ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ


কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চলছিল। প্রশাসন নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানারও টাঙিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে এবং ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন। প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি দাবি করেছেন, নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্মাণস্থলে টাঙানো ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্দেশক্রমে এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ সময় কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও চলছিল। চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়নকাজ এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধও রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান দেওয়ানি আদালতে জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তার দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার দাদা চিথাও ও নাথাও।

ফলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ঘিরে অনুমোদনসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ উভয়ই সামনে এসেছে। তবে জমিটির মালিকানা সম্পর্কে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে চেয়ারম্যান হিসেবে তার নাম ও ছবি রয়েছে।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটিকে ‘বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম’ হিসেবে প্রচার করে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারণায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটির শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়ে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী বলেন, "এটি একটি বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।"

অন্যদিকে, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন বলেও জানান তিনি।

এআরবি

আরও পড়ুন: বরিশালে হাজী বিরিয়ানিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ও প্রতারণার অভিযোগ,খাবারের পরিমাণ ও মাংসের মান নিয়ে প্রশ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে একটি রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কার্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে আসেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছাদে তিনটি ব্লকে সারিবদ্ধভাবে ২৪০টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।

সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে এসব প্যানেল থেকে ১৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমছে এবং সরকারের বিদ্যুৎ ব্যয়ও সাশ্রয় হচ্ছে।

এছাড়া, ছুটির দিনে সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং বিদ্যুৎ বিলও হ্রাস পেয়েছে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেট মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেসকোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এক মাসের মধ্যে বিল সাশ্রয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের পর থেকে কার্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। জেলার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে অন্যান্য সরকারি ভবনের ছাদেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে জেলার সাতটি পৌরসভায় রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রতিটি পৌরসভায় ৩০ লাখ টাকা এবং উপজেলাগুলোতে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দের ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলুচিস্তানে তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ রাজপুত্রকে অপহরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ এম


বেলুচিস্তানে তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ রাজপুত্রকে অপহরণ

পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে নিজের তিন বন্দুকধারী দেহরক্ষীসহ অপহৃত হয়েছেন কালাতের বর্তমান খানের ছেলে শাহজাদা মুহাম্মদ খান আহমেদজাই।

মঙ্গলবার পুলিশের তরফ থেকে এই অপহরণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

কোয়েটার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার রাতে খুজদার থেকে কালাতে যাওয়ার পথে মহাসড়কে শাহজাদা আহমেদজাইয়ের গাড়িটি থামায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। এরপর সেখান থেকেই শাহজাদাসহ তার সফরসঙ্গী তিন দেহরক্ষীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐতিহাসিকভাবে সাবেক কালাত সাম্রাজ্যের শাসকদের ‘কালাতের খান’ উপাধিতে ভূষিত করা হতো। বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই রাজ্যটি ছিল ব্রাহুইদের নেতৃত্বাধীন একটি দেশীয় রাজ্য। কালাতের বর্তমান খান সুলেমান দাউদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও ওয়েলসে বসবাস করছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ এম


মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে

বাবা-মায়ের জমিতে গড়ে তোলা পাকা বাড়িতে বসবাস করে ছেলের সচ্ছল জীবনযাপন। কিন্তু সেই ছেলের ৮০ বছর বয়সি মায়ের ঠাঁই হয়েছে মেয়ের বাড়ির জরাজীর্ণ একটি ঘরে। ঘরের টিনের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে দিনে সূর্যের আলো, রাতে চাঁদের আলো প্রবাহিত হয়। বৃষ্টি হলে বিছানা-বালিশ ভিজে যায়। চোখে ঝাপসা দেখলেও বৃদ্ধা কাঁথা সেলাই করে কোনোরকমে জীবন কাটাচ্ছেন।

এমন দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের মমেনা বেগম। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রায় ১৪ বছর আগে তাকে ও তার স্বামী আব্দুস সাত্তারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের ছেলে মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে মোখলেছুরের দাবি, মাকে একাধিকবার বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফেরেননি। তার মা মেয়েদের নামে জমি লিখে দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মমেনা বেগমের অভিযোগ, বাবা-মায়ের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন তার ছেলে। কিন্তু আরও জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। কন্যাসন্তান থাকায় বাবা-মা তাকে কিছু জমি দিলেও মোখলেছুর এতে সন্তুষ্ট হননি। একপর্যায়ে তারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর মেয়ে খাদিজা বেগমের আশ্রয়ে তাদের নতুন জীবন শুরু হয়। চার বছর আগে সেখানেই মারা যান আব্দুস সাত্তার। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে খাদিজার বাড়িতে থেকে কাঁথা সেলাই করেই দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধা মমেনা।

জমি নিয়ে বিরোধের কথা তুলে ধরে মমেনা বেগম বলেন, ‘তোমরা তিন ভাইবোনে জমি খাইবেন। বোনদের কম দিবি, তুই বেশি খাবি।’ তার ভাষ্য, জমি লিখে না দিলে ছেলে তাকে বাড়িতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলতেন। এ ছাড়া ছেলের বিরুদ্ধে তাকে ও তার স্বামীকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। মমেনার অভিযোগ, ছেলের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলতে শুনেছেন, ‘আয় তো আয়, ওই বুড়ার হাত-ঠ্যাং ভাঙি দিয়ে পুশুমো।’

মমেনা বেগম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েও জানাজা ও দাফনে অংশ নেননি মোখলেছুর রহমান। নিজের বসতভিটায় স্বামীকে দাফন করার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন মমেনা। এসব অভিযোগ প্রকাশ করলে ছেলে তাকে মেরে ফেলতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মমেনার মেয়ে খাদিজা বেগমের অভিযোগ, ছোট বোনের জন্য নির্ধারিত জমিতে ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন তাদের মা। কিন্তু মোখলেছুর রহমান এতে বাধা দেন। জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা ১৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। খাদিজার দাবি, পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের বাবা-মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, মোখলেছুরের মা-বাবা দীর্ঘদিন মেয়ের বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন। সেখানেই তার বাবা মারা যান। এখন বৃদ্ধা মাও একই বাড়িতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার অভিযোগ, মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর মোখলেছুর আর তাদের খোঁজখবর রাখেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আলীর ভাষ্য, বাবার মৃত্যুর সময়ও মোখলেছুর জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষিত হয়েও মায়ের প্রতি এমন আচরণ দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, একজন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজের মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মাকে একাধিকবার ফিরতে বললেও তিনি আসেননি। অনেকবার আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আসেননি। তার জমিজমা তিনি মেয়েদের লিখে দিয়েছেন।’

স্থানীয় উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, ‘প্রতিটি সন্তানের উচিৎ সর্বস্ব দিয়ে বাবা-মায়ের সেবা করা। এটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ১৪ বছর আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি সত্য হলে তা সমাজে অমানবিক একটি কাজ। এটা আমরা মানতে পারি না। তবে এ বিষয়ে কখনো কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। আপনার কাছে শুনলাম। কেউ অভিযোগ করলে আমি বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহার উদ্যোগ নিতাম।’

কুড়িগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব নিলু বলেন, সমাজে পারিবারিক বন্ধন ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনে অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন প্রণয়ন করেছে। এ আইনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

যে বয়সে সন্তানের কাছে আশ্রয়, যত্ন ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেই বয়সে মমেনা বেগমের দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। একদিকে জরাজীর্ণ ঘরে তার কষ্টের জীবন, অন্যদিকে বাবা-মায়ের জমিতে নির্মিত বাড়িতে ছেলের বসবাস-এই বৈপরীত্য স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। জীবনের শেষ সময়ে একটু নিরাপত্তা, যত্ন ও সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান এই বৃদ্ধা মা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলভারেজকে দলে নিতে ব্যর্থ বার্সেলোনা, জরিমানা গুনল স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


আলভারেজকে দলে নিতে ব্যর্থ বার্সেলোনা, জরিমানা গুনল স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

বার্সেলোনা দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি, এবার জরিমানা গুনতে হলো তাদের। স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আতলেতিকো মাদ্রিদের অভিযোগের ভিত্তিতে বার্সেলোনাকে জরিমানা আরোপ করেছে।

জরিমানার পরিমাণ খুব বেশি নয়। কাতালান ক্লাবটির উপর বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৪ হাজার টাকা (৬০২ ইউরো) জরিমানা করেছে স্পেনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আতলেতিকো মাদ্রিদের অভিযোগ, বার্সেলোনা তাদের সঙ্গে লিখিতভাবে যোগাযোগ না করেই আলভারেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি মাদ্রিদের ক্লাবটি। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।

ফিফার কাছে প্রতিকার না পেলেও, আতলেতিকো আলভারেজকে ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৬ বছরের চুক্তিতে তিনি স্প্যানিশ ক্লাবে যোগ দেন। আতলেতিকোর হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১১৫ ম্যাচে ৫১ গোল করেছেন। অন্যদিকে, সিটির হয়ে ১০৩ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৩৬।

বার্সেলোনায় খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আতলেতিকোর সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো শুনতে হয়েছে আলভারেজকে। শনিবার দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর কিছু সমর্থকের কাছ থেকে অভিবাদনও পেয়েছেন তিনি।

জয়ের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আলভারেজ। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘এটা আমার ভুল ছিল। সমর্থকরা কেন রাগ করেছেন, তা আমি বুঝতে পারছি। আমি যদি সমর্থক হতাম, আমারও রাগ হতো। বিশেষ করে এখানে আসার পর থেকে তারা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সেটি বিবেচনায় নিলে।’

এই জয়ের ফলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানও কমে এসেছে আতলেতিকোর। এখন ব্যবধান ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সমান ১০ ম্যাচে আতলেতিকোর পয়েন্ট ২৫, অন্যদিকে বার্সেলোনার পয়েন্ট ২৭।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%