত মুসলিম অংশগ্রহণ করে এবং সবাই তার জন্য দোয়া করে, তাদের দোয়া কবুল করা হয়।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯৪৭) এখানে সংখ্যার উদ্দেশ্য গৌরব প্রদর্শন নয়; বরং বেশি সংখ্যক মুমিনের আন্তরিক দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা।

মুমিনদের সাক্ষ্য একটি সুসংবাদ। একবার একটি জানাজা অতিক্রম করলে সাহাবিগণ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, 'তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে।' এরপর আরেক ব্যক্তির জানাজা গেলে সাহাবিরা তার নিন্দা করেন। তখন তিনি বলেন, 'তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে।' এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।' (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৩৬৭) এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে, মানুষের মতামতই চূড়ান্ত ফয়সালা। বরং নেককার ব্যক্তির ব্যাপারে সৎ মুমিনদের স্বতঃস্ফূর্ত উত্তম সাক্ষ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শুভ লক্ষণ হতে পারে।

আল্লাহ যাঁকে ভালোবাসেন, মানুষও তাঁকে ভালোবাসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাইল (আ.)-কে বলেন, 'আমি অমুককে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাস।' এরপর আকাশবাসীদের মধ্যে তাঁর ভালোবাসার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হয়।' (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩২০৯) এই কারণেই অনেক নেককার আলেম ও বুযুর্গের মৃত্যুতে অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। ইতিহাসে বহু মনীষীর জানাজায় অভূতপূর্ব মানুষের সমাগম ঘটেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইবনে তাইমিয়া (রহ.).

জানাজায় বহু মানুষের উপস্থিতি কামনা করার চেয়ে এমন জীবন গড়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মানুষ মৃত্যুর পর আন্তরিকভাবে আমাদের জন্য দোয়া করে। একজন মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত—

১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাসের সঙ্গে আমল করা।

২. কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করে জীবন-যাপন করা।

৩. মানুষের উপকার করা এবং উত্তম চরিত্র গঠন করা।

৪. জীবদ্দশায় এমন আচরণ করা, যাতে মৃত্যুর পর মানুষ কল্যাণের সাক্ষ্য দেয় ও দোয়া করে।

৫. অন্যের জানাজায় অংশগ্রহণ করে তার জন্য আন্তরিকভাবে মাগফিরাতের দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন দান করুন, যা মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মুমিনদের আন্তরিক দোয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%