০৬:৪৬ পি.এম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ৭ মাস ধরে সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, উপজেলার প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
সরকারি এই চিকিৎসা কেন্দ্রে এসে অসহায় ও দরিদ্র মানুষেরা প্রতিদিন খালি হাতে ফিরছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে হতাশা এবং ক্ষোভের ছাপ। গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা সামান্য জ্বর-সর্দির ওষুধের জন্য এই সরকারি কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই এই অসহায় পরিবারগুলোর।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা সেফালী বেগম (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, বাইরে থেকে ওষুধ কেনার টাকা আমার নাই। আগে এই ক্লিনিকে আসলে সপ্তাহে দু-একদিন অল্প-স্বল্প ওষুধ পেতাম, তাতেই আমার রোগবালাই চলত। কিন্তু সাত-আট মাস ধরে এখানে কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার অভাবে দোকান থেকেও কিনতে পারছি না।’
এছাড়া দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (৪৫) নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘দিন খেটে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। আগে নিজের বা ছেলে মেয়েদের জ্বর, সর্দি, কাশি হলে এখান থেকে ফ্রিতে কিছু সাধারণ ওষুধ পেতাম। এখন সাত মাস ধরে সব বন্ধ। ওষুধ না পেয়ে আমাদের গরিব মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) অসহায়ত্ব জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ক্লিনিকে অসংখ্য অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশু সুচিকিৎসার আশায় আসেন। কিন্তু ওষুধ না থাকায় নিরুপায় হয়ে তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হয়। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে এই দৃশ্য দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক, কিন্তু ওপর থেকে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় আমাদের আসলে কিছুই করার নেই।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তীব্র সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সাল নাহিদ এই ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোই বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে কয়েক মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন, এটি সত্য। আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং গ্রামীণ মানুষ আবার পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন