জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৬:০৮ পি.এম
রাজবাড়ী পৌর শহরের লোকোশেড, বিনোদপুর, লক্ষীকোল এলাকায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে আর্জেটিনার জার্সি গায়ে একটি সাপোর্টারসহ পাঁচজনকে আটকের পর কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক, মোঃ আশিকুজ্জামান এবং মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাজবাড়ী পৌর শহরের বিনোদপুর লক্ষীকোল, লোকোশেড, বিনোদপুর এই এলাকাগুলির মাদক বিরোধী মোবাইল কোর্ট অভিযান চলাকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সজ্জনকান্দা এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মোঃ আবিদ হোসেন রাতুল (২৬), বার্থা গ্রামের লোকমান সরদারের ছেলে মোঃ মনির রায়হান (১৯), ভবানীপুর গ্রামের মাধব চন্দ সরকারের ছেলে সাধন সরকার (৩২), বার্থা গ্রামের রাশেদের ছেলে রিপাত (১৯), এবং সজ্জনকান্দা এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে জাহিদুল হাসান হিমেল (২৭) এর শরীর তল্লাশিকালে গাঁজা সহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সালের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আসামীদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ বলেন, অভিযান চালিয়ে ৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। তাদেরকে রাজবাড়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশা কেনার জন্য নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ এড়াতে পরিকল্পনা করে আর ঋণের দলিল (স্ট্যাম্প) হাতিয়ে নিতে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান। এরআগে ঘটনার দিন, শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছরের শিশু পিয়াস বড়ুয়া আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ট্রিপল নাইন থেকে খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের বারান্দা এবং কক্ষ থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্তের পর পাওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়দের দেওয়া সূত্রের ভিত্তিতে রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে পটিয়া এলাকা থেকে রিমন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিমন হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা কেনার জন্য নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল রিমন। এ টাকা সুদসহ কিস্তিতে পরিশোধের জন্য একটি লিখিত স্ট্যাম্প ছিল। কিন্তু নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ঋণের দায় থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই স্ট্যাম্প উদ্ধার করার জন্য রিমন ঘটনার রাতে বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিল।
একপর্যায়ে যখন এনি বড়ুয়া ঘরের পেছনের দরজা খুলে বাইরে বের হন, তখন তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তি এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গিয়েই অভিযুক্ত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি বাড়ির পেছনের খালে ফেলে দেয়।’
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ খাল থেকে ছুরি এবং পটিয়ার একটি পুকুর থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। তদন্তে এ পর্যন্ত অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। ধার-দেনা এবং পারিবারিক বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, সমৃদ্ধ কৃষক” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের জিয়ানগর শাখার উদ্যোগে কৃষকের মাঝে একটি পাওয়ার টিলার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার বিকালে জিয়ানগর ব্র্যাক সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাক শাখা ব্যবস্থাপক অহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনিরুজ্জামান। ব্র্যাক মাইক্রোফিন্যান্স (দাবি) কর্মসূচির সৌজন্যে প্রধান অতিথি কৃষক মো. খলিলুর রহমানের হাতে পাওয়ার টিলারের চাবি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু মুসা আসয়ারী, জেলা প্রতিনিধি মো. জাহিদুল ইসলাম, এরিয়া ম্যানেজার উজ্জল কুমার হাজরা এবং এক্সটেনশন অফিসার ইমদাদুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) কর্মকর্তা হাফিজা খাতুন।
কৃষক মো. খলিলুর রহমান তার অনুভূতিতে জানান, “এই সহায়তা আমার কৃষিকাজকে আরও সহজ করবে। আমি নিজে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য কৃষকদেরও সেবা দিতে চাই।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি বিরল এবং প্রাণঘাতী সিস্টিক ফাইব্রোসিস (সিএফ) রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ শুরু করেছে।
২০২৬ সালের ১৫ জুন, বিকাল ৬টায় রাজধানীর টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সাউথ আফ্রিকাসহ ছয়টি দেশের রোগী ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ওষুধটি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘রাইট টু ব্রিদ’-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেক্সিমকো ফার্মা ‘ট্রিকো’ (TRIKO) নামে ইলেক্সাক্যাফটর, টেজাক্যাফটর এবং আইভাক্যাফটরের সমন্বয়ে তৈরি একটি ওষুধ বাজারে এনেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভার্টেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস (Vertex Pharmaceuticals)-এর উদ্ভাবিত ‘ট্রিকাফটা’ (Trikafta)-এর জেনেরিক সংস্করণ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জীবনরক্ষাকারী অত্যন্ত ব্যায়বহুল এ ওষুধটি বিশ্বের হাজার হাজার সিস্টিক ফাইব্রোসিস রোগীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাবে।
সিস্টিক ফাইব্রোসিস রোগে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের একটি জোটের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ওয়াশিংটনের সিয়াটলে অনুষ্ঠিত নর্থ আমেরিকান সিস্টিক ফাইব্রোসিস কনফারেন্সে (এনএসিএফসি) এই উদ্যোগটি সর্বসমক্ষে ঘোষণা করা হয়েছিল। আজকের অনুষ্ঠানটি বেক্সিমকো ফার্মা কর্তৃক সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ।
সিস্টিক ফাইব্রোসিস একটি বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী বংশগত রোগ। এতে ফুসফুস এবং পরিপাকতন্ত্রে ঘন শ্লেষ্মা জমে গিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। এখনও পর্যন্ত, এই রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীর অল্প বয়সে মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে, বিশ্বে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, আরও প্রায় ৮০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়নি, যাদের ৮২ শতাংশই নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করে।
ট্রিকাফটা সিস্টিক ফাইব্রোসিস চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং রোগীদের আয়ু বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধটির মাধ্যমে বার্ষিক চিকিৎসা ব্যয় ৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার হওয়ায়, অধিকাংশ রোগীর জন্য এটি নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এমনকি পেটেন্ট সুরক্ষার কারণে এখন পর্যন্ত এর কোনো জেনেরিক সংস্করণ নেই।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস (TRIPS) চুক্তির অধীনে, বাংলাদেশসহ এলডিসিভুক্ত দেশগুলো ওষুধের পেটেন্ট সুরক্ষা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পায়। এর ফলে, বেক্সিমকো ফার্মা আইনগতভাবে পেটেন্টধারী যে কোনো ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। সিস্টিক ফাইব্রোসিসের এই সাশ্রয়ী চিকিৎসা উদ্যোগও সেই সুযোগের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বেক্সিমকো ফার্মার জেনেরিক সংস্করণ ট্রিকোর বার্ষিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২ হাজার ৭৫০ ডলার এবং শিশুদের জন্য ৬ হাজার ৩৭৫ ডলার, যা মূল ওষুধের যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ কম। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ব্র্যান্ডেড ওষুধে একজন শিশুর চিকিৎসার খরচে ট্রিকোর মাধ্যমে ৫৮ জন শিশুর চিকিৎসা সম্ভব।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি ‘বেক্সডেকো’ (BEXDECO) নামে আইভাক্যাফটরের জেনেরিক সংস্করণও বাজারে এনেছে। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ট্যাবলেট ৫ ডলার।
প্রাথমিক পর্যায়ে ‘সিএফ বায়ার্স ক্লাব’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট রোগীদের কাছে ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এবং পরবর্তীতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীদের কাছে এ চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘রাইট টু ব্রিদ’ গ্লোবাল ক্যাম্পেইনের নেত্রী, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক রোগী অধিকারকর্মী এবং সিস্টিক ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত এক শিশুর মা গেইল প্লেজার বলেন, ‘জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান যুগান্তকারী ওষুধগুলো বিশ্বের অধিকাংশ সিএফ রোগীর নাগালের বাইরে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোগী ও অধিকার সংগঠনগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেক্সিমকো ফার্মা প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।’
বেক্সিমকো ফার্মার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) রাব্বুর রেজা বলেন, ‘বেক্সিমকো ফার্মা সবসময়ই রোগীদের অপূর্ণ চিকিৎসা চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে, বিশেষ করে যেসব রোগের ক্ষেত্রে কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এই অর্থবহ উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। আমাদের বিশ্বাস, এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহজলভ্য হওয়ায় সিস্টিক ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত হাজারো রোগীর জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যারা এতদিন উচ্চ চিকিৎসা ব্যায়ের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রোয়েশিয়ায় শতাধিক আরোহী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ক্যাটামারান (বহু-হালবিশিষ্ট জলযান) এবং একটি পালতোলা নৌকার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার এক বন্দরের কর্মকর্তার বক্তব্যে এ তথ্য জানতে পারা গেছে।
ক্রোয়েশিয়ার ব্রাচ ও শোলতা দ্বীপের মধ্যবর্তী মধ্য অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে রোববারের ওই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ থাকা চেক নাগরিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান স্প্লিট বন্দরের প্রধান ঝেলকো কুস্তেরা।
জাগরেব থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে, ওই নিখোঁজ ব্যক্তি দুর্ঘটনার সময় ফরাসি পতাকাবাহী পালতোলা নৌকাটিতে উপস্থিত আট চেক নাগরিকের একজন ছিলেন। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই তিন জন মারা যান। অপর চার জনকে সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কুস্তেরা বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডুবুরি দল ৫০ মিটারেরও বেশি গভীরে ডুবে যাওয়া পালতোলা নৌকাটি শনাক্ত করে। আমরা যাকে খুঁজছিলাম, তিনি নৌকার কেবিনে ছিলেন।’
তিনি আরো জানান, নৌকাটি এবং লাশ উদ্ধারের অভিযান কবে শুরু হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ, জাহাজটি যে গভীরতায় ডুবে গেছে, সেখানে উদ্ধারের অভিযান অত্যন্ত জটিল।
তিনি আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম এন-ওয়ানকে বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
স্প্লিট হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় তিন চেক নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন। আরেকজন মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত নিয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বেসরকারি একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ক্যাটামারানটিতে ১১৮ জন যাত্রী এবং সাত জন ক্রু উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাটামারানটির কোনো আরোহী আহত হননি বলে জানা গেছে।
ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় বিমান, নৌ ও রেল দুর্ঘটনা তদন্ত দপ্তর জানিয়েছে, তারা এ দুর্ঘটনার বিষয়ে ফ্রান্স ও চেক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। তবে সোমবার পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ এবং চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ রোববার মৃতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ