প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জের প্রতিনিধির তথ্য মতে, গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনযাত্রা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে আবাসন সংকট, অচল ফ্যান, সুপেয় পানির অভাব এবং জরাজীর্ণ ওয়াশরুমের কারণে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হলো, গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল এখনও ২২০-২৪০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে, অথচ সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এ কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থীকে কমনরুমে গণরুম তৈরি করে থাকতে হচ্ছে। একই কক্ষে ২২ থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করলেও সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। অন্যান্য কক্ষগুলোর অধিকাংশ ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাল্বও নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ।
এবং বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা লাইট সরকারিভাবে লাগিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ প্রচণ্ড গরমে তাদের বসবাস এবং পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া, শুধু আবাসন সংকট নয়, বরং বয়েজ ও গার্লস উভয় হোস্টেলেই সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। একই সাথে ছয়তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রযুক্তিগত কারণে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, অনেক জায়গায় পাইপ ফেটে পানি ও মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, কলেজের অধ্যক্ষের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার, ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ করা হলে একাডেমিক ভবন অবরোধ, ক্লাস ও ওয়ার্ড বর্জন সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেছেন, ৩০ জুন কলেজের একাডেমিক ভবনের হলরুমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি।
নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানোর শর্তে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দুইটি হোস্টেল বাহ্যিকভাবে দেখতে ফিটফাট, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অবস্থা অর্ধশতক। শিক্ষার্থীদের মতে, পরিকল্পনার অভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইস্তিয়াক রহমান ইশান বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা দিয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী হোস্টেল ছাড়লেও।'
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এম বি আসিফ খান জানান, ‘হোস্টেলের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেছে। কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমাদের দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের দ্বারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।'
পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিমুর রহমান জিসান বলছেন, ‘বয়েজ ও গার্লস হোস্টেলের ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের উপযোগী নয়। কিছু জায়গায় পাইপ থেকে মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে। এই পরিবেশে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপ নেই। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত শশি বলেন, ‘হোস্টেলের বর্তমান পরিবেশে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর। ধারণক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী থাকায় ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। ফলে আমাদের পড়াশোনার গতি ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমাদের দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’
অভিযোগ সম্পর্কে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্লা বলেন, ‘লেডিস হোস্টেলে আসন রয়েছে ২৪০টি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ৩৫০-এর বেশি ছাত্রী অবস্থান করছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে মেয়েদের ভর্তি বেশী হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। আপাতত কমনরুমগুলোকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ছেলে এবং মেয়েদের হোস্টেলে সমস্যা সমাধানে কাজ চলমান রয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের দাবি হলো, একটি মেডিক্যাল কলেজে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের জন্য এমন অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা দুঃখজনক। আবাসন সংকট নিরসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নষ্ট ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ওয়াশরুম সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন