মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০৮:৪৬ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ছয়সূতী ইউনিয়নে একটি স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মারধোরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মাধবদী গ্রামের কান্দারবাড়ির কৃষক মো. মস্তোফা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত অনিক মিয়া (১৯) কুলিয়ারচর পৌর এলাকার পূর্ব গাইলকাটা গ্রামের খোকন মিয়া ও মোছা. শারমিন দম্পতির ছেলে। মাঝে মাঝে মাধবদী গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে সে বেড়ে উঠেছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়ার সময় অনিক মিয়া প্রায়ই ওই স্কুল ছাত্রীর (১২) উপর উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে স্কুল যাওয়ার পথে অভিযুক্ত অনিক মিয়া আবারও ইভটিজিংয়ের শিকার হন ওই ছাত্রী। এ সময় প্রতিবাদ করে বাড়ি আসার পর বিষয়টি ভগ্নিপতিসহ বড় বোন ও মা-বাবাকে জানায়। বিষয়টি জানার পর সালিকার নিকট পৌঁছালে ছাত্রীর ভগ্নিপতি অভিযুক্ত অনিক মিয়াকে ডেকে বলেন যাতে তার সালিকাকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে আর উত্ত্যক্ত না করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত অনিক মিয়া মধুদি গ্রামে লোহার রড নিয়ে ছাত্রীর ভগ্নিপতির ভাড়া বাড়ির আঙ্গিনায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছাত্রীর ভগ্নিপতি ও শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালান এবং ছাত্রীকে লোহার রড দিয়ে মারধোর করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করেন। যাওয়ার সময় অনিক মিয়া যুবতী ও তার পরিবারকে শাসিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তারা আবারও হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুটির।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুধু নিজের সম্মান রক্ষায় প্রতিবাদ করেছিলেন কিন্তু তার প্রতিবাদের ফলশ্রুতিতে হামলা ও মারধোরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। একজন স্কুল ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এই ঘটনার পর ওই ছাত্রীর বড় বোন বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে অভিযুক্ত অনিক মিয়ার বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন সহ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযুক্ত অনিক মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালান। কিন্তু ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অনিক মিয়া পলাতক থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভগ্নিপতি একাধিক ভিডিও উপস্থাপন করে বলেন, "আমার সালিকাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে অভিযুক্ত অনিক মিয়া উত্ত্যক্ত ও অশালীনভাবে কথা বলায় আমি ও আমার সালিকা প্রতিবাদ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অনিক মিয়া লোহার রড নিয়ে আমার ভাড়াটিয়া বাসায় এসে হামলা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মিনার মিয়া ও ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, কেন ওই ছাত্রীর উপর হামলা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্তের মামা মাছ শিকারী মো. কাজল মিয়া জানান, "আমি আমার ভাগিনাকে ওই স্কুল ছাত্রীর ওপর হামলা চালাতে দেখেছি। তবে কেন, কোন কারণে মেরেছে তা জানি না।"
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত অনিক মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, "এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ছাত্রীর বড় বোনের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার এই বিষয়ে বলেন, "বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে, ২০০৩ সালের পর। তবে এই প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য কিছুটা হতাশা অপেক্ষা করছে। কারণ দেশের টেলিভিশনের কোনো চ্যানেলে দুই টেস্টের এই সিরিজ দেখা যাবে না।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হতে যাচ্ছে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশের সাদা পোশাকের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে এই সিরিজের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু দেশের দর্শকদের সেই আগ্রহ মেটাতে এবার টেলিভিশনের পর্দা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব নিতে পারেনি কোনো বাংলাদেশি চ্যানেল। তাই সমর্থকদের ডিজিটাল মাধ্যমে যেতে হবে। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ট্যাপম্যাড অ্যাপে দেখা যাবে দুই টেস্টের ম্যাচ।
অন্য দেশগুলোর দর্শকদের জন্য বাংলাদেশি সমর্থকদের মতো এতটা সমস্যায় পড়তে হবে না। শ্রীলঙ্কায় সিরিজটি দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস, এসএলটি ও সুপ্রিম টিভিতে। পাকিস্তানে সম্প্রচার করবে টেন স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড। মালদ্বীপে স্টার স্পোর্টসে খেলা দেখার ব্যবস্থা থাকছে মেডিয়ানেটের সৌজন্যে।
নেপাল ও ভুটান থেকেও এই সিরিজ দেখা যাবে স্টার স্পোর্টসে। ভারতে স্টার স্পোর্টসের পাশাপাশি ম্যাচ দেখার সুযোগ রয়েছে জিও হটস্টারে। এসব তথ্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সম্প্রচারকদের তালিকা থেকে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে বিয়ের দাবিতে একটি তনয়া, যার নাম লায়লা, প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন। গত শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত তিনি প্রেমিক আমিন খানের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে অবস্থান করছেন। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা এই অনশনের মধ্য দিয়ে তিনি বিয়ের জন্য দাবি জানাচ্ছেন।
লায়লার অভিযোগ, দুবাই প্রবাসী আমিন খানের সঙ্গে তার প্রায় চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, আমিন যখন দেশে ছিলেন, তখন তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর আমিন দুবাই চলে যান এবং সেখানে অবস্থান করলেও তাদের সম্পর্ক বজায় ছিল। কিন্তু এতদিন সম্পর্কের পর এখন বিয়েতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন আমিন খানের প্রতি লায়লার অভিযোগ।
লায়লার বাবা সোহাগ খান, যিনি হরিপুর ইউনিয়নের শংকরাদহ গ্রামের বাসিন্দা, বলেন, "বিয়ে করবে বলে সম্পর্ক করার পর এখন অস্বীকার করায় আমার মেয়ে পাঁচদিন ধরে অনশন করছে।" তিনি সত্যি বলেছেন যে গ্রামের সর্দার এবং মাতব্বররা বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও এখন টালবাহানা শুরু হয়েছে। সোহাগ খান বলেন, "এ অবস্থায় মেয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।"
এদিকে, আমিন খানের বড় ভাই আজমল খান এই অনশনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি জানান, "আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছে না।" বিষের বোতল রাখার প্রসঙ্গে আজমল বলেছেন, "বিষের বোতল ছিল। তবে গ্রামের সাহেব-সর্দাররা সেটি সরিয়ে নিয়েছেন।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামের সর্দার-মাতব্বররা ইতোমধ্যেই কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। প্রেমিক আমিন খান হরিণবেড় গ্রামের কামাল খানের ছেলে এবং বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নাসিরনগর থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলেও জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পাহাড়ে ফিরে আসছে শিক্ষার আলো। ছবির সূত্র: সংগৃহীত। পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—‘সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ এখানে দুর্গম এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যালয়টির শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
একজন স্থানীয় ছাত্রনেতা এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় উদ্যোগ—১০ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন। চলতি মাসেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে, ফলে দুর্গম পাহাড়ে আবারও বেজে উঠবে—‘স্কুলঘণ্টা।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবকরা অত্যন্ত খুশি। নয়াপাড়ার বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বাসসকে বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুল বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে, যার ফলে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন যে স্কুল আর হবে না। কিন্তু সরকার খবর পেয়ে তাড়াতাড়ি স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে উনি প্রীত হয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত উদ্যোগের কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার অন্যতম আশ্রয়স্থলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে পাহাড়ের ঢালে আবারও শিক্ষার্থীদের কোলাহল মুখরিত হবে এবং ফিরে আসবে পাহাড়ে গহিনে ‘শিক্ষার আলো।’
অন্যদিকে, জানা গেছে, নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে শুধুমাত্র স্কুলে পাঠদান নয়, বরং একটি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি তছনছ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে (সাইয়েদ আবদুল্লাহ) অবহিত করেন। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবিলম্বে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি আসার পর, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। গত ২৩ জুলাই নির্মাণকর্ম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে।
আলীকদম উপজেলার সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বাসসকে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ বরাবরই নানা চ্যালেঞ্জ হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফা বাসসকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ মানে শুধুমাত্র একটি ভবন তৈরি নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা। এদের শিক্ষা এবং দক্ষতার উপর ভর করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ও তাঁর বিশেষ সহকারীর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা জানান, গত মাসের দিকে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারিভাবে দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
পাড়া কারবারি (পাহাড়ি গ্রাম প্রধান) দমলয় মুরুং বাসসকে বলেন, এখানে আমরা ৪টি গ্রামের লোকজন বসবাস করি। এখানে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। এই স্কুলটি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। কিন্তু বৃষ্টিতে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন আবার স্কুলটি গড়ে উঠছে, এটি আমাদের জন্য শুধু একটি ভবন নয়, বরং আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন ফিরে পেয়েছি। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বাসসকে বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, দলীয় কর্মী বা সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না, এটি একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কায়েতপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এই বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলের সদস্য বা সমর্থক হলে কী হয়েছে, অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।’ একই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগের সরকারের সময় থেকেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান ছিলো। তবে সে সময়ে এই সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ বা সাহস ছিল না। সরকারের উপর্যুপ্ত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দক্ষিণ সিটি এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমাতে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি আব্দুস সালাম কায়েতপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের কথা মাথায় রেখে ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ