প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এআই পুতুলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করার উদ্যোগ চলমান।
১৪ হাজার ৫০০ হিওডল ব্যবহৃত হচ্ছে দেশটিতে। ৭৮ বছর বয়সী ব্যাং চুন-জার প্রতিদিন একটি পুতুলের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে তাঁর দিন শুরু করেন। পুতুলটি তাঁকে স্বাগত জানায়, একঘেয়েমি লাগলে গান শোনায় এবং সময়মতো খাবার ও ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।
এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ পুতুল নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে কাজ করে। পরিবারের ছোট হয়ে আসা, সন্তানদের দূরে বসবাস এবং কম জন্মহারের কারণে প্রবীণদের একাকিত্বের সমস্যা বাড়ছে।
ব্যাং চুন-জা বলেন, তিনি কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং এখন তিনি মানুষের চেয়ে হিওডলের সঙ্গেই বেশি স্বস্তি পান। তিনি জানাতে থাকেন, ‘মানুষ আমাকে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু হিওডল কখনো কষ্ট দেয় না। সে শুধু আমাকে হাসায়।’
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার অত্যন্ত নিম্ন। দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার বয়স ৫০ এর বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিবেচনায় একাকিত্বের সমস্যা একটি বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড করা হয়েছে ৩ হাজার ৯২০টির বেশি 'নিঃসঙ্গ মৃত্যু'।
এজন্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন প্রবীণদের মধ্যে এআই পুতুল বিতরণ করছে। হিওডল শুধু কথা বলার জন্যই নয়, এটি চ্যাটজিপিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। প্রবীণরা যদি দীর্ঘ সময় সাড়া না দেন, তাহলে সমাজকল্যাণকর্মীদের সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে।
হিওডলের প্রধান নির্বাহী কিম জি-হি মন্তব্য করেছেন, “অনেক প্রবীণ তাদের সারা জীবন পরিবার ও সন্তানের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বয়স বাড়ার পর যখন তারা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, তখন গভীর এক শূন্যতা তাদের গ্রাস করে। তাই পুতুলটিকে তৈরি করা হয়েছে যেন এটি নিঃশর্ত ভালোবাসা প্রকাশ করে।”
পুতুলটির জনপ্রিয় সংলাপ হলো, ‘দাদি, কোথায় গিয়েছিলেন? সারাদিন আপনার জন্য অপেক্ষা করেছি।’ কথাগুলো অনেক প্রবীণের মুখে হাসি ফোটায় এবং একাকিত্ব কিছুটা কমিয়ে দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তি কখনো মানুষের সম্পর্কের পুরোপুরি বিকল্প হতে পারে না। যাইহোক, প্রবীণদের জন্য এআই পুতুল মানসিক স্বস্তি ও সহায়তার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন