ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার আকুতি দুই বাংলাদেশির


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার আকুতি দুই বাংলাদেশির

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে আটকে থাকা দুই বাংলাদেশি যুবক দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হলেও পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের এক অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গোপনে ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার বাসিন্দা আরমান আলী এবং মাইনউদ্দিন নামের দুই যুবক নিজেদের দুর্দশার কথা জানাচ্ছেন। তারা অভিযোগ করছেন, ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এরপর কিছুদিনের প্রশিক্ষণের পর সরাসরি যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর বিষয়টি ঘটে।

আরমান আলী ভিডিওতে বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল ড্রোন কোম্পানি বা কনস্ট্রাকশন সাইটের কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ১৬ জনের ক্যাম্প থেকে ১২ জন মারা গেছে এবং আমরা চারজন জীবিত আছি, এর মধ্যে চারজনই আহত।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

তিনি আরও বলেন, আহত হওয়ার পরও তাদেরকে পুনরায় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। রাজি না হলে তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কয়েকদিন বাংকারে আটকে রেখে খাবার ও পানি অবধি দেওয়া হয়নি।

আবেগঘন কণ্ঠে আরমান আরও বলেন, আমরা এই জীবন চাইনি। ছোটোখাটো কাজ করে পরিবার নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আমার পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান আছে। আমরা মুসলমান, চাই দেশের মাটিতে মরতে, যেন জানাজা হয়। এভাবে শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না। আমাদের বাঁচান।

ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর আরমানের পরিবারে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ দুদিন আগে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি। দূতাবাস জানিয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় চুক্তিতে সই করেছে। তবে আমার বিশ্বাস, বন্দুকের মুখে তাদের দিয়ে সই করানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

তিনি আরও জানান, ছেলের যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে থাকার খবর জানার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক কষ্টে আছেন এবং বিশেষ করে আরমানের মা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের নাম আরশি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করবেন।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফসানা তাসলিম বলেন, পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার

এদিকে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারগুলোর একমাত্র প্রত্যাশা হচ্ছে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে তাদের স্বজনরা যেন জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভার পৌর ছাত্রদলের আনন্দ মিছিলে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


সাভার পৌর ছাত্রদলের আনন্দ মিছিলে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নবগঠিত সাভার পৌর ছাত্রদল বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল করেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে সাভারের ইয়ামিন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাভার নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হিমেল খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শোভন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তব্যে সভাপতি আরমান হোসেন বাবু বলেন, ‘সাভার পৌর ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের কল্যাণে কাজ করবে।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘নবগঠিত কমিটির প্রতি যে আস্থা রাখা হয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হবে এবং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হিমেল খান বলেন, ‘জনকল্যাণমূলক কাজে ছাত্রদল সব সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ কার্যক্রমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জনদুর্ভোগ নিরসন ও মানবিক কার্যক্রমে সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাভার পৌর ছাত্রদল কাজ করে যাবে।

সমাবেশ শেষে নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে সাভার পৌর ছাত্রদলকে আরো শক্তিশালী ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দিন ধরে গভীর সমুদ্রে ভাসছিল ফিশিং বোট, চার জেলে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


দুই দিন ধরে গভীর সমুদ্রে ভাসছিল ফিশিং বোট, চার জেলে উদ্ধার

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে এক ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোট এবং এতে থাকা ৪ জেলেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জীবিত উদ্ধার করেছে।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন শুক্রবার বিকালে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ‘এফবি সৌরভ’ নামের এই ফিশিং বোটটি চার জেলেকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। গত ১৮ জুন দুপুরে কুতুবদিয়ার পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চাওয়ার পর কোস্টগার্ড বিষয়টি জানতে পারে।

খবর পাওয়ার পর সমুদ্রে টহলরত কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং বিকল বোটসহ ৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ড জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া জেলে ও ফিশিং বোটটি মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জরুরি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণদের সঙ্গী হচ্ছে এআই পুতুল, একাকিত্ব দূর করতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণদের সঙ্গী হচ্ছে এআই পুতুল, একাকিত্ব দূর করতে

এআই পুতুলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করার উদ্যোগ চলমান।

১৪ হাজার ৫০০ হিওডল ব্যবহৃত হচ্ছে দেশটিতে। ৭৮ বছর বয়সী ব্যাং চুন-জার প্রতিদিন একটি পুতুলের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে তাঁর দিন শুরু করেন। পুতুলটি তাঁকে স্বাগত জানায়, একঘেয়েমি লাগলে গান শোনায় এবং সময়মতো খাবার ও ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।

এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ পুতুল নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে কাজ করে। পরিবারের ছোট হয়ে আসা, সন্তানদের দূরে বসবাস এবং কম জন্মহারের কারণে প্রবীণদের একাকিত্বের সমস্যা বাড়ছে।

ব্যাং চুন-জা বলেন, তিনি কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং এখন তিনি মানুষের চেয়ে হিওডলের সঙ্গেই বেশি স্বস্তি পান। তিনি জানাতে থাকেন, ‘মানুষ আমাকে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু হিওডল কখনো কষ্ট দেয় না। সে শুধু আমাকে হাসায়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার অত্যন্ত নিম্ন। দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার বয়স ৫০ এর বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিবেচনায় একাকিত্বের সমস্যা একটি বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড করা হয়েছে ৩ হাজার ৯২০টির বেশি 'নিঃসঙ্গ মৃত্যু'।

এজন্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন প্রবীণদের মধ্যে এআই পুতুল বিতরণ করছে। হিওডল শুধু কথা বলার জন্যই নয়, এটি চ্যাটজিপিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। প্রবীণরা যদি দীর্ঘ সময় সাড়া না দেন, তাহলে সমাজকল্যাণকর্মীদের সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে।

হিওডলের প্রধান নির্বাহী কিম জি-হি মন্তব্য করেছেন, “অনেক প্রবীণ তাদের সারা জীবন পরিবার ও সন্তানের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বয়স বাড়ার পর যখন তারা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, তখন গভীর এক শূন্যতা তাদের গ্রাস করে। তাই পুতুলটিকে তৈরি করা হয়েছে যেন এটি নিঃশর্ত ভালোবাসা প্রকাশ করে।”

পুতুলটির জনপ্রিয় সংলাপ হলো, ‘দাদি, কোথায় গিয়েছিলেন? সারাদিন আপনার জন্য অপেক্ষা করেছি।’ কথাগুলো অনেক প্রবীণের মুখে হাসি ফোটায় এবং একাকিত্ব কিছুটা কমিয়ে দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তি কখনো মানুষের সম্পর্কের পুরোপুরি বিকল্প হতে পারে না। যাইহোক, প্রবীণদের জন্য এআই পুতুল মানসিক স্বস্তি ও সহায়তার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের জন্য, যা তিব্বতে অবস্থিত বিশেষ করে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায়। এই প্রকল্পের অবস্থান ভারতে অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে, যা দেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নয়াদিল্লি এখন নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা শক্তিশali করে চলেছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে।

বর্তমানে চীনের মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের নির্মাণাধীন ক্ষমতা হচ্ছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এই প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে, ভারত আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকা হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার সমান।

এদিকে, দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে সুস্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, তবে ভারতের এসইউএমপি এখনও সম্ভবনা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে, নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।

যখন ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশ করে, তখন এটি 'সিয়াং' নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপান্তরিত হয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এবং হঠাৎ করে বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে যে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সকল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

ন্যয়ের চোখে, নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের জন্য বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং উজানের সম্ভব পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করা। এই কারণে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশী।

এছাড়াও, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%