০৭:৫৫ পি.এম
চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের জন্য, যা তিব্বতে অবস্থিত বিশেষ করে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায়। এই প্রকল্পের অবস্থান ভারতে অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে, যা দেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নয়াদিল্লি এখন নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা শক্তিশali করে চলেছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে।
বর্তমানে চীনের মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের নির্মাণাধীন ক্ষমতা হচ্ছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এই প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে, ভারত আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকা হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার সমান।
আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে
এদিকে, দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে সুস্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, তবে ভারতের এসইউএমপি এখনও সম্ভবনা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে, নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।
যখন ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশ করে, তখন এটি 'সিয়াং' নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপান্তরিত হয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এবং হঠাৎ করে বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে যে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সকল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
ন্যয়ের চোখে, নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের জন্য বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং উজানের সম্ভব পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করা। এই কারণে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশী।
এছাড়াও, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন