ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অনিয়ম-দুর্নীতির ‘হেডমাস্টার’ মোহাম্মদ এজাজ


অনিয়ম-দুর্নীতির ‘হেডমাস্টার’ মোহাম্মদ এজাজ

সোহেল রানা। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক।

কখনো নিজের বিয়ে, কখনো ঈদুল আজহা, মায়ের চিকিৎসা আবার কখনো নিজের চিকিৎসার জন্য দফায় দফায় মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে (বর্তমানে প্রশাসকের ঐচ্ছিক তহবিল) নিয়েছেন আর্থিক সাহায্য। এর পরিমাণ মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। শুরুতে নামের সঙ্গে পদবি উল্লেখ করে টাকা নিলেও শেষ দিকে তাকে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির তথ্য গোপন করতে হয়েছে। সোহেল রানার এই অর্থপ্রাপ্তির পেছনে প্রধান কারিগর হিসেবে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

শুধু সোহেল রানাই নন, এমনভাবে করপোরেশনের আরো বহু কর্মীকে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ইচ্ছামতো অর্থ বরাদ্দ দেন এজাজ।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নামে-বেনামে এ খাতের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এজাজ হাতের মুঠোয় রেখেছিলেন ডিএনসিসির ওইসব কর্মীকে। নিজের স্বার্থ ও স্বার্থান্বেষী বলয় তৈরির উদ্দেশ্যে এজাজ করপোরেশনে বসিয়েছিলেন নিজের লোক। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সহায়তাকারী এসব ব্যক্তিরা মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বিভিন্ন সময়ে পেতেন উপহার হিসেবে।

ডিএনসিসির বহু কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এরকম খবর প্রকাশ করেছে আগামীর সময়।

আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয় যে, প্রশাসক হিসেবে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ এজাজ। এক বছরেরও কম সময়ের পরে, পরের বছরের ৯ ফেব্রুয়ারিতে উত্তর সিটির প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। গুঞ্জন রয়েছে, তার এ দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। এজাজের দায়িত্ব গ্রহণের সময় মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিলে মোট অর্থ ছিল ৮ কোটি ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

তিনি প্রশাসকের চেয়ারে বসার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ৮ মাসে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে যেটুকু অর্থ খরচ হয়েছিল, তার পরিমাণ ছিল ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার। কিন্তু এজাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাকি সাড়ে ৩ মাসে ঐ তহবিল থেকে অস্বাভাবিকভাবে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে। যার পরিমাণে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসির নগরপিতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনজন। এর মধ্যে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত ছিলেন যথাক্রমে মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। তাদের দুজনের সময় সাড়ে ৮ মাসে ঐচ্ছিক তহবিলের গড় মাসিক খরচ ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, প্রশাসক এজাজের সময় মাসিক খরচ হয়েছে ৬০ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রতি মাসে তিনি প্রায় ১০ গুণ বেশি টাকা খরচ করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৮ মাস ১২ দিন। এই সময়ের মধ্যে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা খরচ করেছেন এজাজ, যা পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএনসিসির ৭১ জন চালককে ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন এজাজ। এর মধ্যে প্রশাসকের দপ্তরের গাড়িচালক মো. আবদুল হালিমকে মেয়ের চিকিৎসা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। ২১ চালককে ২০ হাজার টাকা করে, এবং বাকি ৪৯ জনকে ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মেয়রের দপ্তরের ৩২ জনকে ২৫ হাজার করে, এবং বিভিন্ন বিভাগের ৮৪ কর্মচারীকে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে। অথচ তারা সবাই নিয়মিতভাবে ডিএনসিসি থেকে বেতন ও বোনাস পান। বাদ যায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারীরাও। ঈদ সালামির নামে ঐচ্ছিক তহবিল ফাঁকা করেছেন মোহাম্মদ এজাজ।

২০২৫ সালের ৬ মার্চের একটি নথিতে দেখা যায়, আব্দুস সামাদ নামে একজনকে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। সামাদের পক্ষে ওই টাকা নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘ছেলে’। কিন্তু ছেলের নাম বা পরিচয়সহ কিছুই উল্লেখ নেই। পরে আবারও সেই আব্দুস সামাদের নামে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা। এবার লেখা হয়েছে যে, মো. আব্দুস সামাদ পক্ষে ‘মামা’। এর পাশাপাশি, জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মো. রিফাত হাওলাদার নামে একজনকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। যেখানে প্রদত্ত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরের একটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং অন্যটি ১২ সংখ্যার ভুল ডিজিট। সেখানেও টাকা তোলা হয়েছে বেনামে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এআই ক্যামেরা স্থাপন হচ্ছে

নিউ মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা খান মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিককে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন এজাজ। জুলাই মাসে মৃত্যুজনিত কারণে মৌলভিরটেকের আব্দুস সাত্তারকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ক নথিতে প্রদত্ত ফোন নম্বরটিতে কল করলে কাউকেই পাওয়া যায়নি। একই ধরনের বেনামে বহু ব্যক্তিকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এজাজ। অথচ মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আপৎকালীন অর্থ ব্য্যয়ের কথা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসকের পদে থাকতে এই তহবিলের অর্থ দিয়ে বিভিন্নজনকে সাহায্য করা হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে কাউকে সাহায্য দেওয়া হলে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। এজাজ নিয়মের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন মনে হচ্ছে।

শুধুমাত্র ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ নয়ছয় নয়, বনানী কাঁচাবাজারের পাশে অবৈধভাবে ৩৩টি দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। প্রতি দোকান থেকে নিয়েছেন ৫ থেকে ৭ লাখ করে টাকা। এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং ওই দোকান মালিকরাও। যদিও এজাজের দাবি হল, দোকানগুলি থেকে ভাড়ার টাকা সিটি করপোরেশন নিয়েছে, দোকান বরাদ্দের কাজ আগেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এসব দোকানের বরাদ্দ মেয়র আতিকুল ইসলামের সময়েই বাতিল করে অবৈধ ঘোষণার কাজ হয়েছিল।

অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগে ৪৭টি টেন্ডার দিয়ে যান এজাজ। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল।

তড়িঘড়ি এসব টেন্ডার দেওয়ার সপক্ষে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে গাইলেন এজাজ। তিনি মন্তব্য করেন, ‘উন্নয়নের জন্য টেন্ডার দিয়েছি। এর আগে এক বছরেও তো আমি শত শত টেন্ডার দিয়েছি।’

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্ত খাতে মিলিয়ে করপোরেশনের তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। অথচ দায়িত্ব ছাড়ার আগে এজাজের দাবি, তিনি ডিএনসিসির তহবিলে ১২০০ কোটি টাকা রেখে এসেছেন।

ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা ইচ্ছামতো খরচ প্রসঙ্গে এজাজ বলেন, ‘অডিট ছাড়া কোনো টাকা খরচের সুযোগ নেই। আবেদনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে টাকা দেওয়া হয়েছে।’ নাগরিক সেবার জন্য বরাদ্দ শূন্য টাকা খরচ, তাড়াহুড়ো করে শত শত দরপত্র আহ্বান, বা দোকান বরাদ্দে অনিয়মের মতো বহুবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক এজাজ। যদিও তিনি এ পদে ছিলেন এক বছরেরও কম সময়। এর মধ্যে মোহাম্মদ এজাজকে অনেকেই এখন বলেন, ‘নগরখেকো নগরপিতা’ হিসেবে। ডিএনসিসিতে কিভাবে এজাজের উত্থান হয়েছিল তা খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে।

অতিরিক্ত তথ্য অনুসন্ধানের পর জানা যায়, এজাজ ছিলেন রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আর সেই সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ছত্রছায়ায় প্রসারিত হয় এজাজের বলয়। তার পছন্দের ভিত্তিতে এজাজকে ডিএনসিসির প্রশাসক পদে বসানো হয়। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে, মিরপুর-গাবতলী গবাদি পশুর হাটের ইজারায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে যায়। তার বিরুদ্ধে আনা হয় আরো অভিযোগ, ই-রিকশা প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার, ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ করে অর্থ লেনদেন করা, খিলগাঁওয়ের তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান নির্মাণ এবং বরাদ্দসহ। গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এজাজকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আদালত এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর সপ্তাহখানেক পর ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে উত্তর সিটির প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নাগরিকের সেবার জন্য বরাদ্দের টাকা নগরপিতার হাত দিয়ে এভাবে তছরুপের এই বিষয় নিয়ে কথা হয় নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খানের সঙ্গে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘পদে থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এটা বিরল। ফলে নিশ্চয়ই ওনার সঙ্গে দুর্নীতির কোনো যোগ আছে—এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়

ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ ইচ্ছামতো খরচ করার বিষয়ে এই নগর-পরিকল্পনাবিদ বলছিলেন, ‘কখনোই এ তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা নয়। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে তিনি এই অর্থ দুঃস্থ মানুষদের দিয়েছেন, তাহলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রাখতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে এখানে দুর্নীতির একটা গন্ধ থেকেই যায়।’

আদিল মোহাম্মদ খান মনে করেন, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শেষ করা উচিত দ্রুত। যাতে তদন্তকাজকে কেউ প্রভাবিত করতে না পারে। পাশাপাশি দুদকের এই তদন্ত যেন নির্মোহভাবে এগোবে, সেই দাবি রাখেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভয়নগরে কুপিয়ে হত্যা করা হলো একাধিক মামলার আসামিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


অভয়নগরে কুপিয়ে হত্যা করা হলো একাধিক মামলার আসামিকে

যশোরের অভয়নগরে রিয়াজ হোসেন (২৯) নামের একাধিক মামলার আসামিকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি ওই ইউনিয়নের ধলিরগাতী গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজ হোসেন একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির যুবক ছিলেন। তিনি মাদকের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কে বা কারা ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রিয়াজকে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সবুজ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে রিয়াজ হোসেন নামে এক যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘দুর্বৃত্তদের হামলায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ৬টি মামলা রয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“শাপলা চত্বর ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুললেন সাংবাদিক বাবু ও রুপা”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


“শাপলা চত্বর ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুললেন সাংবাদিক বাবু ও রুপা”

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের ঘটনায় হওয়া হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তারা দুজনই জানিয়েছেন যে, উপরের নির্দেশে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং নিজেদের দায় অস্বীকার করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সূত্রে এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় চলতি সপ্তাহে একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের দ্বারা। জিজ্ঞাসাবাদে, তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে বলেন যে, যা কিছু ঘটেছে সবকিছু ওপরের নির্দেশেই হয়েছে।

এছাড়া, ৫ আগস্টের আগে এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজও তাদের দেখানো হয় এবং মোজাম্মেল বাবু দাবি করেন যে, এসব ভিডিও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি।

একেরা, ৭ জুন রুপা ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। পাশাপাশি, এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে এই মামলার প্রেক্ষিতে ৯ জন গ্রেফতার আছেন। বাবু ও রুপা ছাড়া গ্রেফতার অন্য ব্যক্তিরা হলেন - সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“সমঝোতাকে বিজয় দাবি করছে ইরান, উঠছে নানা প্রশ্ন”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


“সমঝোতাকে বিজয় দাবি করছে ইরান, উঠছে নানা প্রশ্ন”

ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারককে সরাসরি 'পিছু হটা' হিসেবে উপস্থাপন না করে বরং 'রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও কৌশলগত বিজয়' হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান সরকারের এ অবস্থান এমনভাবে গঠন করা হচ্ছে যাতে বোঝানো যায় যে, চাপের মুখে নয়, বরং নিজেদের শর্তে তারা এই পর্যায়ে এসেছে। তবে বাস্তবতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই ব্যাখ্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমানে ইরান একটি যুদ্ধ-পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অর্থনীতি ব্যাপক সংকটে পড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। একইসঙ্গে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজনও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ক্ষমতাসীন ইসলামি সরকারটির ভেতরের একটি অংশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা চলতে থাকছে। এই বিভক্ত বাস্তবতার মধ্যেই তেহরান চুক্তিটিকে 'গ্রহণযোগ্য সাফল্য' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতোমধ্যে চুক্তির পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এই সমঝোতাকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তিকে 'সম্ভাব্য রূপান্তরকারী' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের অনেকাংশই কমে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারের এই অবস্থানের পেছনে বড় একটি যুক্তি হলো যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ঘোষিত সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায়নি, দেশে সরকার পরিবর্তন ঘটানো যায়নি এবং দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি।

তবে এই 'সাফল্যের বর্ণনা' ইরানের ভেতরেই সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। কট্টরপন্থি রাজনৈতিক শিবিরের কিছু সদস্য এমনকি চুক্তির খসড়াকে 'মার্কিন প্রভাবাধীন কাঠামো' বলে আখ্যা দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক ডেপুটি চেয়ারম্যানের মন্তব্য অনুযায়ী, এটি ইরানকে কার্যত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

গত কয়েক মাস যাবত পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি অংশ, রাষ্ট্রসমর্থিত গণমাধ্যম এবং কিছু রাজনৈতিক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান আরো দৃঢ় হয়েছে। তাদের প্রধান যুক্তি হলো ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করা যায় না, এবং অতীতের আলোচনাগুলো কৌশলগত প্রতারণার অংশ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর বিরোধিতা কিছুটা কমেছে, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তিটি শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদন পেয়েছে। যদিও এর মানে এই নয় যে দেশের ভেতরে পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাও ইরানকে আলোচনার পথে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘ যুদ্ধ, কঠোর নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেশটিকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন রাজনৈতিক স্লোগান নয় বরং দ্রব্যমূল্য, আয় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান সরাসরি অর্থ না পেলেও যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তবে তারা বিপুল অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তেহরান চুক্তিটিকে 'নির্ভরতা' নয় বরং পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। তবে আলোচনা এখনও অনেক জটিল বিষয় রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা, যাচাই প্রক্রিয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত এবং আঞ্চলিক ইস্যু- এসব কিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের পরিস্থিতি, গাজা-সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান- সব মিলিয়ে এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়ে গেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই- এই সমঝোতা কি সত্যিই একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়ে উঠবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি সাময়িক বিরতি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“মায়ানমারের সমুদ্রসীমায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


“মায়ানমারের সমুদ্রসীমায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান”

মায়ানমার সরকার চারটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এ আবিষ্কারের মধ্যে আয়েয়ারওয়াদি এবং তানিনথারি রিজার্ভের ব্লকগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় (এমওআই) সূত্রে জানা গেছে, নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিতভাবে আনুমানিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।

যদিও এমওআই নতুন ক্ষেত্রগুলোর নাম উল্লেখ করেনি, তবে তারা জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রটি তানিনথারির গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরও জানায়, নতুন আয়েয়ারওয়াদি গ্যাসক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে বিবিসি নিউজ বার্মিজ জানায়, তানিনথারি গ্যাসক্ষেত্রের এম১৫ ব্লকে আনুমানিক ৯৪ দশমিক ৬ টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মজুদ হতে পারে। গত সোমবার সরকারের ঘোষণায় সম্ভবত এম-১৫ ব্লকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্দামান সাগরে তানিনথারি অঞ্চলের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের পাশে ব্লকটির আয়তন ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি।

প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের শাসনামলে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান সিএফজি (কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ) এ ব্লকের অনুসন্ধান ও উন্নয়নের নিলামে জয়ী হয়েছিল। পরে তারা রাষ্ট্রায়ত্ত মায়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করে।

বিবিসি বার্মিজের প্রতিবেদনে সিএফজির ২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই প্রকল্প থেকে মায়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান রাজস্ব আসতে পারে। ওই প্রতিবেদনে সিএফজি তখনকার বাজারদর অনুযায়ী ব্লকটির গ্যাসের মজুদের মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল।

সিএফজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক সংনিং শেন। নতুন গ্যাস প্রকল্পটি সম্পর্কে তথ্যের জন্য ইরাবতী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং আয়েয়ারওয়াদি ও তানিনথারি অঞ্চলের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি।

গত বছর মায়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) এবং থাইল্যান্ডের গালফ পেট্রোলিয়াম মায়ানমার (জিপিএম) একটি উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি ছিল মায়ানমারের প্রথম নতুন অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের চুক্তি।

মত্তমা উপসাগরে অবস্থিত মিন ইয়ে থু প্রকল্প (ব্লক এম-১০) নিয়ে এই চুক্তি ২০২৫ সালের ৩০ মে নেপিডোতে স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি চালু হলে এটি মায়ানমারের সপ্তম বড় গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশের প্রধান গ্যাস প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াদানা, ইয়েতাগুন, জাওতিকা, শ্বে এবং আরো দুটি ছোট গ্যাসক্ষেত্র।

সরকার দাবি করছে, এই প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন এবং শিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। মায়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস প্রতিষ্ঠান এমওজিই দেশটির সামরিক সরকারের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। সামরিক বাহিনীকে অর্থায়নের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

থাইল্যান্ডভিত্তিক জিপিএম বর্তমানে ইয়েতাগুন গ্যাস প্রকল্প পরিচালনা করছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে মিন ইয়ে থু গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু করতে চাচ্ছে। তবে অধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মায়ানমারের দাবি, জিপিএমের মূল কম্পানি বিভিন্ন শেল কম্পানির মাধ্যমে সামরিক সরকারকে অর্থ সহায়তা করে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার ও নিরাপত্তা উদ্বেগে টোটাল এনার্জিস, শেভরন ও উডসাইডসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি মায়ানমার ছেড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%