ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হজ শেষে ফিরলেন ৬৩৪৪০ বাংলাদেশি


হজ শেষে ফিরলেন ৬৩৪৪০ বাংলাদেশি

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরছেন ১৬৪ ফ্লাইটে মোট ৬৩ হাজার ৪৪০ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসেন ৪ হাজার ৩১৯ জন, আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৯ হাজার ১২১ জন।

এদিকে, হজ পালনের জন্য সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগের এবং পরে মারা যান ৫৪ জন বাংলাদেশি হাজি। মৃতদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এই মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, ২১ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তারা এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৩৭১ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ২২ হাজার ৩০০ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৭ জন হাজি।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি

হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চালানো হয়েছে মোট ১৬৪ ফ্লাইট। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৮৪টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৮টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৬৬৫টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ২৮৬টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন।

আরও পড়ুন: ঢাকা দক্ষিণ থেকে হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতায় ৮ জন নির্বাচিত

হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপিং! ২৩ শটের ঝড় সামলে ইরানের নায়ক যিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপিং! ২৩ শটের ঝড় সামলে ইরানের নায়ক যিনি

ম্যাচের শুরুতেই বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু তার বুটের সজোর আঘাতে আলিরেজা বেইরানভান্দের বুকের ওপর আঘাত করেন। এই আঘাতের ফলে বেইরানভান্দ বেশ কিছুক্ষণ মাঠে নিথর অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কিন্তু এই চোটকে পরাজিত করে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে যা তিনি করলেন, তা ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় অনন্যভাবে লিখিত হবে। বেলজিয়ামের ২৩টি শটের মধ্যে একাই সকল শটের ঝড় সামলে তিনি ইরানকে একটি ঐতিহাসিক পয়েন্ট এনে দেন।

রবিবার বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ গোলশূন্য (০-০) ড্র হয়েছে। এই ড্রয়ের প্রধান কারিগর হলেন ইরানের বাজপাখি বেইরানভান্দ, যিনি ম্যাচের পুরো সময় বেলজিয়ামের নিশ্চিত সব আক্রমণকে ব্যর্থ করিয়ে দিয়েছেন এবং ম্যাচ সেরা (MOTM) নির্বাচিত হয়েছেন।

ম্যাচের শুরুতেই চোটের সম্মুখীন হয়েছিলেন বেইরানভান্দ, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ম্যাজিকের মতো কাজ করেন। ম্যাচের শুরুর দিকে, কেভিন ডে ব্রুইনের একটি বিপজ্জনক ক্রসে স্লাইড করতে গিয়ে বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর পা বেইরানভান্দের বুকে আঘাত করে। চিকিৎসা নিয়ে মাঠে ফিরে আসার পর এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যান। পুরো ম্যাচে বেলজিয়াম ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল এবং গোলমুখে ২৩টি শট নিয়েছিল। এর মধ্যে লক্ষ্যে থাকা ৭টি শটের সবকটিই প্রমাণিত দক্ষতার সাথে বেইরানভান্দ সেভ করেন। বিশেষ করে ম্যাচের ১১ মিনিটে মাক্সিম ডি কাইপারের একটি শট ঠেকানো, প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডি কাইপারের ভলি রুখে দেওয়া এবং ৬০ মিনিটে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় এক হাতে ডি কাইপারের নিশ্চিত গোল রক্ষা করা ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলকিপিং দৃশ্য। নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ডি কাইপারের জোরাল শট ধরেও ইরানের 'ক্লিন শিট' নিশ্চিত করেন তিনি। গোলকিপিংয়ের পাশাপাশি ১১টি নিখুঁত লং বল এবং ৩টি হাই ক্লেইম করে দলের ডিফেন্সকে পূর্ণ ভরসা যোগান দিয়েছেন এই তারকা।

ম্যাচের দুই দলের গোলরক্ষকই দারুণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। ১৪ ও ৫৩ মিনিটে ইরানের মেহদি তারেমির দুটি নিশ্চিত এবং জোরাল শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ম্যাচের ২৫ মিনিটে এহসান হাজিসাফির ফ্রি কিক থেকে মেহদি তারেমি বল জালে পাঠালেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে এটি অফসাইডের জন্য বাতিল হয়েছে।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বেলজিয়াম বড় ধাক্কা খায়, কারণ শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ভুল করে নাতাঁ উঙ্গয় ব্যাক-পাস দেন। বল কেড়ে নেওয়া তারেমিকে পেছন থেকে টেনে ফেলায় তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেললেও তবে বেলজিয়াম ইরানের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়।

'জি' গ্রুপের সমীকরণ ও নকআউটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দেখা যায়, গত আসরে মিসরের বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর এটি বেলজিয়ামের টানা দ্বিতীয় ড্র। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ৪ ম্যাচে তারা জয়বিহীন রয়ে গেছে (৩ ড্র, ১ হার)। অন্যদিকে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর বেলজিয়ামকে আটকিয়ে দিয়ে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ইরান। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে বেলজিয়াম। আর এক ম্যাচ খেলা নিউ জিল্যান্ড ও মিশরের পয়েন্ট ১ করে।

আসন্ন শনিবার সকালে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে দলগুলো মাঠে নামবে। সেখানে বেলজিয়াম নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবং ইরান মুখোমুখি হবে মিশরের সাথে। অতীতে কখনও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছাতে না পারা এশিয়ান জায়ান্ট ইরানের সামনে বেইরানভান্দের হাত ধরে এবার ইতিহাস গড়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের যে কোনও হামলার জবাব দেওয়া হবে: হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


ইসরায়েলের যে কোনও হামলার জবাব দেওয়া হবে: হিজবুল্লাহ

যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে লেবানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের লাগাতার হামলা এবং অঞ্চল দখলের চেষ্টার নিন্দা করেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাশেম।

তিনি বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনী যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যে কোনও হামলা চালায় তবে এর জবাব তারা দেবেন।

লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলের 'নিরাপত্তা অঞ্চল' তৈরি বিষয়টিও তিনি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল লেবাননে থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি ঘটছে।

এই চুক্তির প্রথম শর্তেই লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

কিন্তু তারপরেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবাননের হুমকি মোকাবেলার জন্য ইসরায়েলি সেনারা স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেবে।

ইসরায়েলের এই বক্তব্যের পরই হিজবুল্লাহ প্রধান কাশেমের কাছ থেকে এই মন্তব্য এল।

টিভিতে এক ভাষণে কাশেম আরও জানান, “ইসরায়েলি সেনাদের লেবাননে ভূখন্ডে থাকা অসম্ভব। এখানে ইসরায়েলের জন্য কোনও নিরাপত্তা অঞ্চল নেই।

“আমাদের জাতীয় সেনাবাহিনী আছে, যা মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। আর আমরা তাদের সঙ্গেই সহযোগিতা করব।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতায় ২০২৫-২৬ সালে পুরুষ এককে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। রবিবার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পুরুষ এককে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ফাইনালে পরাজিত করে। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সেমিফাইনালে হারিয়ে পুরুষ দল ফাইনালে পৌঁছে। অন্যদিকে, পুরুষ দ্বৈতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পরাজিত হয়ে রানারআপ শিরোপা অর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। নারীরা এককে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং নারীদের দ্বৈতে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রশিক্ষক পুষ্পেন সরকার বলেন, "আমাদের দলের সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও পরিশ্রম ছিল প্রশংসনীয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটাই আমাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "মেয়েরাও খুব ভালো খেলেছে তবে এবার তাঁরা কোনো শিরোপা অর্জন করতে পারেননি। আশা করি আগামীতে তাঁরা আরও বড় সাফল্য নিয়ে আসবেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন মাদকের নীরব বিস্তার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


নতুন মাদকের নীরব বিস্তার!

সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছুর মতো মাদকেরও রূপ, রং ও আদল পাল্টেছে। তবে দেশে প্রচলিত মাদক বলতে সাধারণত বোঝায় হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা অথবা ইয়াবা। সময়ের চাহিদার সাথে সাথে এসব মাদকেও এসেছে পরিবর্তন। ফলে প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি দেশে অনেকটা নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের বিচিত্র সব মাদক। এই মাদকের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি পরিচিত সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক।

নতুন এই মাদকের গড়ন-গঠনও পাল্টে গেছে এবং বর্তমানে এমডিএমবি, আইস, খাথ, এলএসডি, ফেন্টানাইল, ব্ল্যাক কোকেন, এমডিএমএ, ডিএমটি, ডিওবি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, ট্যাপেন্টাডল, ট্রামাডল ও কিটামিন বিশিষ্ট। নতুন প্রজন্মের মাদকগুলো অনেক বেশি ব্যয়বহুল। ২০১৮ সালের পর থেকে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এক ডজনের বেশি নতুন প্রজন্মের মাদকের সন্ধান পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তরুণদের মধ্যে নতুন এই মাদকের ব্যবহার বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হিসাবে দেখানো হচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মাদকগুলো দেশে অনেকটা নিভৃতে প্রবেশ করছে। আবার নিভৃতেই নতুন প্রজন্মের মাদক দেশের অভ্যন্তরে বাজারও তৈরি করে নিয়েছে। নতুন প্রজন্মের এই মাদকের অন্তত ৯০ শতাংশ অনলাইনে বেচাকেনা এবং টাকা পরিশোধ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ডিজিটাল (অনলাইন) মাধ্যমে পরিচালিত 새로운 প্রজন্মের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে মাদক আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি পুরনো মাদকের বিস্তারও অব্যাহত রয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন এবং ফেনসিডিল জব্দের যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তা বলছে এসব মাদকের বিস্তারও আতঙ্কজনক। গত বছর গড়ে প্রতি মাসে ৩৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে ৪০ লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এ ছাড়া গত বছর ১৬৬ কেজি হেরোইন উদ্ধার হলেও চলতি বছরে প্রথম তিন মাসে ৬১ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। গত বছর ১৪ কেজি ৬০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার হলেও চলতি বছরে প্রথম তিন মাসে ১৬ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন, গাঁজাসহ প্রচলিত মাদকের প্রবণতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যত মাদক উদ্ধার হচ্ছে তার কয়েক গুণ বেশি আইনের ফাঁকফোকর পেরিয়ে চলে যাচ্ছে সেবনকারীদের কাছে।

গত মার্চ মাসে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। ওই ফ্ল্যাটের ভিতর একটি অস্থায়ী ল্যাবরেটরি পাওয়া যায় যেখানে তরল কিটামিনকে পাউডারে পরিণত করে ব্লুটুথ স্পিকার ও সাউন্ড ইকুইপমেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ছয় কেজি কিটামিন, ডিজিটাল স্কেল, প্যাকেজিং মেশিন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে ব্যবহৃত একটি পেনড্রাইভ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাদক এইভাবে রূপান্তর করে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাদকের বেশির ভাগ ভোক্তা ধনিক শ্রেণির তরুণ প্রজন্ম। এসব মাদক ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের কাছে এটি বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

নতুন প্রজন্মের মাদক বর্তমানে আসছে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে। পার্সেলে অথবা যাত্রীবেশে মাদক কারবারিরা এসব মাদক দেশে নিয়ে আসছে। সম্প্রতি কয়েকটি অভিযান চালিয়ে এ ধরনের কয়েকজন কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, এদের মধ্যে বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরিসংখ্যানে নতুন মাদকের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের উদাহরণ খুব বেশি নেই।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন প্রজন্মের মাদকের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে যে, মাদকপাচারকারী চক্রগুলো এরই মধ্যে সীমান্তভিত্তিক কার্যক্রম ছাড়িয়েছে এবং এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোক্যারেন্সি লেনদেন ও ডার্ক ওয়েবের মতো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছে। এজন্য সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধন) ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। এতে অনলাইন মাধ্যমে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কারণ বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অপরাধ মোকাবেলা করা বেশ কঠিন।

প্রস্তাবিত আইনের অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, পরিবহন বা বিতরণ করা ফৌজদারি অপরাধ হবে। একই সাথে মাদকপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনও অবৈধ।

ডিএনসির মতে, মাদক ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন প্রজন্মের মাদকের ‘মিনি ল্যাব’ বা ছোট কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে কিটামিনসহ কিছু সিনথেটিক মাদক প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছিল এবং বিদেশি নাগরিকদের একটি চক্রের যোগসাজশে এই কাজটি করা হচ্ছিল।

বর্তমানে কৃত্রিম মাদক বিদেশ থেকে দেশে আসার পাশাপাশি সহজে নির্মাণ হচ্ছে। চক্রগুলো নতুন প্রজন্মের মাদক আইস, এলএসডি, ম্যাজিক মাশরুম এবং পরে এমডিএমবি বাজারজাত করছে। মাদক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের মাদকের উদ্বেগজনক একটি দিক হলো দ্রুত আসক্তি তৈরি করা, যা ব্যবহারকারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মামলা নথিবদ্ধ করার সময় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিসের মাধ্যমে যে সরবরাহ চেইন চলছে সেটা তদারক করছে না।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক (কৃত্রিম) মাদকের ব্যবহার তরুণদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বাড়ছে এবং এসব মাদক দেশে প্রবেশের তিনটি প্রধান মাধ্যম চিহ্নিত হয়েছে—আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিস (ইএমএস, সাধারণ কুরিয়ার), বৈধ ওষুধের সরবরাহ চেইন এবং আন্ত সীমান্ত চোরাচালান চক্র। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এসব সিনথেটিক মাদকের জন্য বোঝা যায়, এই রুটগুলো বেশ পোক্ত হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট চেকপয়েন্টে এগুলো আটকানো কঠিন।

ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দা শাখার উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, ‘তিন-চার বছর ধরে বেশ কিছু নতুন মাদক ধরা পড়েছে। এসব মাদক তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। তারা এগুলো বাইরের দেশ থেকে ডার্কওয়েবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্ডার করে। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অনলাইন ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ। কিছু মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি কঠোর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে নতুন মাদক সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক হয়ে যাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইয়াবার মতো নতুন মাদক ভবিষ্যতে আরো বড় সামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এসব মাদক নানা ফাঁকফোকর গলিয়ে সেবীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।’

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলছেন, দেশে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ তরুণ-যুবক আছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। যদিও এ সংখ্যা নিয়ে সরকারি নির্ভুল জরিপ নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। একই সাথে নতুন মাদকের প্রতি কঠোর নজরদারি রেখে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%