প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ছয়সূতী ইউনিয়নে একটি স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মারধোরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মাধবদী গ্রামের কান্দারবাড়ির কৃষক মো. মস্তোফা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত অনিক মিয়া (১৯) কুলিয়ারচর পৌর এলাকার পূর্ব গাইলকাটা গ্রামের খোকন মিয়া ও মোছা. শারমিন দম্পতির ছেলে। মাঝে মাঝে মাধবদী গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে সে বেড়ে উঠেছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়ার সময় অনিক মিয়া প্রায়ই ওই স্কুল ছাত্রীর (১২) উপর উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে স্কুল যাওয়ার পথে অভিযুক্ত অনিক মিয়া আবারও ইভটিজিংয়ের শিকার হন ওই ছাত্রী। এ সময় প্রতিবাদ করে বাড়ি আসার পর বিষয়টি ভগ্নিপতিসহ বড় বোন ও মা-বাবাকে জানায়। বিষয়টি জানার পর সালিকার নিকট পৌঁছালে ছাত্রীর ভগ্নিপতি অভিযুক্ত অনিক মিয়াকে ডেকে বলেন যাতে তার সালিকাকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে আর উত্ত্যক্ত না করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত অনিক মিয়া মধুদি গ্রামে লোহার রড নিয়ে ছাত্রীর ভগ্নিপতির ভাড়া বাড়ির আঙ্গিনায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছাত্রীর ভগ্নিপতি ও শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালান এবং ছাত্রীকে লোহার রড দিয়ে মারধোর করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করেন। যাওয়ার সময় অনিক মিয়া যুবতী ও তার পরিবারকে শাসিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তারা আবারও হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুটির।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুধু নিজের সম্মান রক্ষায় প্রতিবাদ করেছিলেন কিন্তু তার প্রতিবাদের ফলশ্রুতিতে হামলা ও মারধোরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। একজন স্কুল ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এই ঘটনার পর ওই ছাত্রীর বড় বোন বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে অভিযুক্ত অনিক মিয়ার বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন সহ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযুক্ত অনিক মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালান। কিন্তু ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অনিক মিয়া পলাতক থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভগ্নিপতি একাধিক ভিডিও উপস্থাপন করে বলেন, "আমার সালিকাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে অভিযুক্ত অনিক মিয়া উত্ত্যক্ত ও অশালীনভাবে কথা বলায় আমি ও আমার সালিকা প্রতিবাদ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অনিক মিয়া লোহার রড নিয়ে আমার ভাড়াটিয়া বাসায় এসে হামলা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মিনার মিয়া ও ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, কেন ওই ছাত্রীর উপর হামলা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্তের মামা মাছ শিকারী মো. কাজল মিয়া জানান, "আমি আমার ভাগিনাকে ওই স্কুল ছাত্রীর ওপর হামলা চালাতে দেখেছি। তবে কেন, কোন কারণে মেরেছে তা জানি না।"
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত অনিক মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, "এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ছাত্রীর বড় বোনের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার এই বিষয়ে বলেন, "বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন