মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
১১:০১ পি.এম
পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু রাঙামাটির তবলছড়ি বাজারের প্রতিটি দোকান পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি বাজারের সার্বিক পরিবেশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তবলছড়ি বাজার পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা বাজারের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং নিজেদের প্রত্যাশার বিষয়গুলো তার কাছে তুলে ধরেন। চেয়ারম্যান তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
তবলছড়ি বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে বাজার পরিদর্শনকালে দীপন তালুকদার দীপু বলেন, "স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।" তিনি বাজারের উন্নয়নে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন।
এ সময় রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম, জেলা পরিষদ সদস্য নন্দিতা দাশ, তবলছড়ি বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম, সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মো. হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক আলমগীর, কোষাধ্যক্ষ বরুন চন্দ্র রায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জরিনা বেগমসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রিসিভ (ক্রয় রসিদ) ছাড়া সার পরিবহনের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক এক কৃষক এবং ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ীর ৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সারের মধ্যে ৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ২ বস্তা পটাশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বাগভান্ডার ক্যাম্পের (লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবি) সামনে সার পরিবহনের সময় এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি শনিবার (২৯ আগস্ট) জনসমক্ষে আসে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের মৃত শাহেদ আলীর পুত্র মাইদুল একজন কৃষক। তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন এবং মইদাম বাজারে সার ও কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের মতে, জমিতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হলেও স্থানীয়ভাবে সার না পাওয়ায়, তিনি পাশের উপজেলা নাগেশ্বরীর এক আত্মীয়ের সারের দোকান থেকে ৫ বস্তা ইউরিয়া ও ২ বস্তা পটাশ সংগ্রহ করেন। পরে ভূরুঙ্গামারীর দিকে ফেরার পথে বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পের সামনে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সার কেনার রিসিভ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা ৭ বস্তা সার জব্দ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে মাইদুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাইদুল কৃষি জমি চাষাবাদ করেন এবং মইদাম বাজারে তার সার ও কীটনাশকের ছোট দোকান রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত। মাইদুল প্রায় ১৫ বিঘা জমি আবাদ করেছে। পাশাপাশি সে কীটনাশকের দোকান এবং ছোট পরিসরে সার বিক্রির ব্যবসাও করে। সার আটকের পর সে জমির কাগজপত্র নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাকে সার ফেরত দেওয়া হয়নি। যেখান থেকে সার নিয়ে এসেছে, তার সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, মাইদুল তার আত্মীয়। জমিতে সার প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সার না পেয়ে তার কাছ থেকে সার নিয়ে গেছে।”
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবির বাগভান্ডার ক্যাম্পের সুবেদার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিয়মিত টহলরত অবস্থায় ক্যাম্পের সামনে রোডে সার পরিবহন পথে জিজ্ঞাসাবাদে ক্রয়ের রিসিভ না থাকায় জব্দ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
"সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত এলাকা বা উপজেলার বাইরে রসিদ ও বৈধ চালান ছাড়া সার পরিবহন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। রসিদবিহীন বা অবৈধভাবে পরিবাহিত সার 'কালোবাজারি' ও 'পাচারের মাল' হিসেবে গণ্য করে তা রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সরাসরি বাজেয়াপ্ত (ক্রোক) এবং নিলাম করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে আইন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মশালা এবং বৃক্ষ প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলার উত্তর জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর জামালপুর যুব সমাজ ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা এবং পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাজেম উদ্দিন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর ইনচার্জ রবিউল ইসলাম। আয়োজকরা জানান, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।
কর্মশালায় মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইন, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপস্থিতদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা প্রদান করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্যের দুই শতাব্দীর পুরনো ঐতিহাসিক মিত্রতায় এখন আক্ষরিক অর্থেই উত্তেজনার ঝড় বইছে। ওয়াশিংটন এবার সরাসরি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেনকে নজিরবিহীন হুমকি ছুড়ে দিয়েছে। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে যে, সামরিক খাতে বাজেট নাটকীয়ভাবে না বাড়ালে ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের নীতি বদলাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিরক্ষা কৌশল, ইরান যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দীর্ঘদিনের মিত্রের মধ্যে চলা তীব্র মতপার্থক্য এখন এমন এক মোড়ে এসে পৌঁছেছে, যা পশ্চিমা বিশ্বে বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার রক্তক্ষয়ী বিরোধের ইতিহাস প্রায় দুশো বছরের পুরনো। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার ফকল্যান্ড আগ্রাসনের পর মার্গারেট থ্যাচারের নির্দেশে ব্রিটিশ নৌবাহিনী রক্তক্ষয়ী লড়াই চালিয়ে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পাশে দাঁড়ালেও ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর কখনোই সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি, কেবল ব্রিটিশদের ডি ফ্যাক্টো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। পেন্টাগনের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাটো জোটের নতুন সামরিক ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে ব্রিটেনকে নিয়ে কঠোর অবস্থানে যেতে পারে ওয়াশিংটন। এমনকি লন্ডনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের দাবির ক্ষেত্রে ব্রিটেনের বিরোধিতাও করতে পারে আমেরিকা।
পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষার বোঝা চাপানোর জন্য ওয়াশিংটন এখন কোনো কিছুই অসম্ভব বলে মনে করছে না এবং আলোচনাগুলো অত্যন্ত কড়া ভাষায় চলছে।
ন্যাটো জোটের নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে নিরাপত্তার পেছনে তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ শতাংশে পৌঁছানোর কথা ভাবছেন, তবুও গত জুনে প্রকাশিত দেশটির নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির মাত্র ২.৭ শতাংশে আটকে থাকছে। এর ওপর আবার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে থাকা ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে বাজেটের জন্য অতিরিক্ত চার দশমিক সাত বিলিয়ন বা ছয় দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তা ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
গত এপ্রিলে রয়টার্সের মাধ্যমে প্রথম এই ফকল্যান্ড ইস্যুটি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে একটি ফাঁস হওয়া পেন্টাগনের ইমেইলের সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় মিত্রদের পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার শাস্তি হিসেবে তাদের ‘সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশগুলোর’ ওপর কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এই সম্ভাবনায় চরম উল্লাস প্রকাশ করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁরা আগে কখনো এমন অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুখ দেখেননি।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ এবং ইরান ইস্যুতে। ২০২৫ সালে ব্রিটেন মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরে রাজি হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে একটি ‘বড় ভুল’ বলে অভিহিত করার পর গত এপ্রিলে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয় লন্ডন। শুধু তাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি প্রথমাবস্থায় আইনি জটিলতার অজুহাতে দেয়নি যুক্তরাজ্য, যা ওয়াশিংটনের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
সূত্র: আরটি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাগমারায় মাদক বিক্রেতা ফেন্সি রানী জুলেখাসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় এরশাদ আলীকে মারধর, পিস্তলের বাঁট দিয়ে আঘাত ও তার ৪টি দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলার পুরাতন পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে চাঁনপাড়ার জনসাধারণ ও সুশীল সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাগমারায় মাদক বিক্রেতা ফেন্সি রানী জুলেখাসহ তার বাহিনীকে গ্রেপ্তার করতে হবে এমন দাবি তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় এরশাদ আলীকে জিম্মি করে পিস্তলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে ৪টি দাঁত ভেঙে ফেলা ও আহত করার অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চাঁনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। মাদকের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে এবং এর প্রভাবে পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানি করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে বক্তারা জানান।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব একটি পরিবার থেকে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। এরশাদ আলীর ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় একজন সাধারণ নাগরিককে এভাবে মারধর করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বল্টু, এলাকাবাসীর মধ্যে মামুনুর রশিদ, ভুট্টু, আহত এরশাদ আলীর স্ত্রী রিনা বিবি প্রমুখ। এতে এলাকার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রিনা বিবি তার স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে বক্তারা প্রশাসনের কাছে ফেন্সি রানী জুলেখাসহ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে গ্রেপ্তার, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং এরশাদ আলীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ফেন্সি রানী জুলেখার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ মানববন্ধনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ