১০:২০ পি.এম
আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ নাইজেরিয়ায় বিশ্বমানের এক বিশাল খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যে সোনা, লিথিয়াম, প্ল্যাটিনামসহ বহু মূল্যবান খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি রাজধানী আবুজায় আফ্রিকান ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট সামিট (আফনিস) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের কঠিন খনিজ উন্নয়ন মন্ত্রী ডেলে আলাকে এই ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী, নাইজেরিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভে এজেন্সি (এনজিএসএ) এই আবিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রিমিয়াম টাইমস ও বিজনেস ইনসাইডার আফ্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, একটি বেসরকারি কোম্পানির দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। নাইজেরিয়া সরকার এই নতুন খনি আবিষ্কারের ঘটনাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছে। লিথিয়ামকে বিশ্বজুড়ে ‘সাদা সোনা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই আবিষ্কার মুসলিমপ্রধান দেশটির অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
নাইজেরিয়ার খনিজ উন্নয়ন মন্ত্রী জানান, এই খনিতে কৌশলগত খনিজ রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী দিন দিন বাড়িতেছে। বিশেষ করে, পরিবেশবান্ধব বা ক্লিন এনার্জি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদন এবং উন্নত শিল্পায়নে এসব খনিজ ব্যবহার করা হয়।
কাদুনা রাজ্যের এই খনিতে উচ্চমানের সোনা, নিকেল, তামা, লিথিয়াম এবং বিরল খনিজ উপাদান রয়েছে। এই আবিষ্কারের ফলে নাইজেরিয়া টেকসই খনি খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান গন্তব্য হতে পারে। সরকার দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুর অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে, নাইজেরিয়া সরকার খনি খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এরই মধ্যে তিন হাজারের বেশি নিষ্ক্রিয় লাইসেন্স বাতিল করেছে। তারা এখন থেকে কাঁচামাল বা অপরিশোধিত খনিজ বিদেশে রপ্তানি করতে চায় না। খনির আবেদনকারীদের স্থানীয়ভাবে খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
এই নতুন নীতির ফলে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে নাইজেরিয়ায়। ইতিমধ্যেই নাসারাওয়া রাজ্যে একটি ৬০০ মিলিয়ন ডলারের এবং আবুজায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের লিথিয়াম প্ল্যান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়াও কোগি রাজ্যে এক বিলিয়ন ডলারের একটি লৌহ আকরিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক গুণ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
সম্মেলনের অংশ হিসেবে আবুজায় স্টেরন মাইনিং কোম্পানির একটি খনি পরিদর্শনের সময় জানানো হয়, সেখানে আনুমানিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টন লিথিয়ামের মজুত রয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু ওমর জানান, সরকারি নীতিমালা মেনে তারা খনিজগুলো স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করার পর রপ্তানি করছেন।
কোম্পানির ভূতাত্ত্বিক বেলো দামুলাক জানান, ওই এলাকায় মোট খনিজ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৩৩ লাখ টন খাঁটি লিথিয়াম এবং বাকিটা গ্রানাইট শিলা। এই আবিষ্কার কেবল নাইজেরিয়া নয়, পুরো আফ্রিকার জ্বালানি ও খনিজ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন