০৬:৪৫ পি.এম
আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা করা হয়েছে। যেখান থেকে সাতটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলোর মধ্যে মোট আসামি ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হলেও ২৮৮ জন এখনো পলাতক রয়েছে।
ওই বিষয়টি রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ৮০টি মামলার মধ্যে ৭৩টির কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদের মধ্যে ২২টি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একটি মামলার আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশে বিভাগের ভিত্তিতে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। তবে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনমাফিক দেশে যেকোনো স্থানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করতে পারেন।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ইতোমধ্যে আপিল বিভাগ নিষ্পত্তি করেছে। ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগ ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে।
সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, গত ৯ এপ্রিল ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস হলো।
আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোর ফলে ঢাকার বাইরে অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় স্থাপন ও মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনি সেবা সম্প্রসারণের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সরকারি নির্ধারিত ফি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় অনেক দক্ষ আইনজীবী লিগ্যাল এইডের প্যানেলে যুক্ত হতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছেন। ভবিষ্যতে তা আরো যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন
আইনি সহায়তার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারি আইনি সহায়তার বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে।
তবে সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সঙ্গে বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয়ে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির কাঠামোগত পার্থক্য, সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।
এসব বাধা দূর করে একটি সমন্বিত এবং নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়তে সরকার কাজ করছে।
আরও পড়ুন: নেজামে ইসলাম পার্টির পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন