ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত


চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের জন্য, যা তিব্বতে অবস্থিত বিশেষ করে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায়। এই প্রকল্পের অবস্থান ভারতে অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে, যা দেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নয়াদিল্লি এখন নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা শক্তিশali করে চলেছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে।

বর্তমানে চীনের মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের নির্মাণাধীন ক্ষমতা হচ্ছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এই প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে, ভারত আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকা হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার সমান।

আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে

এদিকে, দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে সুস্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, তবে ভারতের এসইউএমপি এখনও সম্ভবনা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে, নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।

যখন ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশ করে, তখন এটি 'সিয়াং' নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপান্তরিত হয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এবং হঠাৎ করে বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে যে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সকল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

ন্যয়ের চোখে, নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের জন্য বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং উজানের সম্ভব পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করা। এই কারণে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশী।

এছাড়াও, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুলে সাংস্কৃতিক বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি খাতে ২ শতাংশ বাজেটের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


স্কুলে সাংস্কৃতিক বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি খাতে ২ শতাংশ বাজেটের দাবি

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলা, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয় চালু করে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

সংগঠনটি পাশাপাশি আহ্বান জানিয়েছে যে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মোট বরাদ্দের অন্তত ২ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু এবং দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মাত্র ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের এক শতাংশেরও কম। বক্তাদের মতে, দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন।

তারা এ নিয়ে বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে তরুণদের একটি অংশ মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাশাপাশি সমাজে সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সংকট ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে।

তারা উল্লেখ করেন যে, ওই গোষ্ঠী বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা করছে এবং নাচ-গান ও খেলাধুলার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বক্তাদের দাবি, এ ধরনের বিরোধিতার কারণেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়নি।

বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি, মিলনায়তন ও সাংস্কৃতিক মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মামুনুল হককে নিয়ে স্পিকারের মন্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্র মজলিসের বি-ক্ষোভ সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


মামুনুল হককে নিয়ে স্পিকারের মন্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্র মজলিসের বি-ক্ষোভ সমাবেশ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে জাতীয় সংসদে স্পিকারের মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর, সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশের পর, একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয় এবং দৈনিক বাংলা মোড় প্রদক্ষিণ করে বায়তুল মোকাররম পূর্ব গেটে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মুহাম্মাদ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভবিষ্যতে যারা ফ্যাসিবাদের রাজনীতি করবে, তাদের পরিণতিও ফ্যাসিবাদীদের মতোই হবে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে, সংসদে একজন জনপ্রিয় আলেম ও বিরোধী মতের নেতাকে আক্রমণ করা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণেরই একটি প্রকাশ। একটি মীমাংসিত বিষয়ে আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে যে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে, তার জন্য স্পিকারকে অবশ্যই জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'জনাব আবু আশফাকের অশালীন বক্তব্যের জন্য আদালত অবমাননা ও মানহানি মামলায় গ্ৰেপ্তার করে অবশ্যই জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।'

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি পরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক আহমাদ মুরসালিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মোহাম্মদ আদনান রাফি এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আহমাদুল্লাহসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শান্তি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র নয়, মরিয়া অবস্থায় ইরান : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র নয়, মরিয়া অবস্থায় ইরান : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা (এমওইউ) চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে উল্লিখিত করেছেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরান ‘মরিয়া’ অবস্থায় ছিল।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে বৈঠকে বসিনি, ইরান বসেছে।

তারা শেষ হয়ে গেছে!’

তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় ইরানকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ক গুঞ্জনও তিনি খন্ডন করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টতই বলেছেন, ‘তারা কোনো অর্থ পাবে না, এক সেন্টও নয়।’

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ইরানের সম্ভাব্য সম্পদ অবমুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনার সৃষ্টি হলেও, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষের ওপর জিনের আছর, ইসলাম কি বলে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


মানুষের ওপর জিনের আছর, ইসলাম কি বলে?

আল্লাহ মানুষকে এবং জিনকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, 'আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।' (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)

জিন শব্দটি আরবি। এটির বাংলা অর্থ হল যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী অথবা অনেক দূরে। বাংলা ভাষায় এটি ভূত শব্দ দ্বারা চিহ্নিত হয়। এর আরবি প্রতিশব্দ হল 'ইফরিত'। 'ইফরিত' সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, 'এক শক্তিশালী জিন (ইফরিত) বলল, আপনি আপনার (সুলাইমান (আ.)) স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা (বিলকিসের সিংহাসন) এনে দেব। আমি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে শক্তিমান, বিশ্বস্ত।' (সুরা নামল, আয়াত: ৩৯)।

এ আয়াতে 'ইফরিতুম মিনাল জিন' অর্থাৎ জিনদের মধ্য থেকে এক 'ইফরিত' বা ভূতের কথাটি এসেছে। তাফসিরবিদরা বলেছেন, এই জিনদের মধ্যে যারা অবাধ্য, বেপরোয়া, দুষ্ট প্রকৃতির ও শক্তিশালী হয়ে থাকে, তাদেরই 'ইফরিত' বলা হয়। (আল মুফরাদাত ফি গারিবিল কোরআন)। এই জিনরাই মানুষের ওপর আছর করে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, 'এর আগে (আদি মানব সৃষ্টির আগে) আমি জিন সৃষ্টি করেছি অত্যুষ্ণ আগুন (উত্তপ্ত অগ্নিশিখা) থেকে।' (সুরা হিজর, আয়াত: ২৭)

আলোচ্য অংশে জিন জাতির আদি পিতার সৃষ্টির বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ জিন জাতির আদি পিতাকে উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারপরে জিনদের বংশবিস্তার হতে থাকে।

জিন জাতি সম্পর্কে সমাজে অনেক কথাবার্তা প্রচলিত রয়েছে। আধুনিক মনস্ক অনেক মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, 'সত্যিই কি জিন-ভূত মানুষের ওপর আছর করতে পারে?' এর উত্তর হলো, অবশ্যই জিন মানুষকে আছর করতে পারে। তারা মানুষের ওপর আছর করে, এবং যাদের ওপর আছর করে, তাদের নিয়ন্ত্রণও করতে সক্ষম। এমনকি সেই ব্যক্তির স্বাভাবিক কাজকর্মেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে মানুষের ওপর জিন জাতির আছরের ধারণা পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন,

اَلَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ অর্থ: যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) এমন ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দিয়েছে।

জিন মানুষের ওপর আছর করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে তাফসিরকারকরা এই আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। শয়তানের আছরে মানুষ মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে- এ আয়াত থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। (তাফসিরে কুরতুবি: ৩/৩৫৫; তাফসিরে তাবারি: ৩/১০১)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'শয়তান আদম সন্তানের শরীরে প্রবাহিত হয়, যেমন রক্ত শরীরে প্রবাহিত।' (মুসলিম: ২১৭৫)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি অসুস্থ বালকের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন- যার ওপর জিনের আছর ছিল। নবীজি ছেলেটির দিকে ফিরে বলেছিলেন,

ও আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে আসো, ও আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে আসো। এরপর ছেলেটি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। (ইবনে মাজাহ: ৩৫৪৮)

এটি পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে যে, খারাপ বা দুষ্টু জিন মানুষের ওপর আছর করতে সক্ষম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%