প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ম্যাচের শুরুতেই বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু তার বুটের সজোর আঘাতে আলিরেজা বেইরানভান্দের বুকের ওপর আঘাত করেন। এই আঘাতের ফলে বেইরানভান্দ বেশ কিছুক্ষণ মাঠে নিথর অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কিন্তু এই চোটকে পরাজিত করে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে যা তিনি করলেন, তা ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় অনন্যভাবে লিখিত হবে। বেলজিয়ামের ২৩টি শটের মধ্যে একাই সকল শটের ঝড় সামলে তিনি ইরানকে একটি ঐতিহাসিক পয়েন্ট এনে দেন।
রবিবার বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ গোলশূন্য (০-০) ড্র হয়েছে। এই ড্রয়ের প্রধান কারিগর হলেন ইরানের বাজপাখি বেইরানভান্দ, যিনি ম্যাচের পুরো সময় বেলজিয়ামের নিশ্চিত সব আক্রমণকে ব্যর্থ করিয়ে দিয়েছেন এবং ম্যাচ সেরা (MOTM) নির্বাচিত হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুতেই চোটের সম্মুখীন হয়েছিলেন বেইরানভান্দ, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ম্যাজিকের মতো কাজ করেন। ম্যাচের শুরুর দিকে, কেভিন ডে ব্রুইনের একটি বিপজ্জনক ক্রসে স্লাইড করতে গিয়ে বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর পা বেইরানভান্দের বুকে আঘাত করে। চিকিৎসা নিয়ে মাঠে ফিরে আসার পর এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যান। পুরো ম্যাচে বেলজিয়াম ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল এবং গোলমুখে ২৩টি শট নিয়েছিল। এর মধ্যে লক্ষ্যে থাকা ৭টি শটের সবকটিই প্রমাণিত দক্ষতার সাথে বেইরানভান্দ সেভ করেন। বিশেষ করে ম্যাচের ১১ মিনিটে মাক্সিম ডি কাইপারের একটি শট ঠেকানো, প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডি কাইপারের ভলি রুখে দেওয়া এবং ৬০ মিনিটে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় এক হাতে ডি কাইপারের নিশ্চিত গোল রক্ষা করা ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলকিপিং দৃশ্য। নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ডি কাইপারের জোরাল শট ধরেও ইরানের 'ক্লিন শিট' নিশ্চিত করেন তিনি। গোলকিপিংয়ের পাশাপাশি ১১টি নিখুঁত লং বল এবং ৩টি হাই ক্লেইম করে দলের ডিফেন্সকে পূর্ণ ভরসা যোগান দিয়েছেন এই তারকা।
ম্যাচের দুই দলের গোলরক্ষকই দারুণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। ১৪ ও ৫৩ মিনিটে ইরানের মেহদি তারেমির দুটি নিশ্চিত এবং জোরাল শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ম্যাচের ২৫ মিনিটে এহসান হাজিসাফির ফ্রি কিক থেকে মেহদি তারেমি বল জালে পাঠালেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে এটি অফসাইডের জন্য বাতিল হয়েছে।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বেলজিয়াম বড় ধাক্কা খায়, কারণ শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ভুল করে নাতাঁ উঙ্গয় ব্যাক-পাস দেন। বল কেড়ে নেওয়া তারেমিকে পেছন থেকে টেনে ফেলায় তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেললেও তবে বেলজিয়াম ইরানের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়।
'জি' গ্রুপের সমীকরণ ও নকআউটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দেখা যায়, গত আসরে মিসরের বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর এটি বেলজিয়ামের টানা দ্বিতীয় ড্র। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ৪ ম্যাচে তারা জয়বিহীন রয়ে গেছে (৩ ড্র, ১ হার)। অন্যদিকে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর বেলজিয়ামকে আটকিয়ে দিয়ে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ইরান। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে বেলজিয়াম। আর এক ম্যাচ খেলা নিউ জিল্যান্ড ও মিশরের পয়েন্ট ১ করে।
আসন্ন শনিবার সকালে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে দলগুলো মাঠে নামবে। সেখানে বেলজিয়াম নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবং ইরান মুখোমুখি হবে মিশরের সাথে। অতীতে কখনও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছাতে না পারা এশিয়ান জায়ান্ট ইরানের সামনে বেইরানভান্দের হাত ধরে এবার ইতিহাস গড়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন