প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটটির রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণ মূল্যায়ন সংস্থা ‘ফিচ রেটিংস’।
সংস্থাটির মতে, কর আদায় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড দুর্বল হওয়ায়, তাই এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) হংকং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফিচ রেটিংস এই পর্যবেক্ষণ দেয়।
নতুন বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ৮% থেকে বাড়িয়ে ১০.২% করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ১৯৯৩ সালের পর সর্বোচ্চ। এটি অর্জনের জন্য বার্ষিক ১৮% রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। সরকার নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫% আশা করলেও ফিচ রেটিংস বলছে, এই প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৫%।
দুর্বল ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি খাতে ঋণের মন্দা ও বিনিয়োগের ওপর ক্রমাগত চাপের কারণেই প্রবৃদ্ধি কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া বাজেটে ১৯% ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার বড় অংশই যাবে সামাজিক খাত (২৯.৭%) এবং ভৌত অবকাঠামোতে (১৮.৭%)। ফিচ মনে করছে, অতীতের মতোই বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব ও ব্যয় দুই-ই লক্ষ্যের চেয়ে কম হবে। ফলে বাজেট ঘাটতি জিডিপি’র ৩.৬%-এর মধ্যেই থাকবে।
সংস্থাটি কর আদায় বাড়াতে সহজ কর পদ্ধতি, কর ছাড় কমানো ও এসএমই খাতের ভ্যাট পরিপালন সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে অতীতের দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে এসব সংস্কারের সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের অবকাঠামো নির্মাণকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হতে চলায় বাংলাদেশ নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ করেছে। তবে সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছে ফিচ।
সংস্থাটি আরো জানায়, সরকারের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫%-এ নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫%-এ উন্নীত করা।
এই লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসী আয়ে ২.৫% নগদ প্রণোদনা বজায় রাখা, এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার মতো কিছু ভালো উদ্যোগ বাজেটে নেওয়া হয়েছে। তবে এই সব কিছুরই চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে সরকার অতীতের তুলনায় কতটা শক্তিশালীভাবে এটি বাস্তবায়ন করতে পারে, তার ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন