ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বগুড়ায় মারধরে আহত জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যু


বগুড়ায় মারধরে আহত জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যু

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মারধরের শিকার জামায়াতে ইসলামী নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) মারা গেছেন।

তিনি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি এবং ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনার পর পুলিশ নিহত ব্যক্তির চাচা বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৫ বছরের সাব্বিরের

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দ (৬৮) ও তার ছোট ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর ফলস্বরূপ, গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ঘটে। একপর্যায়ে, আব্দুল করিম তার লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা চালালেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ওই হামলা থেকে রফিক আকন্দকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও হামলার শিকার হন।

ঘটনার ফলে রফিক আকন্দ ও তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬২) আহত হন। তাদেরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্রাটের অবস্থা খারাপ হলে পরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

এরপর ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: পূর্বধলার রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের আলোচনা, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তিন প্রস্তুতি সভা

ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, দেশে রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেটুকু ঘাটতি রয়েছে তা পূরণে সরকার কাজ করছে।

আজ (রোববার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুটি দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার প্রসার অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগণের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

‘দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা এখনও সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটাতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনেই বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপে কিছু হাসপাতালে একটি কক্ষেও ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে গাদাগাদি করে সেবা দিতে হচ্ছে।

দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি সরকারের সমর্থনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কর্মসূচিতেও প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। সরকারের নতুন গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সঙ্গে এসব প্রযুক্তি সমন্বয় করা গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

এ সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের আরও ধৈর্য এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

উচ্চপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে উন্নত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী দেশে ১৯৭৮ সাল থেকে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। সহ সভাপতি অধ্যাপক তৌফিক হাসান বুয়েটে উদ্ভাবিত বিভিন্ন বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি এবং এ খাতে উদ্যোক্তা উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, ওরাল রিহাইড্রেশন কর্মসূচি, শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ, ড্রাই আই চিকিৎসা, ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রিক্যাল বায়ো-ইম্পিডেন্স এবং স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে ‘গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ এবং ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইকুয়ালাইজিং অ্যাক্সেস টু হেলথকেয়ার টেকনোলজি’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ক্যানসার চিকিৎসা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, কম খরচের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা

মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত পরিণতি। পৃথিবীর সব পরিচয়, ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাব একদিন মৃত্যুর কাছে থেমে যায়।

তবে একজন মানুষের জীবনে তাঁর কার্যকলাপ, চরিত্র, ঈমান, ইলম এবং মানুষের কল্যাণে অবদান মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে জীবিত থাকতে পারে। ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক নেককার আলেম, দাঈ, মুজাহিদ কিংবা সমাজসেবকের ইন্তেকালে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে, আবার অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিকে নীরব পরিবেশে দাফন করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে—জানাজায় মানুষের উপস্থিতি কি ইসলামে বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ? অধিক মানুষের উপস্থিতি কি মৃত ব্যক্তির কল্যাণের নিশ্চয়তা বহন করে?

ইসলাম বাহ্যিক সংখ্যা বা লোকদেখানো সম্মানের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে একই সঙ্গে আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, নেককার ব্যক্তির জন্য মুমিনদের আন্তরিক দোয়া, সৎ সাক্ষ্য এবং জানাজার সালাতে অধিক সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।' (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩) এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলামে মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া। জানাজায় মানুষের সংখ্যা, সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক জনপ্রিয়তা নয়; বরং আল্লাহভীতি এবং নেক আমলই প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড।

জানাজায় বহু মানুষের সমাগম মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণের একটি কারণ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে মুসলিম ব্যক্তির জানাজায় এমন চল্লিশজন মুসলিম অংশগ্রহণ করবে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না, এবং তারা তার জন্য সুপারিশ (দোয়া) করবে, আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯৪৮)

এই হাদিসে বোঝা যায়, জানাজায় অধিকসংখ্যক ঈমানদার মানুষের উপস্থিতি মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফিরাতের একটি কারণ হতে পারে। তবে এর মূল বিষয় হলো—তাদের আন্তরিক দোয়া ও ঈমান, সংখ্যা শুধু নয়। আরও একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যে মুসলিমের জানাজায় একশত মুসলিম অংশগ্রহণ করে এবং সবাই তার জন্য দোয়া করে, তাদের দোয়া কবুল করা হয়।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯৪৭) এখানে সংখ্যার উদ্দেশ্য গৌরব প্রদর্শন নয়; বরং বেশি সংখ্যক মুমিনের আন্তরিক দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা।

মুমিনদের সাক্ষ্য একটি সুসংবাদ। একবার একটি জানাজা অতিক্রম করলে সাহাবিগণ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, 'তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে।' এরপর আরেক ব্যক্তির জানাজা গেলে সাহাবিরা তার নিন্দা করেন। তখন তিনি বলেন, 'তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে।' এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।' (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৩৬৭) এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে, মানুষের মতামতই চূড়ান্ত ফয়সালা। বরং নেককার ব্যক্তির ব্যাপারে সৎ মুমিনদের স্বতঃস্ফূর্ত উত্তম সাক্ষ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শুভ লক্ষণ হতে পারে।

আল্লাহ যাঁকে ভালোবাসেন, মানুষও তাঁকে ভালোবাসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাইল (আ.)-কে বলেন, 'আমি অমুককে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাস।' এরপর আকাশবাসীদের মধ্যে তাঁর ভালোবাসার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হয়।' (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩২০৯) এই কারণেই অনেক নেককার আলেম ও বুযুর্গের মৃত্যুতে অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। ইতিহাসে বহু মনীষীর জানাজায় অভূতপূর্ব মানুষের সমাগম ঘটেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইবনে তাইমিয়া (রহ.).

জানাজায় বহু মানুষের উপস্থিতি কামনা করার চেয়ে এমন জীবন গড়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মানুষ মৃত্যুর পর আন্তরিকভাবে আমাদের জন্য দোয়া করে। একজন মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত—

১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাসের সঙ্গে আমল করা।

২. কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করে জীবন-যাপন করা।

৩. মানুষের উপকার করা এবং উত্তম চরিত্র গঠন করা।

৪. জীবদ্দশায় এমন আচরণ করা, যাতে মৃত্যুর পর মানুষ কল্যাণের সাক্ষ্য দেয় ও দোয়া করে।

৫. অন্যের জানাজায় অংশগ্রহণ করে তার জন্য আন্তরিকভাবে মাগফিরাতের দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন দান করুন, যা মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মুমিনদের আন্তরিক দোয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ৫ বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


দেশের ৫ বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশের পাঁচ বিভাগের উপর আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আশঙ্কা পোষণ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের বিষয়ে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, চাঁদপুর, ফেনী, কক্সবাজার এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি প্রশমিত হতে পারে।

এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতে তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষটি রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য স্থানে প্রবল অবস্থায় আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসার নামে সরকারি জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


মাদরাসার নামে সরকারি জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মাদরাসার নামে রেকর্ড হওয়া ৪২ শতক সরকারি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে সেখানে থাকা শতাধিক মূল্যবান গাছ কাটা নেওয়ার অভিযোগও একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, গাছ কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসক ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লেখা ২৩ জুন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সরেজমিন উপজেলা বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সদুরপাড়া গ্রামে গেলে স্থানীয়রা এসব কথা বলেন। তারা অভিযোগ করেন যে বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। ড। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদুরপাড়া গ্রামে অহেতন নেছা ইবতেদায়ী মাদরাসার নামে প্রায় ৪২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত।

দীর্ঘকাল ধরে ওই জমিতে ইউক্যালিপটাস, শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি। তাদের মতে, জমিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদও। তাদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এখনো সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাজাহান, সাজু, সাইদুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অবশিষ্ট গাছগুলোও কাটার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমার মা মাদরাসার নামে জমিটি দান করেছেন। জমির রেকর্ড মাদ্রাসার নামে হয়েছে। তবে গাছের মালিকানা নিয়ে আমাদের দাবি রয়েছে।’

আর স্থানীয়রা বলছেন, জমি এবং গাছ উভয়ই সরকারি সম্পদের অংশ।

এলাকাবাসী জানায়, বহু বছর আগে ওই জমিতে অহেতন নেছা ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নানা কারণে মাদরাসাটি স্থানান্তরিত হলেও জমিটি এখনো মাদরাসার নামেই রেকর্ডভুক্ত। তাই জমিটির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি তাদের।

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি ওয়াক্তের নামাজঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য রংপুর জেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের বাধার কারণে সেই প্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমির একাংশে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেখানে মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।

এছাড়া যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই সরকারি জমির একটি অংশে লাশ দাফন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বসতবাড়ির পাশে এসব কর্মকাণ্ড চলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, জমিটি সরকারি রেকর্ডে মাদরাসার নামে রয়েছে। এখানে অনেক কষ্ট করে গাছ লাগানো হয়েছে। বেশ কিছু গাছ ইতিমধ্যে কাটা গেছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করুক এবং দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

গ্রামের ব্যবসায়ী একরামুল হক মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। তারা এখন গাছও কেটে নিতে চাইছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। আমরা চাই জমিটি দখলমুক্ত করে জনগণের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হোক।’

মাদরাসার শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এই জমি মাদরাসার নামে রেকর্ডভুক্ত। এটি দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা যাবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’

এর আগে প্রভাবশালীরা একটি ইউক্যালিপটাস গাছ চার হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে আর কয়েকটি গাছ কয়েক বছরে গাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্য শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি সম্পদ দখল কিংবা গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

আবেদনে এলাকাবাসী সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জমির মালিকানা ও রেকর্ড যাচাই করে জরুরি তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ, অনুমোদনবিহীন দাফনের বিষয়ে তদন্ত, সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং জমিটি মাদরাসার নামে সংরক্ষিত করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সরকারি জমি, সরকারি গাছ কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেউ অবৈধভাবে দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%