ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইয়েমেনে যাত্রীবাহী বিমানের দিকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


ইয়েমেনে যাত্রীবাহী বিমানের দিকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরীতে, কায়রোগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে বিদ্রোহী হুতিরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি এই তথ্য প্রদান করেন।

তিনি জানান, ৬১২ নম্বর ফ্লাইটটি কায়রোর উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দরের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার: মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান

আল-ইরিয়ানি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এবং রানওয়ের মাঝামাঝি অংশ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আঘাত হানে। এই ঘটনার ফলে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি এ হামলাকে ‘শুধু একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা নয়, বরং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের জীবন, আকাশপথে চলাচলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে, হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-মিসরাখ জেলার ধি আল-বারিহ ও জাবা এলাকায় হুতি অবস্থানে দুটি বিমান হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে, যা তাইজ সামরিক কমান্ডের এক ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন জোট বাহিনী প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা, নাবিকরা নিরাপদ

এ ছাড়া, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিক লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার। তবে হতাহতদের পরিচয় জানানো হয়নি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার যেসব এলাকায় ১৭ অক্টোবর মার্কেট বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ এম


ঢাকার যেসব এলাকায় ১৭ অক্টোবর মার্কেট বন্ধ থাকবে

ঢাকাতে প্রতিদিন কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, যেকোনো মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) তারিখে দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল এবং দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

নয়াবাজার, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, আজিমপুর সুপার মার্কেট, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার এবং শরিফ ম্যানশন।

বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট

শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, ধোলাইপাড়, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ এবং শাঁখারী বাজার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ এম


দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস

বাংলাদেশের প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে বসবাস করছে। অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো ধাক্কায় তাদের আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপের কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর দারিদ্র্য ও সমতা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শ্লথগতি, দুর্বল শ্রমবাজার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছরের বিশেষ প্রতিপাদ্য হলো ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল’। বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য থেকে মানুষকে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের অর্জিত জীবনমান ধরে রাখা এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাতীয় উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৬ শতাংশে। এই সময়ে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য কমার গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭ শতাংশ। জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ ব্যয়, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগ ও রপ্তানির মন্থরতা শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন মন্তব্য করেন, আয় সীমিত অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিসাব করতে হয়। একপর্যায়ে খাবার, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার খরচ কমাতে বাধ্য হয় তারা। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে কম দামের শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়লে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততায় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার নতুন করে সংকটে পড়ছে। নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি এসব এলাকায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করা জরুরি। অসুস্থতা, কর্মহীনতা কিংবা দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো গেলে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর আবার দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানিসম্পদমন্ত্রী: দেশকে অচল করতে চাওয়া দলের সঙ্গী বিরোধীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ এম


পানিসম্পদমন্ত্রী: দেশকে অচল করতে চাওয়া দলের সঙ্গী বিরোধীরা

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, "যারা একসময় হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে দেশকে অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল, আজকের বিরোধী দল তাদেরই সঙ্গী।"

তিনি শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাঁখারীপাড়ায় ত্রিনয়নী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার শুভ সূচনা উপলক্ষে এই কথা বলেন।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, "একসময় ১৭১ দিন, ৭২ দিন, ৭৩ দিন হরতাল হয়েছিল। যারা তখন বলেছিল, শান্তিতে থাকতে দেব না, দেশকে অচল করে দেওয়া হবে, আজকের বিরোধী দল তাদেরই সঙ্গী। আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ রাজনৈতিক যুদ্ধ শেষ করেছি, কিন্তু জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের শান্তি, সম্প্রীতি এবং নাগরিক সুবিধা আদায় করে নিয়ে সম্মানের সাথে মিলেমিশে থাকার অঙ্গীকার করতে হবে।"

তিনি যোগ করেন, "সরকারি দলের সদস্য হিসেবে আমাদের যেমন নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনি বিরোধী দলের সদস্যদেরও নৈতিক দায়িত্ব আছে। শপথ নেওয়ার দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছে, সেটাও ভাবার বিষয়। তাহলে আজকে কেন লং মার্চ করতে হবে? কেন রোড মার্চ প্রয়োজন?"

লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক ও পৌর মহাশ্মশান ঘাট সংসদের সভাপতি সম্রাট খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, ত্রিনয়নী পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মানিক সাহা ও সভাপতি বিনয় ভূষণ মজুমদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফজরের আগে-পরে বরকত লাভের জন্য করণীয় আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ এম


ফজরের আগে-পরে বরকত লাভের জন্য করণীয় আমল

মুমিনদের জন্য একটি অভ্যাস হলো শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে যাওয়া। যদি সম্ভব হয়, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া উচিত। যদি তাহাজ্জুদ না পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত ফজরের আজানের সাথে সাথে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া উচিত। এরপর এ দোয়াটি পড়া উচিত-

الْـحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

উচ্চারণ : ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’

অর্থ : সেই আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুরুত্থান। (বুখারি, হাদিস : ৬৩১৪)

এরপর ইস্তিঞ্জা করা আবশ্যক। পেশাব-পায়খানার পর পবিত্রতা অর্জনকে ‘ইস্তিঞ্জা’ বলা হয়। পেশাব-পায়খানার জন্য নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার আগে নিম্নের দোয়াটি পড়া উত্তম,

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

পায়খানা বা ইস্তিঞ্জার পর ডান পা আগে দিয়ে বের হয়ে নিম্নের দোয়াটি পড়া উত্তম,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي

উচ্চারণ : ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া ফানি।’

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন।

মুখ পরিষ্কার করা : ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে, নামাজের আগে, কোনো মজলিসে যাওয়ার আগে এবং কোরআন-হাদিস পাঠ করার আগে মিসওয়াক বা ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার করা মুস্তাহাব। (মারাকিল ফালাহ : ৫৩)

অজু করা : অজুকে নামাজের চাবি বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নামাজের চাবি পবিত্রতা।’ (আবু দাউদ : ৬১)

তাহলে অজুর ফরজ, সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদির প্রতি ভালোভাবে খেয়াল রেখে অজু সম্পন্ন করা উচিত।

ফজরের নামাজ পড়া : প্রথমে দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় করা। এরপর ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা। যদি কোনো কারণে ফরজের আগে সুন্নত পড়তে না পারেন, তাহলে সূর্য উদিত হওয়ার পর পড়ে নেবেন। ফরজ নামাজ বা জামাতের পরপরই এ সুন্নতের জন্য দাঁড়ানো যাবে না। (দুররুল মুখতার : ২/৫৭)

আর সূর্যোদয় অবস্থায় নামাজের জন্য দাঁড়ানো যাবে না, বরং সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর নামাজে দাঁড়াতে হবে। ফজর নামাজ পড়া অবস্থায় সূর্য উঠে গেলে সেই নামাজ সূর্যোদয়ের পর কাজা পড়ে নিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩২-৩৩)

ফজরের নামাজের পর করণীয়

ফজরের পর পড়ার জন্য ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে। যেগুলো পড়ে মুমিন বান্দা বিভিন্ন ধরনের উপকার লাভ করতে পারে। নিম্নে কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. আয়াতুল কুরসি পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ২৩৯৫)

২. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দোয়া : যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার নিম্নের দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৯)

দোয়াটি হলো,

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

উচ্চারণ : ‘রাজিতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।’

অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

৩. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার : যদি কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়ে এবং ওই দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, তবে সে জান্নাতি হবে। (বুখারি : ৬৩০৬)

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া : যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৯)

দোয়াটি হলো,

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।

৫. পেরেশানি থেকে মুক্তির দোয়া : যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা নিম্নের আয়াতটি সাতবার পাঠ করবে তাকে সব পেরেশানি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮১)

আয়াতটি হলো,

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ : ‘হাসবি ইয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’

অর্থ : আমার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁর ওপর ভরসা করলাম। আর তিনিই মহান আরশের অধিপতি।

৬. মুসিবত থেকে হেফাজতের দোয়া : নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিন ও রাতের শুরুতে তিনবার নিম্নের দোয়াটি পড়বে, ওই দিন ও রাতে কোনো অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করবে না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৪৭৪)

দোয়াটি হলো,

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুং ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।’

অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামে শুরু করলে আসমান-জমিনের কোনো বস্তু ক্ষতি সাধন করতে পারে না। আর তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

৭. সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্ট থেকে হেফাজতের দোয়া : যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা নিম্নের দোয়াটি তিনবার পাঠ করবে, সে সব কষ্টদায়ক প্রাণী থেকে হেফাজতে থাকবে। (মুসলিম : ২৭০৯)

দোয়াটি হলো,

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’

অর্থ : আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের দ্বারা সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

এ ছাড়া সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস তিনবার, সুরা ফালাক তিনবার এবং সুরা নাস তিনবার পাঠ করা সুন্নত।

৮. সুরা ইয়াসিন পড়া : হাদিসে সুরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। প্রতিদিন সকালে আমরা সুরা ইয়াসিন পড়তে পারি।

সূর্যোদয়ের পর মুমিনের করণীয়

সূর্যোদয়ের ২৩-২৪ মিনিট অতিবাহিত হলে ইশরাকের নামাজ পড়া সুন্নত। ইশরাকের নামাজ দুই বা চার রাকাত। এর নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতোই। এ নামাজ পড়ার দ্বারা পূর্ণ একটি হজ ও ওমরাহ পালনের সওয়াব পাওয়া যায়। সব সগিরা গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এর নিয়ত এমন : নবীর সুন্নত দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ পড়ছি, আল্লাহু আকবার।

ইশরাকের পর করণীয়

১. ইশরাক নামাজ পড়ে নাশতা করা : জীবন-জীবিকার তাগিদে যার যার দুনিয়াবি কাজে নেমে পড়া। দায়িত্ব পালনে যত্নবান হওয়া। কাজে ফাঁকি না দেওয়া। যার যার কাজে ইসলামী বিধান খেয়াল রাখা। হতে পারে তা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি কিংবা অন্য যেকোনো পেশার কাজ। তবেই সবার কাজ ইবাদতে পরিণত হবে।

২. ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া পড়া : যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিম্নের দোয়াটি পড়ে, তবে সে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে হেফাজতে থাকে, শয়তানের ধোঁকা থেকে দূরে থাকে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)

দোয়াটি হলো,

بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।’

অর্থ : আল্লাহর নামে, আল্লাহ তাআলার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই, শক্তিও নেই।

৩. চাশতের নামাজ পড়া : কাজের কোনো ফাঁকে সম্ভব হলে চাশতের নামাজ পড়ে নেওয়া। চাশতের নামাজ দুই বা চার রাকাত, চার রাকাত পড়াই উত্তম। এর নিয়মও সাধারণ নফল নামাজের মতো। সূর্য এক-চতুর্থাংশ ওপরে উঠলে, গ্রীষ্মকালে ৯টা-১০টা, আর শীতকালে ১০টা-১১টা সময় সাধারণত তা আদায় করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, যা আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কখনো ছাড়ব না। তার একটি হলো চাশতের নামাজ। (বুখারি, হাদিস : ১১৭৮)

এর নিয়ত হলো নবীর সুন্নত দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়ছি, আল্লাহু আকবার।

৪. প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা : প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কেননা কোরআন কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮০৪)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%