ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

দলীয় কর্মী হলেও অপরাধীদের সঙ্গে আপস নয়: সড়ক প্রতিমন্ত্রী


দলীয় কর্মী হলেও অপরাধীদের সঙ্গে আপস নয়: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, দলীয় কর্মী বা সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না, এটি একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কায়েতপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এই বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলের সদস্য বা সমর্থক হলে কী হয়েছে, অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।’ একই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগের সরকারের সময় থেকেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান ছিলো। তবে সে সময়ে এই সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ বা সাহস ছিল না। সরকারের উপর্যুপ্ত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দক্ষিণ সিটি এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমাতে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি আব্দুস সালাম কায়েতপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের কথা মাথায় রেখে ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমাদের চিন্তার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ পি.এম


‘আমাদের চিন্তার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়ে ড্রাইভিং টেস্ট দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি দেশের সড়ক ব্যবস্থা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

দেশের সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা উল্লেখ করে 'ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে কেন'- এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেন জাইমা রহমান।

বুধবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্টে এসব ভাবনা তুলে ধরেন। পোস্টের সঙ্গে শৈশবে খেলনা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ধরা একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি যুক্ত করেন তিনি।

এসময়ে জাইমা জানান, দশ বছরেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে প্রথম ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য এটি তার জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট। দুই পরীক্ষাতেই তিনি প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষায় তিনি যতটা প্রস্তুত হয়েছেন, অন্যটি ততটা করেনি। পোস্টে লেখেন, 'এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এবং সেই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।'

জাইমা রহমানের মতে, 'অনেক তরুণ বাংলাদেশির, বিশেষ করে ঢাকার তরুণদের, একটি মৌলিক হতাশা আছে: আমাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেটি সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।'

তিনি দেশের পথচারীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, 'আপনাকে হয়তো পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়, এমন ফুটপাত ধরে হাঁটতে হয় যেটি হঠাৎ শেষ হয়ে যায় কিংবা দখল হয়ে থাকে, আর পথ করতে হয় বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেটকারের ভিড়ের মধ্য দিয়ে, যেগুলোর প্রতিটি চলছে আলাদা আলাদা অলিখিত নিয়মে।'

যাত্রী হিসেবেও নাগরিকদের হাতে কার্যত কিছুই নেই বলে মনে করেন জাইমা। এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আপনার বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে কি না, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক ফিটনেস আছে কি না, কিংবা চালক ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, এর কোনও কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।'

নতুন চালক হিসেবে সবকিছু নিয়ম মেনে করতে গেলে আরও নানা প্রশ্ন সামনে আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাইমা প্রশ্ন তুলে বলেন, 'নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয়? সঠিক পদ্ধতিটা কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়? পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেই কাগজটির জন্য, যা প্রমাণ করে আমি পাস করেছি?'

বিআরটিএর অনেক সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'কিন্তু ডিজিটাল করা তখনই কাজে আসে, যখন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে। অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় 'অফিসে এসে কথা বলুন'-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি।'

প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা 'লেনদেনের নতুন সুযোগ' তৈরি করে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা। ব্রোকারেরা এই প্রক্রিয়ার ফাটলটির সুযোগ নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জাইমা রহমান আরও বলেন, 'মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়; বরং সরকারি প্রক্রিয়াটি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে একজন মধ্যস্থতাকারীই সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এতে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না হয়ে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।'

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন জাইমা রহমান। তার মতে, 'লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ চমৎকার সব নিয়ম তৈরি করতে পারে। কিন্তু যদি নিয়ম বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন: আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?'

দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু অন্যায় সংঘটিত হওয়া নয়, বরং সেই অন্যায়ের প্রতিকার কীভাবে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাইমা। তিনি মনে করেন, 'অভিযোগ করে কিছু হবে না, বরং নিজেরই বাড়তি ভোগান্তি হবে, মানুষ যদি এমনটা বিশ্বাস করে, তাহলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দাঁড়ায়: 'কী দরকার? চেনাজানা কাউকে বলি।' আর এইভাবে ব্যাপারটি চলতেই থাকে।'

তিনি সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। জাইমার মতে, 'এটি হতে হবে সেই মানুষগুলোকে ঘিরে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা একজন নারী। পরের অর্ডারটি ধরার তাড়ায় থাকা একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো একজন বাসচালক। ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। একজন রিকশাচালক, যার বাহনটিই তার জীবিকা। একই সড়ক তাদের প্রত্যেকের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।'

ভালো নীতিমালাকে এই বাস্তবতাগুলো বুঝতে হবে উল্লেখ করে জাইমা বলেন, 'নইলে নিয়ম উল্টো দরিদ্র বা বেশি ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, আর তাতে শোষণ ও ঘুষের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।'

নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, '২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল সামলানোর চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে।'

এ অবস্থায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের ধরন বদলানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জাইমা। তার মতে, 'তাই প্রশ্নটি এখন সম্ভবত আর এই নয় যে 'সড়ক নিরাপদ নয়'। প্রশ্নটি বরং এই: 'সমস্যাগুলো তো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি। ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?' আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের প্রশ্নটা বদলে যায়। প্রশ্ন কেবল এটি হতে পারে না যে 'নাগরিকদের দিয়ে কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে?'

আইন প্রয়োগকে কীভাবে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় এবং অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে কীভাবে নিরাপদ ও কার্যকর করা যায়- এসব বিষয় নিয়েও ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষে জাইমা রহমান লেখেন, 'আমাদের এটিও জিজ্ঞাসা করা উচিত: সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে সবাই একই পরিষেবা পাবে?, আমরা কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারি?, কীভাবে আমরা অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করে তুলতে পারি? এবং আমরা কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করব যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে কারও জীবনহানি না ঘটে?'

সবশেষে তিনি বলেন, 'পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবির শাহজালাল হলে নবীনবরণ, ফলদ বাগান ও সংস্কারকৃত বাস্কেটবল কোর্টের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


বাকৃবির শাহজালাল হলে নবীনবরণ, ফলদ বাগান ও সংস্কারকৃত বাস্কেটবল কোর্টের উদ্বোধন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শাহজালাল হলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি হওয়া স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে হলের ফলদ বাগান, সংস্কারকৃত বাস্কেটবল কোর্ট এবং সংস্কারকৃত রাস্তার উদ্বোধন করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে শাহজালাল হলের কমন রুমে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে হলের স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এর আগে হলের ফলদ বাগান, সংস্কারকৃত বাস্কেটবল কোর্ট এবং সংস্কারকৃত রাস্তার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, বাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, অধ্যাপক ড. সামছুল আলম ভূঁইয়া এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন।

এই অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের হলের পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। একইসাথে পড়াশোনার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।

অধ্যাপক ড. সামছুল আলম ভূঁইয়া নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে সফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল নয়, মানবিক মূল্যবোধ, শিষ্টাচার এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে।

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, শাহজালাল হল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন হল এবং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। হলটির সুন্দর পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক আবহ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্মরণীয় সময় তৈরি করবে। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি হলের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শাহজালাল হলে দেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বসবাস করেন। ফলে এটি একটি আন্তর্জাতিক আবহের হল। শিক্ষার্থীদের এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৃহপরিচারিকার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বৃদ্ধ দম্পতিসহ ৩ জন খুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


গৃহপরিচারিকার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বৃদ্ধ দম্পতিসহ ৩ জন খুন

সিলেট নগরের রায়নগর রাজবাড়ীর মিতালী আবাসিক এলাকায় একই ঘরের ভেতর এক বৃদ্ধ দম্পতি এবং তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানিয়েছে, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (১৫) সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরেই এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে রাজবাড়ীর মিতালী-১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলায়’ মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত গৃহকর্তার নাম আব্দুস সত্তার মিয়া (৮২) এবং তার স্ত্রীর নাম সুরাইয়া বেগম (৭২)। নিহত আব্দুস সত্তার মিয়া সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। তাদের চার সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। তবে দেশে কেবল এই বৃদ্ধ দম্পতি একসাথে থাকতেন।

বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। পুলিশ কমিশনার জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরপরই একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল তিনটার দিকে রায়নগর এলাকা থেকেই ঘাতক বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার বাবুল পেশায় একজন রংমিস্ত্রি, তবে মাঝেমধ্যে কসাইয়ের কাজও করতেন। পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে কাজ করা কিশোরী গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের ১৫-২০ দিনের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে বাবুল ওই বাড়িতে যাওয়ার পর তাহমিনা দরজা খুলে দেয়। পুলিশের ধারণা, তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের কোনো উদ্দেশ্য ছিল।

তবে সেখানে একপর্যায়ে তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাবুল তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তাহমিনার চিৎকার শুনে ঘরের গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে বাবুল তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে গৃহকর্তা আব্দুস সত্তার মিয়া এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক ব্যালকনির খোলা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।

এসএমপি কমিশনার বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের একটি খালি প্লটে সে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে দেয়। পুলিশ এখন ছুরিটি উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো সেই রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো সেই রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম সাইমন মারা গেছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানোর পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্ট্রোক করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।

সাইমন বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে, সাইমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ, সাইমন আজ সন্ধ্যায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে। এভাবে তার চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কষ্টকর। মরদেহ সাইমনের চট্টগ্রামের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, গত শনিবার (৮ আগস্ট) স্ট্রোক হওয়ার পর সাইমনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%