ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন বাজেটের রাজস্ব আদায় ঝুঁকিতে, সতর্ক করল ফিচ


নতুন বাজেটের রাজস্ব আদায় ঝুঁকিতে, সতর্ক করল ফিচ

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটটির রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণ মূল্যায়ন সংস্থা ‘ফিচ রেটিংস’।

সংস্থাটির মতে, কর আদায় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড দুর্বল হওয়ায়, তাই এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) হংকং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফিচ রেটিংস এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নতুন বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ৮% থেকে বাড়িয়ে ১০.২% করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ১৯৯৩ সালের পর সর্বোচ্চ। এটি অর্জনের জন্য বার্ষিক ১৮% রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। সরকার নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫% আশা করলেও ফিচ রেটিংস বলছে, এই প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৫%।

দুর্বল ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি খাতে ঋণের মন্দা ও বিনিয়োগের ওপর ক্রমাগত চাপের কারণেই প্রবৃদ্ধি কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া বাজেটে ১৯% ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার বড় অংশই যাবে সামাজিক খাত (২৯.৭%) এবং ভৌত অবকাঠামোতে (১৮.৭%)। ফিচ মনে করছে, অতীতের মতোই বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব ও ব্যয় দুই-ই লক্ষ্যের চেয়ে কম হবে। ফলে বাজেট ঘাটতি জিডিপি’র ৩.৬%-এর মধ্যেই থাকবে।

সংস্থাটি কর আদায় বাড়াতে সহজ কর পদ্ধতি, কর ছাড় কমানো ও এসএমই খাতের ভ্যাট পরিপালন সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

তবে অতীতের দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে এসব সংস্কারের সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের অবকাঠামো নির্মাণকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হতে চলায় বাংলাদেশ নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ করেছে। তবে সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছে ফিচ।

সংস্থাটি আরো জানায়, সরকারের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫%-এ নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫%-এ উন্নীত করা।

এই লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসী আয়ে ২.৫% নগদ প্রণোদনা বজায় রাখা, এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার মতো কিছু ভালো উদ্যোগ বাজেটে নেওয়া হয়েছে। তবে এই সব কিছুরই চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে সরকার অতীতের তুলনায় কতটা শক্তিশালীভাবে এটি বাস্তবায়ন করতে পারে, তার ওপর।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কালিমা’ খচিত থাকায় সৌদি পতাকা মাটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত ফিফার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৭ পি.এম


‘কালিমা’ খচিত থাকায় সৌদি পতাকা মাটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত ফিফার

ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় পতাকা মাঠের সমান্তরালে প্রদর্শন করা হয়।

সৌদি আরবের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে, ফিফা তাদের জাতীয় পতাকাটি মাটি স্পর্শ করতে দেয়নি। বরং পুরো সময়টাই তাদের পতাকাটি উঁচিয়ে রাখা হয়েছিল।

সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় ইসলামের পবিত্র বাণী ‘কালিমা’ খচিত রয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অনুযায়ী, পবিত্র এই বাণীযুক্ত পতাকা কোনোভাবেই মাটিতে নামানো বা রাখা যায় না। সাধারণত বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর আগে পতাকাগুলো মাঠে নামিয়ে প্রদর্শন করার নিয়ম থাকে, তবে সৌদি ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধে ফিফা এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন এনেছে।

এছাড়া, শুধু একটি দলের পতাকা উঁচিয়ে রাখলে অন্য দলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন হতে পারে—এমন বিতর্ক এড়াতে দারুণ একটি সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ফুটবলের গভর্নিং বডি। সৌদি আরবের পাশাপাশি উরুগুয়ের জাতীয় পতাকাটিও পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে সমান উচ্চতায় উঁচিয়ে রাখা হয়। ফলে মাঠে এক চমৎকার সাম্য ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে কেবল সৌদি আরব ও ইরাকের জাতীয় পতাকায় ধর্মীয় বাণী বা লিপি রয়েছে। সৌদির পতাকায় রয়েছে পবিত্র ‘কালিমা’ এবং ইরাকের পতাকায় খচিত রয়েছে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি।

গোঁড়ামি ছাড়াই ভিন্ন একটি দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি ফিফার এই সংবেদনশীলতা ও সম্মান প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“দোকান কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করল মালিকের ছেলে”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


“দোকান কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করল মালিকের ছেলে”

রংপুরের নগরীতে কথা কাটাকাটির জেরে দোকান কর্মচারী মো. শাওন (২৫) কে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে দোকান মালিকের ছেলে। 

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকায়। 

এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে (৩০) ধরে থানায় সোপর্দ করে। এটি নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি’র উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাওন ৪ বছর ধরে খামার মোড়ে পুড়ি-পিঁয়াজুর দোকানে কর্মরত ছিল। মঙ্গলবার রাতে শাওন যখন দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তার দিকে আসছিল, ওই সময় দোকানের মালিক আমির হোসেনের ছেলে মনু পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে শাওনকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে। শাওন গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। 

এই অবস্থায় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মনুকে আটক করে এবং শাওনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে শাওনের মৃত্যু ঘটে। শাওনের মরদেহ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। 

মনুর পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন। তারা জানান, মনুর চিকিৎসার জন্য ওঝার মাধ্যমে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। 

উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনু জানিয়েছে যে, দোকানের থালা-বাসন ধোয়ার স্থানে শাওন থু থু ফেলতো। বারবার নিষেধ করার পরও শাওন একই কাজ করছিল। এর ফলে মঙ্গলবার রাতে শাওনের সঙ্গে মনুর কথাকাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে মনু শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনিয়ম-দুর্নীতির ‘হেডমাস্টার’ মোহাম্মদ এজাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


অনিয়ম-দুর্নীতির ‘হেডমাস্টার’ মোহাম্মদ এজাজ

সোহেল রানা। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক।

কখনো নিজের বিয়ে, কখনো ঈদুল আজহা, মায়ের চিকিৎসা আবার কখনো নিজের চিকিৎসার জন্য দফায় দফায় মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে (বর্তমানে প্রশাসকের ঐচ্ছিক তহবিল) নিয়েছেন আর্থিক সাহায্য। এর পরিমাণ মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। শুরুতে নামের সঙ্গে পদবি উল্লেখ করে টাকা নিলেও শেষ দিকে তাকে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির তথ্য গোপন করতে হয়েছে। সোহেল রানার এই অর্থপ্রাপ্তির পেছনে প্রধান কারিগর হিসেবে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

শুধু সোহেল রানাই নন, এমনভাবে করপোরেশনের আরো বহু কর্মীকে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ইচ্ছামতো অর্থ বরাদ্দ দেন এজাজ।

নামে-বেনামে এ খাতের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এজাজ হাতের মুঠোয় রেখেছিলেন ডিএনসিসির ওইসব কর্মীকে। নিজের স্বার্থ ও স্বার্থান্বেষী বলয় তৈরির উদ্দেশ্যে এজাজ করপোরেশনে বসিয়েছিলেন নিজের লোক। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সহায়তাকারী এসব ব্যক্তিরা মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বিভিন্ন সময়ে পেতেন উপহার হিসেবে।

ডিএনসিসির বহু কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এরকম খবর প্রকাশ করেছে আগামীর সময়।

আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয় যে, প্রশাসক হিসেবে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ এজাজ। এক বছরেরও কম সময়ের পরে, পরের বছরের ৯ ফেব্রুয়ারিতে উত্তর সিটির প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। গুঞ্জন রয়েছে, তার এ দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। এজাজের দায়িত্ব গ্রহণের সময় মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিলে মোট অর্থ ছিল ৮ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

তিনি প্রশাসকের চেয়ারে বসার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ৮ মাসে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে যেটুকু অর্থ খরচ হয়েছিল, তার পরিমাণ ছিল ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার। কিন্তু এজাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাকি সাড়ে ৩ মাসে ঐ তহবিল থেকে অস্বাভাবিকভাবে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে। যার পরিমাণে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসির নগরপিতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনজন। এর মধ্যে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত ছিলেন যথাক্রমে মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। তাদের দুজনের সময় সাড়ে ৮ মাসে ঐচ্ছিক তহবিলের গড় মাসিক খরচ ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, প্রশাসক এজাজের সময় মাসিক খরচ হয়েছে ৬০ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রতি মাসে তিনি প্রায় ১০ গুণ বেশি টাকা খরচ করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৮ মাস ১২ দিন। এই সময়ের মধ্যে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা খরচ করেছেন এজাজ, যা পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএনসিসির ৭১ জন চালককে ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন এজাজ। এর মধ্যে প্রশাসকের দপ্তরের গাড়িচালক মো. আবদুল হালিমকে মেয়ের চিকিৎসা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। ২১ চালককে ২০ হাজার টাকা করে, এবং বাকি ৪৯ জনকে ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মেয়রের দপ্তরের ৩২ জনকে ২৫ হাজার করে, এবং বিভিন্ন বিভাগের ৮৪ কর্মচারীকে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে। অথচ তারা সবাই নিয়মিতভাবে ডিএনসিসি থেকে বেতন ও বোনাস পান। বাদ যায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারীরাও। ঈদ সালামির নামে ঐচ্ছিক তহবিল ফাঁকা করেছেন মোহাম্মদ এজাজ।

২০২৫ সালের ৬ মার্চের একটি নথিতে দেখা যায়, আব্দুস সামাদ নামে একজনকে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। সামাদের পক্ষে ওই টাকা নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘ছেলে’। কিন্তু ছেলের নাম বা পরিচয়সহ কিছুই উল্লেখ নেই। পরে আবারও সেই আব্দুস সামাদের নামে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা। এবার লেখা হয়েছে যে, মো. আব্দুস সামাদ পক্ষে ‘মামা’। এর পাশাপাশি, জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মো. রিফাত হাওলাদার নামে একজনকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। যেখানে প্রদত্ত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরের একটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং অন্যটি ১২ সংখ্যার ভুল ডিজিট। সেখানেও টাকা তোলা হয়েছে বেনামে।

নিউ মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা খান মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিককে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন এজাজ। জুলাই মাসে মৃত্যুজনিত কারণে মৌলভিরটেকের আব্দুস সাত্তারকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ক নথিতে প্রদত্ত ফোন নম্বরটিতে কল করলে কাউকেই পাওয়া যায়নি। একই ধরনের বেনামে বহু ব্যক্তিকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এজাজ। অথচ মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আপৎকালীন অর্থ ব্য্যয়ের কথা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসকের পদে থাকতে এই তহবিলের অর্থ দিয়ে বিভিন্নজনকে সাহায্য করা হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে কাউকে সাহায্য দেওয়া হলে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। এজাজ নিয়মের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন মনে হচ্ছে।

শুধুমাত্র ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ নয়ছয় নয়, বনানী কাঁচাবাজারের পাশে অবৈধভাবে ৩৩টি দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। প্রতি দোকান থেকে নিয়েছেন ৫ থেকে ৭ লাখ করে টাকা। এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং ওই দোকান মালিকরাও। যদিও এজাজের দাবি হল, দোকানগুলি থেকে ভাড়ার টাকা সিটি করপোরেশন নিয়েছে, দোকান বরাদ্দের কাজ আগেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এসব দোকানের বরাদ্দ মেয়র আতিকুল ইসলামের সময়েই বাতিল করে অবৈধ ঘোষণার কাজ হয়েছিল।

অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগে ৪৭টি টেন্ডার দিয়ে যান এজাজ। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল।

তড়িঘড়ি এসব টেন্ডার দেওয়ার সপক্ষে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে গাইলেন এজাজ। তিনি মন্তব্য করেন, ‘উন্নয়নের জন্য টেন্ডার দিয়েছি। এর আগে এক বছরেও তো আমি শত শত টেন্ডার দিয়েছি।’

ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্ত খাতে মিলিয়ে করপোরেশনের তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। অথচ দায়িত্ব ছাড়ার আগে এজাজের দাবি, তিনি ডিএনসিসির তহবিলে ১২০০ কোটি টাকা রেখে এসেছেন।

ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা ইচ্ছামতো খরচ প্রসঙ্গে এজাজ বলেন, ‘অডিট ছাড়া কোনো টাকা খরচের সুযোগ নেই। আবেদনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে টাকা দেওয়া হয়েছে।’ নাগরিক সেবার জন্য বরাদ্দ শূন্য টাকা খরচ, তাড়াহুড়ো করে শত শত দরপত্র আহ্বান, বা দোকান বরাদ্দে অনিয়মের মতো বহুবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক এজাজ। যদিও তিনি এ পদে ছিলেন এক বছরেরও কম সময়। এর মধ্যে মোহাম্মদ এজাজকে অনেকেই এখন বলেন, ‘নগরখেকো নগরপিতা’ হিসেবে। ডিএনসিসিতে কিভাবে এজাজের উত্থান হয়েছিল তা খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে।

অতিরিক্ত তথ্য অনুসন্ধানের পর জানা যায়, এজাজ ছিলেন রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আর সেই সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ছত্রছায়ায় প্রসারিত হয় এজাজের বলয়। তার পছন্দের ভিত্তিতে এজাজকে ডিএনসিসির প্রশাসক পদে বসানো হয়। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে, মিরপুর-গাবতলী গবাদি পশুর হাটের ইজারায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে যায়। তার বিরুদ্ধে আনা হয় আরো অভিযোগ, ই-রিকশা প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার, ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ করে অর্থ লেনদেন করা, খিলগাঁওয়ের তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান নির্মাণ এবং বরাদ্দসহ। গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এজাজকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আদালত এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর সপ্তাহখানেক পর ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে উত্তর সিটির প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নাগরিকের সেবার জন্য বরাদ্দের টাকা নগরপিতার হাত দিয়ে এভাবে তছরুপের এই বিষয় নিয়ে কথা হয় নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খানের সঙ্গে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘পদে থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এটা বিরল। ফলে নিশ্চয়ই ওনার সঙ্গে দুর্নীতির কোনো যোগ আছে—এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ ইচ্ছামতো খরচ করার বিষয়ে এই নগর-পরিকল্পনাবিদ বলছিলেন, ‘কখনোই এ তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা নয়। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে তিনি এই অর্থ দুঃস্থ মানুষদের দিয়েছেন, তাহলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রাখতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে এখানে দুর্নীতির একটা গন্ধ থেকেই যায়।’

আদিল মোহাম্মদ খান মনে করেন, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শেষ করা উচিত দ্রুত। যাতে তদন্তকাজকে কেউ প্রভাবিত করতে না পারে। পাশাপাশি দুদকের এই তদন্ত যেন নির্মোহভাবে এগোবে, সেই দাবি রাখেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভয়নগরে কুপিয়ে হত্যা করা হলো একাধিক মামলার আসামিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


অভয়নগরে কুপিয়ে হত্যা করা হলো একাধিক মামলার আসামিকে

যশোরের অভয়নগরে রিয়াজ হোসেন (২৯) নামের একাধিক মামলার আসামিকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি ওই ইউনিয়নের ধলিরগাতী গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজ হোসেন একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির যুবক ছিলেন। তিনি মাদকের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কে বা কারা ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রিয়াজকে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সবুজ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে রিয়াজ হোসেন নামে এক যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘দুর্বৃত্তদের হামলায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ৬টি মামলা রয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%