০৯:৫৮ পি.এম
ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল ছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার জন্য এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এর আগেই তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে। ‘আয়নাঘর’ ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে তারা terror রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতা সহকারে স্মরণ করেন।
চিফ হুইপ আরও বলেন, বর্তমান সংসদের গত পাঁচ মাসে তারা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন (রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পরিস্থিতির আলোকে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কোন ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধানে সংসদ একযোগে কাজ করেছে এবং সুফল পেয়েছে। নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার যাই বলি না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করা।’
তিনি ভারতের সংবিধানের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ৭৬ বছরে তারা ১০৬ বার সংশোধন করেছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংবিধানেও উপযুক্ত পরিবর্তন আনা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সুখী-সমৃদ্ধ দেশে বেড়ে ওঠে।
সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের সকল সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করি। পার্লামেন্টই হবে সকল সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।’
তিনি রাজপথের পরিবর্তে সংসদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে টেকসই এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন