১০:১৬ পি.এম
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে নদীভাঙন, দারিদ্র্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাল্যবিবাহ একটি বড় সামাজিক সমস্যা রূপে বিরাজ করছে। এই সংকটকে সমাধান করার লক্ষ্যেই কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর এবং রৌমারী উপজেলার ১৪টি চর এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এই সংস্থাটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২৩টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০৯ জন ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরীর একটি তালিকা তৈরি করে তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি চরে ‘স্কুল ওয়াচ কমিটি’র মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরীদের চিহ্নিত করে তাদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ফ্রেন্ডশিপ বাল্যবিবাহ এবং পারিবারিক বিরোধ সহ সমাজে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য চরাঞ্চলে আইনি সহায়তা কেন্দ্রও পরিচালনা করছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ের খবর পেলেই সংশ্লিষ্ট পরিবারকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নিয়মিত উঠান বৈঠক, বিলবোর্ড স্থাপন, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি পথনাটক প্রদর্শন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর
এসব সমন্বিত উদ্যোগের সুফলে অনেক কিশোরী বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়ে আবারও শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় নজরদারি এবং সচেতনতার কারণে দুর্গম এসব চরাঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন