ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরায়েলের যে কোনও হামলার জবাব দেওয়া হবে: হিজবুল্লাহ


ইসরায়েলের যে কোনও হামলার জবাব দেওয়া হবে: হিজবুল্লাহ

যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে লেবানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের লাগাতার হামলা এবং অঞ্চল দখলের চেষ্টার নিন্দা করেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাশেম।

তিনি বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনী যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যে কোনও হামলা চালায় তবে এর জবাব তারা দেবেন।

লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলের 'নিরাপত্তা অঞ্চল' তৈরি বিষয়টিও তিনি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল লেবাননে থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি ঘটছে।

আরও পড়ুন: কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার সাংবাদিক রুহেল, ঢামেক আইসিইউতে

এই চুক্তির প্রথম শর্তেই লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

কিন্তু তারপরেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবাননের হুমকি মোকাবেলার জন্য ইসরায়েলি সেনারা স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেবে।

ইসরায়েলের এই বক্তব্যের পরই হিজবুল্লাহ প্রধান কাশেমের কাছ থেকে এই মন্তব্য এল।

টিভিতে এক ভাষণে কাশেম আরও জানান, “ইসরায়েলি সেনাদের লেবাননে ভূখন্ডে থাকা অসম্ভব। এখানে ইসরায়েলের জন্য কোনও নিরাপত্তা অঞ্চল নেই।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জন্মদিনে জেরুজালেমে বিক্ষোভ, গাড়িবহরে বোতল নিক্ষেপ

“আমাদের জাতীয় সেনাবাহিনী আছে, যা মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। আর আমরা তাদের সঙ্গেই সহযোগিতা করব।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতায় ২০২৫-২৬ সালে পুরুষ এককে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। রবিবার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারম প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পুরুষ এককে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ফাইনালে পরাজিত করে। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সেমিফাইনালে হারিয়ে পুরুষ দল ফাইনালে পৌঁছে। অন্যদিকে, পুরুষ দ্বৈতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পরাজিত হয়ে রানারআপ শিরোপা অর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। নারীরা এককে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং নারীদের দ্বৈতে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রশিক্ষক পুষ্পেন সরকার বলেন, "আমাদের দলের সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও পরিশ্রম ছিল প্রশংসনীয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটাই আমাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "মেয়েরাও খুব ভালো খেলেছে তবে এবার তাঁরা কোনো শিরোপা অর্জন করতে পারেননি। আশা করি আগামীতে তাঁরা আরও বড় সাফল্য নিয়ে আসবেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন মাদকের নীরব বিস্তার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


নতুন মাদকের নীরব বিস্তার!

সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছুর মতো মাদকেরও রূপ, রং ও আদল পাল্টেছে। তবে দেশে প্রচলিত মাদক বলতে সাধারণত বোঝায় হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা অথবা ইয়াবা। সময়ের চাহিদার সাথে সাথে এসব মাদকেও এসেছে পরিবর্তন। ফলে প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি দেশে অনেকটা নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের বিচিত্র সব মাদক। এই মাদকের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি পরিচিত সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক।

নতুন এই মাদকের গড়ন-গঠনও পাল্টে গেছে এবং বর্তমানে এমডিএমবি, আইস, খাথ, এলএসডি, ফেন্টানাইল, ব্ল্যাক কোকেন, এমডিএমএ, ডিএমটি, ডিওবি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, ট্যাপেন্টাডল, ট্রামাডল ও কিটামিন বিশিষ্ট। নতুন প্রজন্মের মাদকগুলো অনেক বেশি ব্যয়বহুল। ২০১৮ সালের পর থেকে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এক ডজনের বেশি নতুন প্রজন্মের মাদকের সন্ধান পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তরুণদের মধ্যে নতুন এই মাদকের ব্যবহার বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হিসাবে দেখানো হচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মাদকগুলো দেশে অনেকটা নিভৃতে প্রবেশ করছে। আবার নিভৃতেই নতুন প্রজন্মের মাদক দেশের অভ্যন্তরে বাজারও তৈরি করে নিয়েছে। নতুন প্রজন্মের এই মাদকের অন্তত ৯০ শতাংশ অনলাইনে বেচাকেনা এবং টাকা পরিশোধ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ডিজিটাল (অনলাইন) মাধ্যমে পরিচালিত 새로운 প্রজন্মের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে মাদক আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি পুরনো মাদকের বিস্তারও অব্যাহত রয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন এবং ফেনসিডিল জব্দের যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তা বলছে এসব মাদকের বিস্তারও আতঙ্কজনক। গত বছর গড়ে প্রতি মাসে ৩৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে ৪০ লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এ ছাড়া গত বছর ১৬৬ কেজি হেরোইন উদ্ধার হলেও চলতি বছরে প্রথম তিন মাসে ৬১ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। গত বছর ১৪ কেজি ৬০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার হলেও চলতি বছরে প্রথম তিন মাসে ১৬ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন, গাঁজাসহ প্রচলিত মাদকের প্রবণতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যত মাদক উদ্ধার হচ্ছে তার কয়েক গুণ বেশি আইনের ফাঁকফোকর পেরিয়ে চলে যাচ্ছে সেবনকারীদের কাছে।

গত মার্চ মাসে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। ওই ফ্ল্যাটের ভিতর একটি অস্থায়ী ল্যাবরেটরি পাওয়া যায় যেখানে তরল কিটামিনকে পাউডারে পরিণত করে ব্লুটুথ স্পিকার ও সাউন্ড ইকুইপমেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ছয় কেজি কিটামিন, ডিজিটাল স্কেল, প্যাকেজিং মেশিন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে ব্যবহৃত একটি পেনড্রাইভ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাদক এইভাবে রূপান্তর করে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাদকের বেশির ভাগ ভোক্তা ধনিক শ্রেণির তরুণ প্রজন্ম। এসব মাদক ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের কাছে এটি বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

নতুন প্রজন্মের মাদক বর্তমানে আসছে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে। পার্সেলে অথবা যাত্রীবেশে মাদক কারবারিরা এসব মাদক দেশে নিয়ে আসছে। সম্প্রতি কয়েকটি অভিযান চালিয়ে এ ধরনের কয়েকজন কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, এদের মধ্যে বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরিসংখ্যানে নতুন মাদকের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের উদাহরণ খুব বেশি নেই।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন প্রজন্মের মাদকের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে যে, মাদকপাচারকারী চক্রগুলো এরই মধ্যে সীমান্তভিত্তিক কার্যক্রম ছাড়িয়েছে এবং এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোক্যারেন্সি লেনদেন ও ডার্ক ওয়েবের মতো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছে। এজন্য সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধন) ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। এতে অনলাইন মাধ্যমে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কারণ বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অপরাধ মোকাবেলা করা বেশ কঠিন।

প্রস্তাবিত আইনের অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, পরিবহন বা বিতরণ করা ফৌজদারি অপরাধ হবে। একই সাথে মাদকপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনও অবৈধ।

ডিএনসির মতে, মাদক ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন প্রজন্মের মাদকের ‘মিনি ল্যাব’ বা ছোট কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে কিটামিনসহ কিছু সিনথেটিক মাদক প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছিল এবং বিদেশি নাগরিকদের একটি চক্রের যোগসাজশে এই কাজটি করা হচ্ছিল।

বর্তমানে কৃত্রিম মাদক বিদেশ থেকে দেশে আসার পাশাপাশি সহজে নির্মাণ হচ্ছে। চক্রগুলো নতুন প্রজন্মের মাদক আইস, এলএসডি, ম্যাজিক মাশরুম এবং পরে এমডিএমবি বাজারজাত করছে। মাদক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের মাদকের উদ্বেগজনক একটি দিক হলো দ্রুত আসক্তি তৈরি করা, যা ব্যবহারকারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মামলা নথিবদ্ধ করার সময় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিসের মাধ্যমে যে সরবরাহ চেইন চলছে সেটা তদারক করছে না।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক (কৃত্রিম) মাদকের ব্যবহার তরুণদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বাড়ছে এবং এসব মাদক দেশে প্রবেশের তিনটি প্রধান মাধ্যম চিহ্নিত হয়েছে—আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিস (ইএমএস, সাধারণ কুরিয়ার), বৈধ ওষুধের সরবরাহ চেইন এবং আন্ত সীমান্ত চোরাচালান চক্র। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এসব সিনথেটিক মাদকের জন্য বোঝা যায়, এই রুটগুলো বেশ পোক্ত হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট চেকপয়েন্টে এগুলো আটকানো কঠিন।

ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দা শাখার উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, ‘তিন-চার বছর ধরে বেশ কিছু নতুন মাদক ধরা পড়েছে। এসব মাদক তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। তারা এগুলো বাইরের দেশ থেকে ডার্কওয়েবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্ডার করে। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অনলাইন ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ। কিছু মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি কঠোর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে নতুন মাদক সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক হয়ে যাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইয়াবার মতো নতুন মাদক ভবিষ্যতে আরো বড় সামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এসব মাদক নানা ফাঁকফোকর গলিয়ে সেবীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।’

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলছেন, দেশে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ তরুণ-যুবক আছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। যদিও এ সংখ্যা নিয়ে সরকারি নির্ভুল জরিপ নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। একই সাথে নতুন মাদকের প্রতি কঠোর নজরদারি রেখে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডার লিটন এলাকায় দাবানলের গ্রাস, বাসিন্দাদের সরানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ এম


কানাডার লিটন এলাকায় দাবানলের গ্রাস, বাসিন্দাদের সরানো হচ্ছে

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লিটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘স ক্রিক’ দাবানলটি সম্প্রতি তীব্র রূপ ধারণ করেছে, ফলে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া উপদ্রুত এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতভর অগ্নিনির্বাপণ কর্মী ও হেলিকপ্টারগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত শুক্রবার লিটন গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে প্রথম এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে, প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বিপদময় করে তোলে। পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির কারণে লিটন ফার্স্ট নেশনের দুটি রিজার্ভ এলাকা সহ অন্তত ৬৩টি বসতবাড়ির বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ১৭০টি সম্পত্তিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

দাবানলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে-১-এর একটি দীর্ঘ অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বস্টন বার থেকে অ্যাশক্রফট পর্যন্ত প্রায় ১১৬ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

লিটনের মেয়র ডেনিস ও’কনর বলেন, আগুন বর্তমানে উচ্ছেদ আদেশাধীন বাড়িগুলোর উঁচু পাহাড়ি অংশে জ্বলছে। ২০২১ সালের ভয়াবহ দাবানলের স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা থাকায় নতুন এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে শনিবার সকালে বাতাসের গতি কিছুটা কম থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনুকূলে রয়েছে।

থম্পসন-নিকোলা আঞ্চলিক জেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের কামলুপস শহরে স্থাপিত জরুরি সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। সকলেই এখন পর্যন্ত নিরাপদে এলাকা ছাড়তে পেরেছেন।

এদিকে দাবানলের কারণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হাইড্রো জানিয়েছে, অন্তত ১৮২ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। তাছাড়া পুরো লিটন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ায় ফুটিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন বর্তমানে মাঝারি মাত্রার তীব্রতায় জ্বলছে এবং নিয়ন্ত্রণে ১৩০ জনেরও বেশি কর্মী, ৯টি হেলিকপ্টার এবং বিশেষ কাঠামো সুরক্ষা দল কাজ করছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে আগুনের বিস্তার রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই আগুনটি মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে শুরু হয়েছে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ জুন ভয়াবহ দাবানলে লিটন প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং দুইজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পাঁচ বছরের পূর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে নতুন এই দাবানল আবারও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৩১ গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে ঢাকার কয়েক শ মাদক স্পট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


২৩১ গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে ঢাকার কয়েক শ মাদক স্পট

‘মাদক গডফাদাররা আমার ছাত্রদের নষ্ট করে ফেলছে। ছাত্ররা মাদকাসক্ত হয়ে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। আমি কয়েক দফায় সন্তানতুল্য ছাত্রদের এই মরণনেশা থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেন তাদের ভালো করার চেষ্টা করছি এ জন্য কাউসার নামের এক মাদক গডফাদার আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।’

এভাবে কথাগুলো বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লবীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ একজন শিক্ষক। ওই শিক্ষকের কথার সূত্র ধরে পল্লবী থানা এলাকায় গত দুই দিন সরেজমিনে ঘুরে অনেকের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় অন্তত ২০টি মাদক স্পট রয়েছে। সেখানে একজন মাদক গডফাদার রয়েছেন। তাঁর অধীনে ১৬ থেকে ১৭ জন মাঠ নিয়ন্ত্রণকারী মাদক কারবারি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনেক খুচরা বিক্রেতা। তাঁরা এলাকার বাসাবাড়ির দারোয়ানকেও মাদক বিক্রির কাজে লাগাচ্ছেন। এখান থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদক কেনার মাধ্যমে জীবন নষ্ট করছে।

পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, রাজধানীতে সব ধরনের মাদক কারবারের নেপথ্যে রয়েছেন ২৩১ জন গডফাদার। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশের আটটি ক্রাইম জোনে রয়েছে কয়েক শ স্পট।

সহস্রাধিক খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে মাদক বিক্রি করছেন। তাঁদের তালিকা করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্সনীতি বাস্তবায়নের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে এর পরও অভিযানে প্রত্যাশিত সাফল্য মিলছে না। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের কর্মকাণ্ডে শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজধানীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক গডফাদারদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। থানা এলাকায় নিয়মিত মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেশির ভাগ অপরাধের মূলে এই মাদক।’

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া চলমান বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ৫২,০৫,৩৩৪ পিস ইয়াবা, ৫৬৮৯.৮৭ গ্রাম হেরোইন, ২০৩৬ বোতল ফেনসিডিল, ৭৭২৫.৭৯ কেজি গাঁজাসহ আরও অন্যান্য মাদক উদ্ধার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে।

তবে এর পরও মাদক কারবার থেমে নেই। রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনের প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত মাদক কারবার চলছে। ডিএমপির প্রতিটি থানা এলাকায় ১০ থেকে ১২টি মাদক স্পট রয়েছে। এসব এলাকায় অভিযানে প্রতিদিন শতাধিক সন্দেহভাজন লোককে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হলেও নেপথ্যের শীর্ষ মাদক কারবারি অধরা থেকে যাচ্ছে।

তালিকা ধরে র‌্যাবের অভিযান

র‌্যাবের তালিকায় তিন হাজারের বেশি মাদক কারবারি চিহ্নিত হয়েছেন। এর মধ্যে র‌্যাব-২ এলাকায় ৫৬৫, র‌্যাব-৪ এলাকায় ৫৩, র‌্যাব-১ এলাকায় ২২২, র‌্যাব-৩ এলাকায় ১৩৮, র‌্যাব-৫ এলাকায় ৩২৮, র‌্যাব-৬ এলাকায় ১২৯, র‌্যাব-৭ এলাকায় ১২৩, র‌্যাব-৮ এলাকায় ৩৬৯, র‌্যাব-৯ এলাকায় ১২৭, র‌্যাব-১০ এলাকায় ৬৪, র‌্যাব-১১ এলাকায় ৪৮, র‌্যাব-১২ এলাকায় ৩৮২, র‌্যাব-১৩ এলাকায় ১৬৬, র‌্যাব-১৪ এলাকায় ২৯৪ এবং র‌্যাব-১৫ এলাকায় ৮৮ জন রয়েছেন।

সরেজমিন

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ অভিযানের মধ্যেও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী দফায় দফায় অভিযানের পরও এখনো মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উল্টো আরো বেড়েছে বলে সেখানকার সাধারণ মানুষ জানিয়েছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত গডফাদারদের ঘিরে জেনেভা ক্যাম্পে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। ক্যাম্পে প্রায়ই মাদক অভিযান হলেও গ্রেপ্তার হন না একাধিক মাদক মামলার আসামি মনু ওরফে গালকাটা মনু, ইমতিয়াজ, শাহ আলম, বিল্লু, সালাম, নেটা সেলিম, ইরফান, লালনসহ আরো অনেকে। তাঁরা প্রকাশ্যে জেনেভা ক্যাম্পে খুচরা মাদক কারবারিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যেকের ৪০ থেকে ৫০ জনের বেশি সহযোগী ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দীন বলেন, ‘জেনেভা ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছেন। এ এলাকার গডফাদারদের মধ্যে অনেকে এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যাঁরা গ্রেপ্তার হননি তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ বলছে, গত এক বছরে মোহাম্মদপুর থানায় যেসব মামলা হয়েছে, এর অন্তত ৬০ শতাংশ মামলা হয়েছে মাদককে কেন্দ্র করে। এসব শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে অনেকে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন সময় জামিনে বের হয়ে তাঁদের অনেকে ফের আগের মতো ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। এর মধ্যে বুনিয়া সোহেল ৩৬ মামলার আসামি। অন্যদের বিরুদ্ধেও ১০ থেকে ১২টি করে মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে

পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দেওয়া বিভিন্ন সংস্থার সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে পুলিশের দেওয়া ১৯ হাজার ৪৫ জন সামনের সারির মাদক কারবারির নাম ধরে অভিযান চলছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তালিকায় রয়েছে তিন হাজার ৯৬৪ জন। এ ছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় প্রায় ২১ হাজার জনের তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই মাদক গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে চলছে মাদক কারবার। এর মধ্যে টেকনাফে জাহেদ হোসেন, মো. নুর, হারুন অর রশিদ, ফয়েজ আহমদ, জিয়াবুল হক, জাফর আলম ও দিদারুল আলম। কক্সবাজার জেলায় রয়েছেন মো. হাসান, জহরুল ইসলাম, নুরুল আলম, সৈয়দ আলম, বশির আহমদ, আবদুল গফুর, রাশেদুল ইসলাম, আবু জাফর আনসারী, শাহজাহান আনসারী, রশিদ আনসারী, মায়ানমারের নাগরিক আবু নফর (বার্মাইয়া নফর), মো. ইমাম শরীফ, মঞ্জুর আলম (শিয়াল মঞ্জুর), হারুনুর রশিদ লিটন, আবুল কালাম ও আবদুর রহমান। কুমিল্লায় সক্রিয়দের মধ্যে রয়েছেন বোমা আশিক, আবুল কাশেম, মথুরাপুরের মিজান, নুর ইসলাম মো. কাশেম, মো. শফিক মিয়া, হুমায়ুন, বিল্লাল, মো. বাপ্পি, সুজন মিয়া, মোতালেব, মো. ইব্রাহিম খলিল (সজল), মো. সুমন আহম্মেদ, মো. মামুন, মো. ইকবাল হোসেন ও সিরাজ মিয়া। রাজশাহীতে গডফাদারের মধ্যে রয়েছেন টিপু, মো. তোফাজ্জল হোসেন, শীষ মোহাম্মদ, নওশাদ আলী, জিয়ারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ, সেতাবুর রহমান বাবু, মীরগঞ্জের মো. ইদ্রিস মোল্লা, ইয়াদুল (ইদুল্লা), আবদুল আলিম (কালু) ও মো. মিলন।

যা বলছেন মন্ত্রী

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে আইনের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত প্রতিরোধের আহবান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আউস্ট) আয়োজনে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম এইচ খান মিলনায়তনে ‘তরুণদের মাদক প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শুধু ভয়ভীতি বা নিষেধাজ্ঞামূলক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগের আহবান জানান তিনি।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশ মাদকমুক্ত করতে আমাদের সবাইকে মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আমরা একটি সুন্দর সমাজ তথা মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%