বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ পি.এম
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, হাওর ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতা বাড়ছে।
ফলে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে আগাম প্রস্তুতি, পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রম এবং জীবিকার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘হাওর বেসিন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক পারিবারিক অর্থনীতি বিশ্লেষণ (হাউজহোল্ড ইকোনমি অ্যানালাইসিস-এইচইএ) প্রতিবেদন’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ), এফএও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংগঠন, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনটিকে শুধুমাত্র একটি গবেষণা দলিল নয়, বরং এটি হচ্ছে ঝুঁকি ও বিপদাপন্নতা বোঝা, আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক একটি প্রমাণভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে ফেলেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। প্রতিবছর হাওর অঞ্চলের মানুষ আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধস, অতিবৃষ্টি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলের প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস দিনমজুরি হলেও তাদের খাদ্যের বড় অংশ বাজার থেকে কিনতে হয়। এ কারণে দুর্যোগের সময় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নারীর অর্থনৈতিক অবদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় অঞ্চলে অতি দরিদ্র পরিবারের মোট আয়ের প্রায় ৮ দশমিক ৬ থেকে ৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে।
তবে দুর্যোগের সময় এই আয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। তাই নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরো জানান, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা প্রায়ই বোরো ধান কাটার মৌসুমে আঘাত হানে, ফলে বছরের প্রধান ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। একইভাবে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও অতিবৃষ্টি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি বাজার ও সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়।
ভূমিমন্ত্রী জানান, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দখল ও দূষণ রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে দখল, ভরাট, দূষণ ও প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী, খাল, বিল, হাওর ও অন্যান্য জলমহাল কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো পরিবেশ ও লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এসব রক্ষায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ভূমিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এটি ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের ১৪৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কেএলআইএ এর মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের কুয়ালালামপুর থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১১১ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী এবং একজন শিশু নিযুক্ত রয়েছে।
দেশটির কেদাহ প্রদেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিক। এই তালিকায় চীনের ৩১ জন, বাংলাদেশের ১৮ জন, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার ৫ জন করে নাগরিক রয়েছেন। কেনিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও নেপালের ২ জন করে নাগরিকও রয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার একজন নাগরিককেও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে এর আগে বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক করে রাখা হয়েছিল।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটককৃতরা বৈধ পারমিট ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা সহ ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছিল। আইনি প্রক্রিয়া ও শাস্তি ভোগ করার পর তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সাথে, ভবিষ্যতে তারা যেন পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য তাদের সবাইকে ইমিগ্রেশন বিভাগের সিস্টেমে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে, চৌমুহনী বাজারের ডালিয়া মার্কেটের পঞ্চম তলায় হোটেল রাজে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
আটককৃত ১৪ জনের মধ্যে ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে, পুলিশ তাদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে পারেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আটক ৭ নারী ও ৭ পুরুষের মধ্যে কয়েকজন পেশাদার যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দেরও ছিলেন। এ ছাড়াও, অবৈধ সম্পর্কের কারণে আরও কিছু নারী-পুরুষ সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আটকদের মধ্যে এক নারী ও এক পুরুষ নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে এবং ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং কিছু পরকীয়া সম্পর্কের কারণে সেখানে অবস্থান করছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি প্রদান করছে।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জনকে এ ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।’
আজ জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে, গাইবান্ধা-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি যোগ করেছেন, এ তথ্য তিনি প্রদান করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে ২০২০ সালের এক হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদ রয়েছে, সেই হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে।
তিনি জানান, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়)’ বর্তমানে সারা দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের সময় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হবে।
ধর্মমন্ত্রী আরো জানান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট-এর অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’-এর ষষ্ঠ পর্যায় বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট-এর অধীনে এ ধরনের কোনো প্রকল্পCurrently নেই, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, এর মধ্যে ৩৪২টি মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও তরুণদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতা, ইমাম, খতিব, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও জঙ্গিবাদবিরোধী বার্তা প্রচার করছেন। এছাড়া মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, এ ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা এবং বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরো বলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বর্তমানে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি পুরোহিত ও মন্দির পরিচর্যাকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন-এর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকরা বর্তমানে মাসিক ৬ হাজার টাকা সম্মানি পাচ্ছেন। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে তা ধীরে ধীরে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হবে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৬ সালে সৌদি আরবে হজ পালনকারী বাংলাদেশির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার ৬০০ জন কমেছে। চলতি বছর মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৬৪ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন, আদালতের কার্যক্রম এবং জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে অনিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
তিনি জানান, গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ জমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে গত এক বছরে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি কতটুকু প্রকৃতপক্ষে উদ্ধার করা হয়েছে— এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক নারী, মনোয়ারা বেগম, আটক হয়েছেন ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় মূল আসামির বদলে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে যাবার সময়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ -৪ এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে প্রক্সি দিতে গিয়ে মনোয়ারা বেগম আটক হন।
শুনানির সময় আদালতে আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তিনি তাকে এজলাসে আটকের নির্দেশ দেন। এ সময় প্রক্সি দিতে আসা আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দ্রুত এজলাস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু গণমাধ্যমকে জানান যে, নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান। এরপর বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়ে নিশ্চিত হলে তিনি কোর্টের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে কোর্টের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতে প্রতারণার সাথে জড়িত মূল আসামি, প্রক্সি আসামি এবং আইনজীবীসহ সকলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আটক হওয়া মনোয়ারা বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ও অফিসে পরিষ্কারের কাজ করেন। এই মামলায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন তাকে নিয়ে আসেন। ঘটনার বিষয়টি বিচারকের নজরে আসার পর ওই আইনজীবী কৌশলে পালিয়ে যান।
মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়ার সময় আসামি নাসরিন শিকদারের আইনজীবী বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই, দেখতে হবে। পরে কল করে জানাচ্ছি।
এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নার মধ্যেই তিনি জানান, তিনি কিছু জানেন না, ঢাকার জজ কোর্টের আগর বাতি গলির এক আইনজীবী তাকে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, "আমার কোনো অপরাধ নেই, অপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন। তাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি বিভিন্ন আইনজীবীদের চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি; এতসব বুঝি না। যে স্যার (আইনজীবী) ডাকছে আমি এখানে এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি, এটা অপরাধ।"
তিনি অতিরিক্ত বলেন, "আল্লাহর দোহাই, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। আমি কিছু জানি না। আমার দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা আছে।"
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। আসামির সঙ্গে বাদীর পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় তিনি বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা দেন। এর পরিবর্তে গত বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে আসামি বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। পরে বাদী যখন সোনালী ব্যাংকে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দেন, সে সময় চেকটি ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ বলে ডিজঅনার হয়। এরপর তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনে ১৩৮ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ