০৮:৫৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পাহাড়ে ফিরে আসছে শিক্ষার আলো। ছবির সূত্র: সংগৃহীত। পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—‘সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ এখানে দুর্গম এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যালয়টির শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
একজন স্থানীয় ছাত্রনেতা এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় উদ্যোগ—১০ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন। চলতি মাসেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে, ফলে দুর্গম পাহাড়ে আবারও বেজে উঠবে—‘স্কুলঘণ্টা।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবকরা অত্যন্ত খুশি। নয়াপাড়ার বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বাসসকে বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুল বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে, যার ফলে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন যে স্কুল আর হবে না। কিন্তু সরকার খবর পেয়ে তাড়াতাড়ি স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে উনি প্রীত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত উদ্যোগের কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার অন্যতম আশ্রয়স্থলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে পাহাড়ের ঢালে আবারও শিক্ষার্থীদের কোলাহল মুখরিত হবে এবং ফিরে আসবে পাহাড়ে গহিনে ‘শিক্ষার আলো।’
অন্যদিকে, জানা গেছে, নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে শুধুমাত্র স্কুলে পাঠদান নয়, বরং একটি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি তছনছ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে (সাইয়েদ আবদুল্লাহ) অবহিত করেন। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবিলম্বে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি আসার পর, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
জানা গেছে, বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। গত ২৩ জুলাই নির্মাণকর্ম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে।
আলীকদম উপজেলার সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বাসসকে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ বরাবরই নানা চ্যালেঞ্জ হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফা বাসসকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ মানে শুধুমাত্র একটি ভবন তৈরি নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা। এদের শিক্ষা এবং দক্ষতার উপর ভর করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ও তাঁর বিশেষ সহকারীর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা জানান, গত মাসের দিকে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারিভাবে দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না
পাড়া কারবারি (পাহাড়ি গ্রাম প্রধান) দমলয় মুরুং বাসসকে বলেন, এখানে আমরা ৪টি গ্রামের লোকজন বসবাস করি। এখানে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। এই স্কুলটি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। কিন্তু বৃষ্টিতে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন আবার স্কুলটি গড়ে উঠছে, এটি আমাদের জন্য শুধু একটি ভবন নয়, বরং আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন ফিরে পেয়েছি। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বাসসকে বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন