ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা


বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরের অভয়নগরে দুই সার ব্যবসায়ীকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে মরিচা ও শুভরাড়া বালুরঘাট বাজারে এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনাকরী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার মো. খায়রুজ্জামান জানান, সরকারি টিএসপি সার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মরিচা বাজারে মেসার্স মাসুদ-মামুন ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মোল্যাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, একই অপরাধে শুভরাড়া ইউনিয়নের শুভরাড়া বালুরঘাট বাজারে মেসার্স ভাই ভাই কৃষি স্টোরের মালিক রিয়াজ উদ্দীনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ২৭ মামলার আসামি পিয়াল আহম্মেদ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ছয় ধরনের অস্ত্র

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানিয়েছেন, এক হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা (৫০ কেজি) সরকারি টিএসপি সার কৃষকের কাছে দুই হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুইটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু কালের কণ্ঠকে জানান, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দুইজন সার ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে মহাষষ্ঠীতে শুরু হল ১,৯৪৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাটারা থেকে ছয় হাজার সিমকার্ডসহ প্রতারক চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


ভাটারা থেকে ছয় হাজার সিমকার্ডসহ প্রতারক চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর একটি আবাসিক ভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)।

গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল ভাটারা থানাধীন একটি ছয় তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

ডিবি জানিয়েছে, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।

ডিবির দাবি, ঝর্না চাকমা জিয়ানা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দেন। তারা সেখানে অবস্থান করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে চাকরি, বিশেষ অফার কিংবা অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বার্তা পাঠাত। ওই বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ভুক্তভোগীরা প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন।

ডিবি জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করত। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে একাধিক সিম স্লট যুক্ত করে একই সঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করা হতো।

ফলে, প্রতারণার অভিযোগ এলেও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে ডিবি জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হাই সরকার পুনর্নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হাই সরকার পুনর্নির্বাচিত

ঢাকা ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুল হাই সরকার আগামী দুই বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

ব্যাংকের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর (এমকম) সম্পন্ন করার পর আব্দুল হাই সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায় যুক্ত হয়ে শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন।

তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, উদ্যোক্তাসুলভ চিন্তাভাবনা এবং নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠী পূর্বাণী গ্রুপ।

আব্দুল হাই সরকার হলেন ঢাকা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া, তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক পরিচালক এবং টানা চার মেয়াদে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অতিরিক্তভাবে, আব্দুল হাই সরকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের লিভারপুলভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টরও ছিলেন।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি, আব্দুল হাই সরকার সামাজিক কল্যাণ ও কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করেছে।

এই ছাড়াও, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ‘কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি)’ মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আব্দুল হাই সরকারকে ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। আশা করা হচ্ছে, তার অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকটি ভবিষ্যতে সুশাসন, উৎকর্ষ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ জন নিয়েও জয়, বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রাখল নাইজেরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


১০ জন নিয়েও জয়, বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রাখল নাইজেরিয়া

মেয়েদের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (ওয়াফকন) আসরে নাইজেরিয়া সফলতম দল হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালাউইয়ে কাছে অপ্রত্যাশিত হারে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা।

ফলে, টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়া।

তবে, দ্বিতীয় ম্যাচে, দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেললেও, জাম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নাইজেরিয়া। এই জয়ে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে তারা।

মরক্কোয় চলমান ওয়াফকন আসরটি ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টের চার সেমিফাইনালিস্ট সরাসরি ব্রাজিলে আগামী বছর বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করবে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া দলগুলো আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলার সুযোগ পাবে।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে অভিষিক্ত মালাউইয়ের কাছে ৩-২ গোলে হেরে চাপে পড়ে গিয়েছিল নাইজেরিয়া। তাই ‘সি’ গ্রুপে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই ছিল।

রাবাতের আল মদিনা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় নাইজেরিয়া। ফরোয়ার্ড আসিসাত ওশোয়ালার প্রথম শট জাম্বিয়ার গোলরক্ষক হ্যাজেল নালি ঠেকালেও, ফিরতি বল তার ডান ঊরুতে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।

তবে, প্রথমার্ধের শেষদিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে নাইজেরিয়া। ৪০ মিনিটে সেন্টার-ব্যাক ব্লেসিং ডেমেহিন জাম্বিয়ার তারকা স্ট্রাইকার বারব্রা বান্দাকে ফাউল করায় রেফারি জোসফিন ওয়ানজিকু প্রথমে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন। পরে ভিডিও অ্যাসিট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সেটি লাল কার্ডে পরিবর্তন করা হয়।

রেফারির মতে, ডেমেহিন ছিলেন সর্বশেষ ডিফেন্ডার। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায়, নাইজেরিয়ার রোফিয়াত ইমুরান তখনো বল কাভার দেওয়ার অবস্থানে ছিলেন।

একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি জাম্বিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে র‌্যাচেল কুন্দানানজির দূরপাল্লার ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক চিয়ামাকা নানাদোজি। যোগ করা সময়ের গভীরে গ্রেস চান্দার ভলিও বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নাইজেরিয়া।

এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের দুইয়ে উঠে এসেছে নাইজেরিয়া। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে চমক দেখানো মালাউই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বুধবার মিসরের মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়া। একই দিনে মালাউইয়ের বিপক্ষে খেলবে জাম্বিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের মোজাইক ডিফেন্সের মত সিস্টেম জরুরী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের মোজাইক ডিফেন্সের মত সিস্টেম জরুরী?

বিশ্বের সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ পাঁচ মাসের যুদ্ধেও ইরানের সামরিক সক্ষমতার সামান্য কোন কমতি কিংবা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়নি বরং যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে তাদের শক্তিশালী অবস্থান আরো শক্তিশালী অবস্থার জানান দিচ্ছে। এর একমাত্র কৌশল হচ্ছে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অত্যাধুনিক সামরিক শিল্পকারখানা তৈরি এবং তা নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত না করে গোটা রাষ্ট্রেই ছড়িয়ে রাখা। এক সপ্তাহে ইরান ধ্বংসের লক্ষ্যে  যুদ্ধে নামা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দেয়া কৌশলই হচ্ছে ইরানের মোজাইক ডিফেন্স সিস্টেম। যা বিশ্ব পরাশক্তির সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধেও পাঁচ মাসের যুদ্ধের পরেও একই শক্তিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক অপরাজিত চ্যালেঞ্জের নাম।

কারণ কি? কারণ একটাই, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরাকের শক্তিশালী নেতা সাদ্দাম হোসেনের শাসনকে মাত্র ২৬ দিনের মাথায় ধ্বংস করে ইরাককে পরাস্ত হতে দেখেছিল। এটি দেখেই ইরান শিক্ষা নিয়েছিল যে, একটি রাষ্ট্রের শক্তিশালী সরকারও কিভাবে শত্রুর হামলায় পরাস্ত হয়। ফলে তারা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক কাঠামোতে নতুন সিস্টেম চালু করে। যেখানে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সামরিক শক্তিকে দেশের বিশেষ কোন স্থান বা কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্টসহ ব্যবহৃত যাবতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও দেশপ্রেমিক বাহিনীর সক্ষমতাকে গোটা দেশে ছড়িয়ে রাখা। ইরান প্রত্যেক অঞ্চলে তাদের সামরিক সক্ষমতা কে আলাদা আলাদা করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কমান্ডারদের হাতে যুদ্ধের ভার ছেড়ে দিয়েছে এবং সেখানেও চার স্তরীয় কমান্ড ব্যবস্থা তৈরি করেছে। যাতে শীর্ষ পর্যায়ের কারো মৃত্যু কিংবা ক্ষতি হলে তার পরের স্তর থেকে কমান্ডের দায়িত্ব ধারাবাহিকভাবে অন্যরা নিতে পারে। এই কৌশলই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত বিশ্ব পরাশক্তিকে দীর্ঘ পাঁচ মাসের যুদ্ধে নাকানি চুবানি খাইয়ে ছাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, ইরান এমন প্রতিরোধ বলয় তৈরি করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে যাতে করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ব পরাশক্তির সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে শত্রুর হুমকি মোকাবেলায় দেশের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত যাতে তা দেখে শত্রুরা শ্যেন দৃষ্টিতে তাকাতেও শতবার ভয় পায়। বিশ্বের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কি করবে? তার আগাম প্রস্তুতি নেয়া এখনই জরুরি নয় কি।

কারণ, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান, রাজনৈতিক এমনকি ভূ কৌশলগত পরিস্থিতির কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে। তাই ইরানের অনুকরণে একই রকম দেশ প্রেমিক ও পরীক্ষিত, শত্রু রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা যারা কখনোই প্রভাবিত হয়নি এমন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্তা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে ৫ স্তরীও মোজাইক ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী।

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—শুধু বড় অস্ত্রভাণ্ডার নয়, দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকে সেই রাষ্ট্র, যে যুদ্ধের আগেই নিজের প্রতিরক্ষাকে এমনভাবে সাজিয়ে রাখে যাতে শত্রু আঘাত করলেও রাষ্ট্র ভেঙে না পড়ে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় নির্ধারণ করে কেবল ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়; নির্ধারণ করে একটি দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা, বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের কথিত "মোজাইক ডিফেন্স" কৌশল আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই ধারণার মূল কথা হলো—রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাকে এমনভাবে বিকেন্দ্রীভূত করা, যাতে একটি বা কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস হলেও পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে না যায়। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি বিশাল দুর্গ নয়, বরং অসংখ্য ছোট ছোট অথচ শক্তিশালী ইটের সমষ্টির মতো দূর্গে পরিণত করা।

বাংলাদেশের জন্য এই ধারণা কেবল একটি বিদেশি সামরিক তত্ত্ব নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চিন্তার বিষয়। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের বাস্তবতায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনাও সময়োপযোগী হওয়া জরুরি।

আজকের যুদ্ধ আর শুধু সীমান্তে হয় না। সাইবার আক্রমণ, ড্রোন, দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার—এসবই যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে যদি একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘাঁটি বা কেন্দ্রীয় অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়, তাহলে প্রথম আঘাতেই বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ কারণেই বাংলাদেশের উচিত এমন একটি প্রতিরক্ষা দর্শনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বাজেট দেয়া এবং ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ম্যানপ্যাড, অত্যাধুনিক ও পরীক্ষিত ফোর পয়েন্ট ফাইভ জেনারেশনের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়াক্রাফট সহ যাবতীয় সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাস্তবায়ন, সংক্রান্ত আলোচনা বা চুক্তিগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটানো। 

 
 যেখানে বিকেন্দ্রীকৃত কমান্ড, শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা, দ্রুত পুনর্গঠন সক্ষমতা এবং দুর্যোগ-সহনশীল প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সমন্বিতভাবে গড়ে তোলা হবে। এটি কোনো আক্রমণাত্মক নীতি নয়; বরং একটি প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা কৌশল-এতে সহযোগী ও নির্ভরশীল মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং যুদ্ধ জয়ে পরিক্ষিত রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পরামর্শ কিংবা লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে হলেও এমন যুদ্ধ সক্ষমতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে রাষ্ট্র সময়ের পরিবর্তন বুঝতে ব্যর্থ হয়, সে রাষ্ট্রের মূল্য দিতে হয় অনেক বেশি। তাই বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনাও আগামী দশকের চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। প্রতিরক্ষা কেবল সেনাবাহিনীর বিষয় নয়; এটি অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শিল্প, যোগাযোগ, জ্বালানি, তথ্যব্যবস্থা এবং জাতীয় সক্ষমতার সমন্বিত রূপ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি নীতি চিরকাল সত্য—যুদ্ধের প্রস্তুতি যত শক্তিশালী, যুদ্ধের সম্ভাবনা তত কম। কারণ শক্তিশালী প্রতিরোধক্ষমতা সম্ভাব্য আগ্রাসনকে নিরুৎসাহিত করে।

বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, কিন্তু শান্তি টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি অপরিহার্য। তাই সময় এসেছে ভবিষ্যৎমুখী, বিকেন্দ্রীভূত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্থিতিস্থাপক প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গভীর আলোচনা শুরু করার। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার মৌলিক শর্ত।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%