নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: মাহদী হাসান নূর
০৮:৫২ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে বিয়ের দাবিতে একটি তনয়া, যার নাম লায়লা, প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন। গত শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত তিনি প্রেমিক আমিন খানের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে অবস্থান করছেন। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা এই অনশনের মধ্য দিয়ে তিনি বিয়ের জন্য দাবি জানাচ্ছেন।
লায়লার অভিযোগ, দুবাই প্রবাসী আমিন খানের সঙ্গে তার প্রায় চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, আমিন যখন দেশে ছিলেন, তখন তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর আমিন দুবাই চলে যান এবং সেখানে অবস্থান করলেও তাদের সম্পর্ক বজায় ছিল। কিন্তু এতদিন সম্পর্কের পর এখন বিয়েতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন আমিন খানের প্রতি লায়লার অভিযোগ।
লায়লার বাবা সোহাগ খান, যিনি হরিপুর ইউনিয়নের শংকরাদহ গ্রামের বাসিন্দা, বলেন, "বিয়ে করবে বলে সম্পর্ক করার পর এখন অস্বীকার করায় আমার মেয়ে পাঁচদিন ধরে অনশন করছে।" তিনি সত্যি বলেছেন যে গ্রামের সর্দার এবং মাতব্বররা বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও এখন টালবাহানা শুরু হয়েছে। সোহাগ খান বলেন, "এ অবস্থায় মেয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।"
এদিকে, আমিন খানের বড় ভাই আজমল খান এই অনশনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি জানান, "আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছে না।" বিষের বোতল রাখার প্রসঙ্গে আজমল বলেছেন, "বিষের বোতল ছিল। তবে গ্রামের সাহেব-সর্দাররা সেটি সরিয়ে নিয়েছেন।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামের সর্দার-মাতব্বররা ইতোমধ্যেই কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। প্রেমিক আমিন খান হরিণবেড় গ্রামের কামাল খানের ছেলে এবং বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নাসিরনগর থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলেও জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পাহাড়ে ফিরে আসছে শিক্ষার আলো। ছবির সূত্র: সংগৃহীত। পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—‘সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ এখানে দুর্গম এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যালয়টির শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
একজন স্থানীয় ছাত্রনেতা এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় উদ্যোগ—১০ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন। চলতি মাসেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে, ফলে দুর্গম পাহাড়ে আবারও বেজে উঠবে—‘স্কুলঘণ্টা।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবকরা অত্যন্ত খুশি। নয়াপাড়ার বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বাসসকে বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুল বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে, যার ফলে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন যে স্কুল আর হবে না। কিন্তু সরকার খবর পেয়ে তাড়াতাড়ি স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে উনি প্রীত হয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত উদ্যোগের কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার অন্যতম আশ্রয়স্থলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে পাহাড়ের ঢালে আবারও শিক্ষার্থীদের কোলাহল মুখরিত হবে এবং ফিরে আসবে পাহাড়ে গহিনে ‘শিক্ষার আলো।’
অন্যদিকে, জানা গেছে, নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে শুধুমাত্র স্কুলে পাঠদান নয়, বরং একটি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি তছনছ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে (সাইয়েদ আবদুল্লাহ) অবহিত করেন। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবিলম্বে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি আসার পর, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। গত ২৩ জুলাই নির্মাণকর্ম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে।
আলীকদম উপজেলার সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বাসসকে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ বরাবরই নানা চ্যালেঞ্জ হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফা বাসসকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ মানে শুধুমাত্র একটি ভবন তৈরি নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা। এদের শিক্ষা এবং দক্ষতার উপর ভর করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ও তাঁর বিশেষ সহকারীর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা জানান, গত মাসের দিকে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারিভাবে দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
পাড়া কারবারি (পাহাড়ি গ্রাম প্রধান) দমলয় মুরুং বাসসকে বলেন, এখানে আমরা ৪টি গ্রামের লোকজন বসবাস করি। এখানে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। এই স্কুলটি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। কিন্তু বৃষ্টিতে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন আবার স্কুলটি গড়ে উঠছে, এটি আমাদের জন্য শুধু একটি ভবন নয়, বরং আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন ফিরে পেয়েছি। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বাসসকে বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, দলীয় কর্মী বা সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না, এটি একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কায়েতপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এই বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলের সদস্য বা সমর্থক হলে কী হয়েছে, অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।’ একই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগের সরকারের সময় থেকেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান ছিলো। তবে সে সময়ে এই সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ বা সাহস ছিল না। সরকারের উপর্যুপ্ত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দক্ষিণ সিটি এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমাতে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি আব্দুস সালাম কায়েতপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের কথা মাথায় রেখে ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়ে ড্রাইভিং টেস্ট দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি দেশের সড়ক ব্যবস্থা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
দেশের সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা উল্লেখ করে 'ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে কেন'- এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেন জাইমা রহমান।
বুধবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্টে এসব ভাবনা তুলে ধরেন। পোস্টের সঙ্গে শৈশবে খেলনা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ধরা একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি যুক্ত করেন তিনি।
এসময়ে জাইমা জানান, দশ বছরেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে প্রথম ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য এটি তার জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট। দুই পরীক্ষাতেই তিনি প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষায় তিনি যতটা প্রস্তুত হয়েছেন, অন্যটি ততটা করেনি। পোস্টে লেখেন, 'এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এবং সেই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।'
জাইমা রহমানের মতে, 'অনেক তরুণ বাংলাদেশির, বিশেষ করে ঢাকার তরুণদের, একটি মৌলিক হতাশা আছে: আমাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেটি সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।'
তিনি দেশের পথচারীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, 'আপনাকে হয়তো পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়, এমন ফুটপাত ধরে হাঁটতে হয় যেটি হঠাৎ শেষ হয়ে যায় কিংবা দখল হয়ে থাকে, আর পথ করতে হয় বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেটকারের ভিড়ের মধ্য দিয়ে, যেগুলোর প্রতিটি চলছে আলাদা আলাদা অলিখিত নিয়মে।'
যাত্রী হিসেবেও নাগরিকদের হাতে কার্যত কিছুই নেই বলে মনে করেন জাইমা। এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আপনার বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে কি না, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক ফিটনেস আছে কি না, কিংবা চালক ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, এর কোনও কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।'
নতুন চালক হিসেবে সবকিছু নিয়ম মেনে করতে গেলে আরও নানা প্রশ্ন সামনে আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাইমা প্রশ্ন তুলে বলেন, 'নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয়? সঠিক পদ্ধতিটা কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়? পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেই কাগজটির জন্য, যা প্রমাণ করে আমি পাস করেছি?'
বিআরটিএর অনেক সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'কিন্তু ডিজিটাল করা তখনই কাজে আসে, যখন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে। অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় 'অফিসে এসে কথা বলুন'-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি।'
প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা 'লেনদেনের নতুন সুযোগ' তৈরি করে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা। ব্রোকারেরা এই প্রক্রিয়ার ফাটলটির সুযোগ নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জাইমা রহমান আরও বলেন, 'মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়; বরং সরকারি প্রক্রিয়াটি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে একজন মধ্যস্থতাকারীই সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এতে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না হয়ে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।'
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন জাইমা রহমান। তার মতে, 'লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ চমৎকার সব নিয়ম তৈরি করতে পারে। কিন্তু যদি নিয়ম বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন: আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?'
দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু অন্যায় সংঘটিত হওয়া নয়, বরং সেই অন্যায়ের প্রতিকার কীভাবে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাইমা। তিনি মনে করেন, 'অভিযোগ করে কিছু হবে না, বরং নিজেরই বাড়তি ভোগান্তি হবে, মানুষ যদি এমনটা বিশ্বাস করে, তাহলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দাঁড়ায়: 'কী দরকার? চেনাজানা কাউকে বলি।' আর এইভাবে ব্যাপারটি চলতেই থাকে।'
তিনি সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। জাইমার মতে, 'এটি হতে হবে সেই মানুষগুলোকে ঘিরে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা একজন নারী। পরের অর্ডারটি ধরার তাড়ায় থাকা একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো একজন বাসচালক। ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। একজন রিকশাচালক, যার বাহনটিই তার জীবিকা। একই সড়ক তাদের প্রত্যেকের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।'
ভালো নীতিমালাকে এই বাস্তবতাগুলো বুঝতে হবে উল্লেখ করে জাইমা বলেন, 'নইলে নিয়ম উল্টো দরিদ্র বা বেশি ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, আর তাতে শোষণ ও ঘুষের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।'
নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, '২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল সামলানোর চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে।'
এ অবস্থায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের ধরন বদলানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জাইমা। তার মতে, 'তাই প্রশ্নটি এখন সম্ভবত আর এই নয় যে 'সড়ক নিরাপদ নয়'। প্রশ্নটি বরং এই: 'সমস্যাগুলো তো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি। ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?' আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের প্রশ্নটা বদলে যায়। প্রশ্ন কেবল এটি হতে পারে না যে 'নাগরিকদের দিয়ে কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে?'
আইন প্রয়োগকে কীভাবে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় এবং অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে কীভাবে নিরাপদ ও কার্যকর করা যায়- এসব বিষয় নিয়েও ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষে জাইমা রহমান লেখেন, 'আমাদের এটিও জিজ্ঞাসা করা উচিত: সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে সবাই একই পরিষেবা পাবে?, আমরা কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারি?, কীভাবে আমরা অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করে তুলতে পারি? এবং আমরা কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করব যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে কারও জীবনহানি না ঘটে?'
সবশেষে তিনি বলেন, 'পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শাহজালাল হলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি হওয়া স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে হলের ফলদ বাগান, সংস্কারকৃত বাস্কেটবল কোর্ট এবং সংস্কারকৃত রাস্তার উদ্বোধন করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে শাহজালাল হলের কমন রুমে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে হলের স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এর আগে হলের ফলদ বাগান, সংস্কারকৃত বাস্কেটবল কোর্ট এবং সংস্কারকৃত রাস্তার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, বাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, অধ্যাপক ড. সামছুল আলম ভূঁইয়া এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন।
এই অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের হলের পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। একইসাথে পড়াশোনার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
অধ্যাপক ড. সামছুল আলম ভূঁইয়া নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে সফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল নয়, মানবিক মূল্যবোধ, শিষ্টাচার এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে।
বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, শাহজালাল হল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন হল এবং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। হলটির সুন্দর পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক আবহ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্মরণীয় সময় তৈরি করবে। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি হলের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শাহজালাল হলে দেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বসবাস করেন। ফলে এটি একটি আন্তর্জাতিক আবহের হল। শিক্ষার্থীদের এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ